ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২

ভোজ্যতেলের বাজারে চরম অস্থিরতা, উধাও বোতলজাত তেল

২০২৬ মার্চ ১৩ ১৭:২২:২৪

ভোজ্যতেলের বাজারে চরম অস্থিরতা, উধাও বোতলজাত তেল

নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীর ভোজ্যতেলের বাজারে ভয়াবহ অস্থিরতা শুরু হয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার থেকে কার্যত ‘উধাও’ হয়ে গেছে বোতলজাত সয়াবিন তেল। এই কৃত্রিম সংকটের সুযোগ নিয়ে খুচরা বিক্রেতারা খোলা সয়াবিন তেল প্রতি কেজি ২২০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি করছেন, যা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অন্তত ২৫ টাকা বেশি।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাজধানীর মুগদা, খিলগাঁও, মতিঝিল ও মানিকনগরসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ মুদি দোকানে কোনো ব্র্যান্ডের বোতলজাত সয়াবিন তেল নেই। যেসব দোকানে অল্প কিছু মজুদ আছে, সেখানে লিটারপ্রতি নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি রাখা হচ্ছে। বিপরীতে বাজারে খোলা তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও দাম রাখা হচ্ছে আকাশচুম্বী।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে শুরু হয়েছে দোষারোপের পালা। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, কোম্পানিগুলো চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে ডিলাররা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধাবস্থার দোহাই দিয়ে কোম্পানিগুলো সরবরাহ সীমিত করেছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অনেক খুচরা বিক্রেতা বেশি লাভের আশায় বোতলজাত তেল মজুদ করে রেখে কৃত্রিম সংকট দেখাচ্ছেন এবং ভোক্তাদের খোলা তেল কিনতে বাধ্য করছেন।

সাধারণ মুদি দোকানে তেল না পেয়ে ভোক্তারা ভিড় করছেন চেইন সুপারশপগুলোতে। সেখানে নির্ধারিত দামে তেল পাওয়া গেলেও দেওয়া হয়েছে বিশেষ শর্ত। ‘স্বপ্ন’ ও ‘ডেইলি শপিং’-এর মতো আউটলেটগুলোতে জনপ্রতি এক লিটার বা সর্বোচ্চ দুই লিটারের বেশি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। অনেক আউটলেটে কয়েক দিন ধরে তেলের তাক শূন্য পড়ে থাকতেও দেখা গেছে।

গত ডিসেম্বরে নির্ধারিত সরকারি মূল্য অনুযায়ী, প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন তেলের দাম হওয়ার কথা সর্বোচ্চ ১৯৫ টাকা। অথচ মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে এই তেলের দাম ১৯৫-১৯৮ টাকা থেকে একলাফে ২২০ টাকায় পৌঁছেছে। ব্র্যান্ডের বোতলজাত তেলের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা; লিটারপ্রতি ২০৫ থেকে ২১০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। কোনো কোনো দোকানে বিকল্প হিসেবে ক্যানোলা অয়েল বিক্রির চেষ্টা দেখা গেলেও সেটির দামও সাধারণের নাগালের বাইরে।

ভোক্তাদের অভিযোগ, উৎসবের আগে তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো তদারকি না থাকায় সিন্ডিকেটগুলো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষ দ্রুত এই অরাজকতা বন্ধে সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত