ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২

পরাজয় মেনে নিয়ে ফেসবুক পোস্টে কী লিখলেন তাসনিম জারা?

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৩ ১৬:১৩:২৯

পরাজয় মেনে নিয়ে ফেসবুক পোস্টে কী লিখলেন তাসনিম জারা?

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা-৯ আসনে নির্বাচনে হেরে গেলেও রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা। ফলাফল মেনে নিয়ে তিনি বিজয়ী প্রার্থীকে অভিনন্দন জানান এবং নিজের সমর্থকদের উদ্দেশে ভবিষ্যৎ পথচলার ইঙ্গিত দেন।

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, তারা প্রথম হতে না পারলেও অসম্ভবকে সম্ভব করার মতো এক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। কয়েক সপ্তাহের প্রচারণায় ৪৪ হাজারের বেশি ভোটার এমন একটি রাজনীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, যেখানে ছিল না লাউডস্পিকার, পেশিশক্তি বা বিদ্বেষের চর্চা। সম্মান ও সততার রাজনীতিতে আস্থা রাখায় তিনি ভোটারদের ধন্যবাদ জানান।

জাতীয়ভাবে বিজয়ী দল বিএনপিকে অভিনন্দন জানিয়ে তাসনিম জারা বলেন, তিনি বিএনপির জাতীয় সাফল্যকে স্বাগত জানান। ঢাকা-৯ আসনের বিজয়ী প্রার্থী হাবিবুর রশীদ হাবিবকে ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন। জনকল্যাণমূলক কাজে সহযোগিতা এবং জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তে নীতিনিষ্ঠ বিরোধী অবস্থান নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণকে এবারের প্রচারণার বিশেষ দিক হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি ছিল নারীদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও স্বায়ত্তশাসনের সংগ্রাম। তরুণীদের উদ্দেশে তিনি বার্তা দেন ক্ষমতার কেন্দ্রেও তাদের জায়গা রয়েছে। এই প্রচারণা ভবিষ্যৎ নারী নেতৃত্বের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাসনিম জারা লেখেন, তারাই আন্দোলনের প্রাণশক্তি। মনোবল না হারানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের আস্থা অর্জনই সবচেয়ে বড় বিজয়। ভবিষ্যতেও সংগঠিত ও সোচ্চার থাকার ঘোষণা দেন তিনি।

নির্বাচন শেষে বিদেশে চলে যাওয়ার গুঞ্জন নাকচ করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, তার শেকড় ও কাজ দুটিই এ দেশে। তিনি কোথাও যাচ্ছেন না এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের লক্ষ্যেই এই যাত্রা শুরু হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি।

নির্বাচনী অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন প্রচারণা সম্ভব হলেও তা একই সঙ্গে শক্তিশালী সংগঠনের ওপর নির্ভরশীল। ভোটের দিন পোলিং এজেন্ট ও মাঠের উপস্থিতির গুরুত্বের কথাও উল্লেখ করেন। ভয়ভীতি মোকাবিলায় আরও সুসংগঠিত কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ না হলে এমন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হতো না। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় যাঁরা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। পাশাপাশি অধ্যাপক ইউনূস ও তার দল এবং নির্বাচন কমিশনের প্রতিও ধন্যবাদ জানান, জটিল পরিস্থিতিতে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য।

শেষে তাসনিম জারা বলেন, ৪৪ হাজারের বেশি ভোট তাদের জন্য শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে। হতাশ না হয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সততা ও বিকল্প রাজনীতির চাহিদা রয়েছে এই বিশ্বাস নিয়েই তারা পথ চলা অব্যাহত রাখবেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত