ঢাকা, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২

ধর্মীয় নেতাদের সম্মানি প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

২০২৬ মার্চ ১৪ ১১:৪১:০৫

ধর্মীয় নেতাদের সম্মানি প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ধর্মীয় নেতাদের জন্য সরকারি সম্মানি প্রদান কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেছে সরকার। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তিনি এ কার্যক্রমের সূচনা করেন। সরকার বলছে, এ উদ্যোগ ধর্মীয় সম্প্রীতি জোরদার এবং সমাজে নিরাপত্তা ও সহাবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার অংশ।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে দেশের ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের পাশাপাশি ৯৯০টি মন্দিরের পুরোহিত, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ এবং ৩৯৬টি গির্জার যাজকসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের এ সম্মানি দেওয়া হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, পাইলট প্রকল্প হিসেবে প্রতিটি মসজিদের জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ইমাম পাবেন ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার টাকা এবং খাদেম ২ হাজার টাকা।

একইভাবে প্রতিটি মন্দিরের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮ হাজার টাকা। সেখান থেকে পুরোহিত পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং সেবাইত ৩ হাজার টাকা।

বৌদ্ধবিহারের ক্ষেত্রেও একই পরিমাণ বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে। এখানে বিহার অধ্যক্ষ পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং উপাধ্যক্ষ পাবেন ৩ হাজার টাকা।

খ্রিস্টান চার্চের জন্যও ৮ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকবে। এ অর্থের মধ্যে পালক বা যাজক ৫ হাজার টাকা এবং সহকারী পালক বা যাজক ৩ হাজার টাকা করে পাবেন।

প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জাবিউল্লাহ জানান, ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে অতিরিক্ত বোনাসও দেওয়া হবে। মসজিদের দায়িত্বপ্রাপ্তরা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় বছরে দুইবার এক হাজার টাকা করে বোনাস পাবেন। অন্যদিকে দুর্গাপূজা, বৌদ্ধপূর্ণিমা বা বড়দিন উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় নেতাদের দুই হাজার টাকা করে বোনাস দেওয়া হবে।

তবে যেসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সরকারি বা দেশি-বিদেশি কোনো সংস্থার নিয়মিত অনুদান পায়, সেগুলো এই কর্মসূচির আওতায় থাকবে না বলেও জানান তিনি।

সরকারি হিসাবে চলতি অর্থবছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রায় ২৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয় হবে। পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে প্রতি অর্থবছরে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে চার বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে এ সম্মানি প্রদান করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে এ সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত