ঢাকা, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২
সমালোচনার মুখে হ্যাকের দাবি কি যৌক্তিক? প্রশ্ন মাহদী আমিনের
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপির নির্বাচন কমিশনার কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর আমিরের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা নারীবিদ্বেষী বক্তব্য এবং হ্যাক হওয়ার দাবি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে, সমালোচনার প্রায় ৯ ঘণ্টা পরে রাত ১টার দিকে আইডি হ্যাকের দাবি কতটা যৌক্তিক তা নিয়ে সন্দেহ জন্মেছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “কোনো গুরুত্বপূর্ণ বা ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে দ্রুত জনগণকে অবহিত করা হয়। এতে বিভ্রান্তি কমে এবং সবাই সতর্ক থাকে। কিন্তু এখানে দেখা গেছে, ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর হঠাৎ হ্যাকের দাবি তোলা হয়েছে। এটি স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহজনক। এছাড়া হ্যাকের দাবি তোলার সময় ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আরও অনেক পোস্ট ছিল, যা হ্যাক প্রমাণের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।”
মাহদী আমিন আরও বলেন, “পরবর্তীতে গভীর রাতে হাতিরঝিল থানায় জিডি করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে তারা হ্যাকের বিষয়টি জানতে পেরেছেন। যদি তা সত্য হয়, ১২ ঘণ্টা পর কেন জিডি? এছাড়া হ্যাক হওয়া ঘোষণা দেয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে আবার একাউন্ট ফেরানোর দাবি করা হয়েছে, যা বিশ্বাসযোগ্য নয়।”
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিএনপি সর্বদা নারীর ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, সম্মান ও সমঅধিকারের পক্ষে। এই ধরনের ভাষা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি প্রকাশ্য নারীবিদ্বেষী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ।
মাহদী আমিন বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স পোস্টে নারীদের বিষয়ে দেওয়া বক্তব্য পুরো সমাজব্যবস্থাকে মধ্যযুগীয় অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা বলে মনে হচ্ছে। তিনি এক্সে লিখেছিলেন, “যখন মহিলাদের আধুনিকতার নামে ঘর থেকে বের করা হয়, তখন তারা শোষণ, নৈতিক অবক্ষয় ও নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হয়, যা অন্য কোনো রূপে পতিতাবৃত্তির মতো।”
তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক ঘটনাটি নতুন নয়। এর আগে একই দলের নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নারীদের উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষা ব্যবহার করেছিলেন। দলটি প্রকাশ্যে নারীদের কর্মক্ষেত্র ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ সীমিত করার মতো বক্তব্য দিয়েছে। কোনো নারীকে সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এমনকি নির্বাচনি প্রচারণায় নারী প্রার্থীদের পোশাক ও পরিচ্ছেদ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে, যা নারীবিদ্বেষের প্রকাশ।
মাহদী আমিন বলেন, বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর নারী সদস্যরা, বিশেষ করে ছাত্রদলের বোনেরা, সাইবার স্পেসে যে বর্বর ও মধ্যযুগীয় বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন, তা যে কোনো সচেতন মানুষকে আতঙ্কিত করবে। এসব অপপ্রচারে জড়িত আইডিগুলো একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ।
তিনি বলেন, “যুগে যুগে আমাদের নারীরা সংকটে এগিয়ে এসেছেন। আমাদের মায়েরা, বোনেরা, স্ত্রী ও কন্যারা ঘরে বাইরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। গার্মেন্টস শিল্পের বিশ্বজয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশাসন, গণমাধ্যম ও খেলাধুলায় নারীদের অবদান অপরিসীম। এ ধরনের কর্মজীবী নারীদের অবমাননার পরিস্থিতি কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।”
মাহদী আমিন আরও বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আমাদের নারীরা সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। স্বাধীনতার যুদ্ধে নারীরা যেভাবে লড়েছেন, তা আমাদের জাতি কখনোই ভুলতে পারে না। দেশে কোনো পক্ষ আর নারীদের প্রতি অন্যায়-নিপীড়ন চালাতে পারবে না। বিএনপি, বাংলাদেশ এবং জনগণ এমন আচরণ মেনে নেবে না।”
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “জামায়াত বলছে, জনগণ বিএনপিকে আগেই দেখেছে। তবে দেশের মানুষ ইতিমধ্যেই দেখে নিচ্ছে, মধ্যযুগীয় বর্বরতার নামে নারীদের অপমান করা হচ্ছে। বিএনপি নারীর মর্যাদা রক্ষায় কোনো আপস করবে না, কোনো ভয় দেখবে না।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি ইয়াসীন আলী প্রমুখ।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বিডি থাই ফুড
- ইপিএস প্রকাশ করেছে কনফিডেন্স সিমেন্ট
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সোনালী পেপার
- ইপিএস প্রকাশ করেছে শাহজীবাজার পাওয়ার
- ইপিএস প্রকাশ করেছে এপেক্স ট্যানারি
- ইপিএস প্রকাশ করেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইজেনারেশন
- ইপিএস প্রকাশ করেছে আনোয়ার গ্যালভানাইজিং
- ইপিএস প্রকাশ করবে ৫৮ কোম্পানি
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সাফকো স্পিনিং
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস
- নতুন জাতীয় দৈনিকে ক্যারিয়ার গড়ার বড় সুযোগ
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সিলকো ফার্মা
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইন্দো-বাংলা ফার্মা
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইনটেক