ঢাকা, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩
তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর ঘিরে ভারতের কূটনৈতিক তৎপরতা
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে কেন্দ্র করে নয়াদিল্লিতে কূটনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। সফরের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে গত কয়েক দিনের একাধিক কূটনৈতিক তৎপরতায় এ সফরকে ভারত যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করে ঢাকায় ফিরেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদী। তাঁর এই বৈঠকের পর তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভারতের কূটনৈতিক সূত্রের খবর, তারেক রহমানের সফরের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত না হলেও আগস্টের শেষ সপ্তাহকে সামনে রেখে প্রস্তুতি চলছে। দুই দেশের সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরিই নয়াদিল্লির অন্যতম লক্ষ্য। তারেক রহমান দিল্লিতে গেলে সৌজন্য বৈঠকের পাশাপাশি একাধিক অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে সরাসরি আলোচনা করতে চায় ভারত।
ভারতের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপক্ষীয় রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ব্রিকসের বিশেষ অধিবেশনেও তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জায়সওয়াল জানিয়েছেন, সফর নিয়ে কোনো অগ্রগতি হলে তা জানানো হবে। তবে নয়াদিল্লির সাম্প্রতিক তৎপরতা দেখে কূটনৈতিক মহলের ধারণা, ভারত শুধু আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েই বসে নেই। তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফরকে দুই দেশের সম্পর্কে জমে থাকা দূরত্ব কমানোর একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে মোদি সরকার।
ভারতের পক্ষ থেকে গুরুত্ব দেওয়া বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ক্রিকেট সম্পর্ক স্বাভাবিক করা, জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানো, বাণিজ্যিক বিধিনিষেধের কিছু বিষয় পুনর্বিবেচনা এবং গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন। এসব বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখার বার্তা দিচ্ছে নয়াদিল্লি।
ভারতের এক শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তার বক্তব্যেও এ মনোভাবের প্রতিফলন রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, বাংলাদেশ যদি একটি যানবাহন চায়, ভারত প্রয়োজনে তার চেয়েও বেশি দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। অর্থাৎ ঢাকার চাহিদা অনুযায়ী সহযোগিতার পরিসর বাড়াতে নয়াদিল্লির আপত্তি নেই। তবে ভারতের অবস্থান হলো, কোনো শর্তের চাপে নয়, পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কূটনৈতিক মহলের মতে, এই আলোচনায় সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর একটি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ। এ প্রশ্নে নয়াদিল্লি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির পরিবর্তে আইনি প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য, প্রত্যর্পণসংক্রান্ত আইনি দিকগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তারেক রহমানের সফর ঘিরে জ্বালানি সহযোগিতাও নয়াদিল্লির কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ ভারতের কাছে পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও বেশি জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধ করেছে। এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান ইতিবাচক। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে ডিজেল সরবরাহের ব্যবস্থা চালু রয়েছে। বাড়তি জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধও বিবেচনা করা হচ্ছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, বাড়তি জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের চাহিদা, ভারতের পরিশোধন সক্ষমতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ জোগানের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর সূত্রেও ইঙ্গিত মিলেছে, তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরে বাংলাদেশের এই চাহিদাকে উদারভাবে বিবেচনা করা হতে পারে। ক্রিকেট সম্পর্ক নিয়েও দিল্লির আগ্রহ রয়েছে। রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কেও যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা কাটাতে ভারত আগ্রহী। বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের ভারতীয় ক্রিকেটের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ, দুই দেশের ক্রিকেটীয় যোগাযোগ এবং পারস্পরিক সফর নিয়ে তৈরি হওয়া অস্বস্তি দূর করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে।
নয়াদিল্লির কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তারেক রহমানের দিল্লি সফর সফল হলে শুধু রাজনৈতিক যোগাযোগ নয়, দুই দেশের অর্থনৈতিক ও জনসম্পর্কেও নতুন গতি আসতে পারে। মতপার্থক্য থাকলেও যোগাযোগের পথ খোলা রাখতে চায় ভারত। এ কারণেই তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে নয়াদিল্লি। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান অপরিবর্তিত রেখেও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতার পরিসর বাড়ানোর পথ খুঁজছে মোদি সরকার।
সব মিলিয়ে নয়াদিল্লির বার্তা হলো, বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ককে অতীতের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না ভারত। তারেক রহমান দিল্লিতে গেলে সম্পর্কের একাধিক জট খুলে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করা সম্ভব কি না, সেই সম্ভাবনাই এখন খতিয়ে দেখছে নয়াদিল্লি। সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষা থাকলেও সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা বলছে, তারেক রহমানকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতিতে ভারতের আগ্রহ রয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন বাস্তবতায় এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এ সফরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে মোদি সরকার।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের জুলাইয়ের বেতন ফাইল চূড়ান্ত
- এসএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষণে আবেদন করবেন যেভাবে
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৯ আগস্ট)
- দাখিল ও কারিগরি বোর্ডের ফল দেখবেন যেভাবে
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১০ আগস্ট)
- এসএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষণ নিয়ে যা জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
- একাদশে ভর্তি: আবেদন ও প্রক্রিয়া জানুন
- পরীক্ষায় ফেল বা খারাপ করার পর শিক্ষার্থীদের করণীয় কী
- ১৯তম নিবন্ধন থেকে শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশ করবে না এনটিআরসিএ
- নতুন নিয়মে এসএসসির খাতা চ্যালেঞ্জ করবেন যেভাবে
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব রঞ্জন কর্মকার আর নেই
- এসএসসিতে ফেলের হার ৩৭.৭৫ শতাংশ
- বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৪৮ পদে নিয়োগ, আবেদন শুরু ১১ আগস্ট
- পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটে ৪১ পদে নিয়োগ
- জবির ভর্তি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ, আবেদন নভেম্বরে