ঢাকা, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২
বিতর্কিত পোস্ট নিয়ে ফরেনসিক প্রমাণ হাজির করল জামায়াত
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাবি, দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত সাম্প্রতিক বিতর্কিত পোস্টটি কোনো ব্যক্তিগত বক্তব্য নয়; বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত সাইবার হ্যাকিংয়ের ফল। এ দাবির পক্ষে টাইমলাইন, ই-মেইল নোটিফিকেশন, ফরেনসিক ডাটা ও প্রযুক্তিগত প্রমাণ উপস্থাপন করেছে দলটি।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। এ সময় প্রজেক্টরের মাধ্যমে সাংবাদিকদের সামনে সংশ্লিষ্ট স্ক্রিনশট, ভিডিও ফুটেজ এবং ডিজিটাল ডাটা প্রদর্শন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিতর্কিত পোস্টটি প্রকাশিত হয় ৩১ জানুয়ারি বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে। ঠিক সেই সময় ডা. শফিকুর রহমান ঢাকার অদূরে কেরানীগঞ্জের কোনাখোলা এলাকায় একটি নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখছিলেন। বিষয়টির প্রমাণ হিসেবে ওই সময়কার ভিডিও ফুটেজ এবং লোকেশন ডাটাও উপস্থাপন করা হয়।
জামায়াত জানায়, পোস্টটি নজরে আসার পর সঙ্গে সঙ্গে অ্যাকাউন্ট সুরক্ষার পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বিকেল ৫টা ৯ মিনিটে এক্স কর্তৃপক্ষ থেকে ‘Your password has been changed’ শিরোনামে একটি ই-মেইল আমিরে জামায়াতের অফিসিয়াল ই-মেইলে আসে। টাইম জোনের পার্থক্য থাকলেও স্ক্রিনশট ও সিস্টেম ডাটার ভিত্তিতে এটি বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ৯ মিনিটেই পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।
দলটি জানায়, শুধু পাসওয়ার্ড পরিবর্তন নয় আগের সব সেশন লগআউট করে নতুন সেশন জেনারেটের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টটি পুনরুদ্ধার করা হয়। এরপর বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে জামায়াত আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় যে অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছিল এবং নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, যদি এটি ইচ্ছাকৃত বা ভুলবশত দেওয়া কোনো পোস্ট হতো, তাহলে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন, ই-মেইল রিকভারি কিংবা ফরেনসিক ডাটা প্রকাশের কোনো প্রয়োজন পড়ত না। প্রমাণ হিসেবে সাংবাদিকদের সামনে সরাসরি আমিরে জামায়াতের ই-মেইল ইনবক্স দেখানো হয়, যেখানে লগইন লোকেশন, নতুন আইপি অ্যাড্রেস ও সেশন পরিবর্তনের বিস্তারিত তথ্য রয়েছে।
এছাড়া জানানো হয়, একই ধরনের একটি পোস্ট একই দিন বিকেল ৪টা ৫৩ মিনিটে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকেও প্রকাশিত হয়। সময় ও বিষয়বস্তুর মিল দেখিয়ে এটিকে সংঘবদ্ধ সাইবার আক্রমণের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
জামায়াত দাবি করে, গত এক মাসে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা এবং একাধিক শীর্ষ নেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে ধারাবাহিকভাবে সাইবার হামলার চেষ্টা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেনের অ্যাকাউন্টেও অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা হয়, যা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিহত করা সম্ভব হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সাইবার আক্রমণের একটি কৌশলও ব্যাখ্যা করা হয়। জানানো হয়, ‘Case Study BGI Election’ বা অনুরূপ শিরোনামে সরকারি ই-মেইলের আদলে ভুয়া বার্তা পাঠানো হয়, যেখানে ‘অত্যন্ত জরুরি’ উল্লেখ করে ক্ষতিকর ফাইল সংযুক্ত থাকে। এসব ফাইলের মাধ্যমে ম্যাক্রো, ম্যালওয়্যার বা ডাটাবেজ ব্যবহার করে অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ ধরনের ই-মেইল ১০ জানুয়ারিসহ একাধিকবার পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
জামায়াত জানায়, ফরেনসিক বিশ্লেষণে এসব ফাইলকে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট সাইবার সিকিউরিটি কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন ছড়ানো হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ছাড়াই কয়েকটি গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
নারী ভোটারদের প্রসঙ্গে জামায়াত জানায়, নির্বাচনী প্রচারণায় নারীদের ভোট চাইতে গেলে কোথাও কোথাও হামলা, বোরকা খুলে দেওয়া এবং অশালীন ভাষা ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি ‘৪০ লাখ বোরকা’ সংক্রান্ত বক্তব্যের মাধ্যমে নারীদের ভোটাধিকার থেকে নিরুৎসাহিত করার অপচেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
দলটি আরও জানায়, বিতর্কিত পোস্ট প্রকাশের মাত্র দুই ঘণ্টা আগেই আমিরে জামায়াত নারীদের উচ্চশিক্ষা ও অগ্রগতির পক্ষে একটি ইতিবাচক বার্তা সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত বলে, আসন্ন নির্বাচন যেন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে অনুষ্ঠিত হয়। গুজব, অপপ্রচার ও সাইবার আক্রমণের মাধ্যমে যাতে নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও সংশ্লিষ্ট সব ডাটা, স্ক্রিনশট ও ফরেনসিক রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে বলেও জানায় দলটি।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বিডি থাই ফুড
- ইপিএস প্রকাশ করেছে কনফিডেন্স সিমেন্ট
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সোনালী পেপার
- ইপিএস প্রকাশ করেছে শাহজীবাজার পাওয়ার
- ইপিএস প্রকাশ করেছে এপেক্স ট্যানারি
- ইপিএস প্রকাশ করেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইজেনারেশন
- ইপিএস প্রকাশ করেছে আনোয়ার গ্যালভানাইজিং
- ইপিএস প্রকাশ করবে ৫৮ কোম্পানি
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সাফকো স্পিনিং
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস
- নতুন জাতীয় দৈনিকে ক্যারিয়ার গড়ার বড় সুযোগ
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইন্দো-বাংলা ফার্মা
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইনটেক
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সিলকো ফার্মা