ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

ধর্ষণের পরিসংখ্যান বাড়ার কারণ জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

২০২৬ জুন ৩০ ১৬:০৭:৪৯

ধর্ষণের পরিসংখ্যান বাড়ার কারণ জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে ধর্ষণের ঘটনা বা এ-সংক্রান্ত পরিসংখ্যান বৃদ্ধির পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, বর্তমানে বিচারপ্রার্থী নারী ও শিশুরা কোনো ধরনের সামাজিক বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই সহজে থানায় কিংবা অনলাইনে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও এফআইআর করতে পারছেন। অতীতের তুলনায় যেকোনো অপরাধের ঘটনা এখন সহজে নথিভুক্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় পরিসংখ্যানে ধর্ষণের সংখ্যা কিছুটা বেশি দেখা যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগামী অর্থবছরের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগে সামাজিক ও রাজনৈতিক নানা প্রতিবন্ধকতা এবং হস্তক্ষেপের কারণে ধর্ষণের শিকার নারীরা থানায় গিয়ে মামলা রেকর্ড করতে পারতেন না কিংবা করতেন না। বর্তমান সরকারের আমলে সেই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হয়েছে। এখন অপরাধের তথ্য গোপনের কোনো সুযোগ নেই। তাই ধর্ষণের সংখ্যা বৃদ্ধির চিত্রকে নেতিবাচকভাবে না দেখে অপরাধ নথিভুক্তকরণ এবং আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার প্রতিফলন হিসেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, দেশের যেখানেই নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে, পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। পাশাপাশি গত ১০ থেকে ১৫ বছরের অপরাধের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, খুন, ডাকাতিসহ অন্যান্য প্রায় সব ধরনের অপরাধের সূচকে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঐতিহাসিকভাবে অনেক উন্নত ও সুসংহত অবস্থানে রয়েছে।

এর আগে ছাঁটাই প্রস্তাবের পক্ষে বক্তব্য দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য ৩১ হাজার ৯৮ কোটি ৮৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

তিনি সংসদে বলেন, মার্চ ও এপ্রিল এই দুই মাসে সারা দেশে ৬০৫টি হত্যাকাণ্ড রেকর্ড হয়েছে। একই সময়ে ২৯৪টি ছিনতাই, ৯০টি ডাকাতি, ১৯৬টি অপহরণ, ২ হাজার ২১৪টি চুরির ঘটনা এবং পুলিশের ওপর ১২৯টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।

রুমিন ফারহানা আরও বলেন, দুই মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের ৩ হাজার ৪৯৬টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। সারা দেশে প্রতিদিন গড়ে ১০টির বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটছে। এমন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য ৩১ হাজার ৯৮ কোটি টাকার বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। কেউ কেউ আরও বেশি বরাদ্দের কথাও বলছেন। পুরো বাজেটই যদি এই মন্ত্রণালয়কে দেওয়া হয়, তবুও কতটা উন্নতি হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য সারা দেশ মুগ্ধ হয়ে শোনে। তিনি নিজেও একজন আইনের শিক্ষার্থী হিসেবে মন্ত্রীর বিতর্ক উপভোগ করেন। তবে সেই দক্ষতা যদি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমেও প্রতিফলিত হতো, তাহলে এই মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ এক টাকা কমানোর প্রস্তাব দেওয়ার প্রয়োজন হতো না।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত