ঢাকা, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২

একদিনে ৫০০ বছরের কাজ করা যায় যে কম্পিউটারে

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ১৭:৩৪:৩৮

একদিনে ৫০০ বছরের কাজ করা যায় যে কম্পিউটারে

নিউজ ডেস্ক: যে কাজ শেষ করতে মানুষের প্রজন্ম পেরিয়ে যেত, তা একদিনেই শেষ করার ক্ষমতা—এটাই নাসার চোখে প্রকৃত শক্তিশালী কম্পিউটার। সেই ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা উন্মোচন করেছে তাদের নতুন প্রজন্মের সুপারকম্পিউটার ‘অ্যাথেনা’। মহাকাশ গবেষণার গতি ও নির্ভুলতায় নতুন মাত্রা যোগ করতেই এই যন্ত্রের আগমন।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ক্যালিফোর্নিয়ার এইমস রিসার্চ সেন্টারে স্থাপন করা হয় অ্যাথেনা। বাহ্যিকভাবে সাধারণ মনে হলেও এর ভেতরের ক্ষমতা অভাবনীয়। বিজ্ঞানীদের ভাষায়, যেখানে একটি সাধারণ কম্পিউটারের ৫০০ বছর লেগে যাবে, সেখানে অ্যাথেনা সেই কাজ সম্পন্ন করতে পারে মাত্র ২৪ ঘণ্টায়।

প্রযুক্তিগত সক্ষমতার দিক থেকে অ্যাথেনা নাসার ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী। এর সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স ২০ পেটাফ্লপসেরও বেশি। অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে এটি ২০ কোয়াড্রিলিয়ন হিসাব করতে সক্ষম। এই শক্তির ফলে নাসার আগের সুপারকম্পিউটার প্লাইয়াদিস বা এইটকেনের তুলনায় অ্যাথেনা কয়েক ধাপ এগিয়ে গেছে।

অ্যাথেনাকে রাখা হয়েছে নাসার মডুলার সুপারকম্পিউটিং ফ্যাসিলিটিতে। এর বড় সুবিধা হলো, পুরো অবকাঠামো না ভেঙেই প্রয়োজন অনুযায়ী কুলিং সিস্টেম বা হার্ডওয়্যার আপগ্রেড করা যায়। এতে যেমন ব্যয় কমে, তেমনি গবেষণার কাজও বন্ধ করতে হয় না—বলছেন নাসার কর্মকর্তারা।

শুধু দ্রুতগতির নয়, বিদ্যুৎ সাশ্রয়েও অ্যাথেনা বেশ কার্যকর। উন্নত বায়ু চলাচল ও মডুলার নকশার কারণে এটি আগের সিস্টেমগুলোর তুলনায় অনেক কম শক্তি ব্যবহার করে। বর্তমানে এই সুপারকম্পিউটার ব্যবহার হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বড় মডেল প্রশিক্ষণ, পৃথিবী পর্যবেক্ষণ, জলবায়ু বিশ্লেষণ ও অ্যারোনটিকস গবেষণার বিশাল ডেটা প্রক্রিয়াজাতকরণে।

নাসার ভবিষ্যৎ মিশনগুলোর জন্য অ্যাথেনা হয়ে উঠেছে অপরিহার্য। চাঁদে অবতরণ, মঙ্গল গ্রহে প্রবেশ কিংবা গভীর মহাকাশযানের পথনির্ধারণ—সব ক্ষেত্রেই নিখুঁত গণনার প্রয়োজন। সামান্য ভুলেই যেখানে বিলিয়ন ডলারের মিশন ব্যর্থ হতে পারে, সেখানে অ্যাথেনা হাজার হাজার সম্ভাব্য পরিস্থিতির সিমুলেশন চালিয়ে ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করছে।

এ ছাড়া পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা গ্রহাণু বা অ্যাস্টেরয়েডের গতিপথ বিশ্লেষণেও এই সুপারকম্পিউটার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিজ্ঞানীদের মতে, অ্যাথেনা কেবল একটি যন্ত্র নয়—এটি এমন এক প্রযুক্তিগত সঙ্গী, যা মহাকাশ গবেষণায় মানুষের সীমাবদ্ধতাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করবে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন