ঢাকা, শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২
ছয় দশক পর পীরগঞ্জে লোহার খনিতে কূপ খনন
নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ ছয় দশক বন্ধ থাকার পর রংপুরের পীরগঞ্জে দেশের প্রথম লোহার খনিতে নতুন করে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) উপজেলার শানেরহাট ইউনিয়নের ছোট পাহাড়পুর গ্রামের ভেলামারী পাথারে কূপ খননের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম দুপুরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে অনুসন্ধান কার্যক্রমের সূচনা করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৫ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের খনিজ সম্পদ বিভাগ প্রথম ভেলামারী পাথার এলাকায় লোহার খনির প্রাথমিক অস্তিত্ব শনাক্ত করে। সে সময় শানেরহাট ও মিঠিপুর ইউনিয়নে চারটি কূপ খনন করে কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে চিহ্নিত করা হয়, যা এখনো এলাকায় দৃশ্যমান রয়েছে।
পাক-ভারত যুদ্ধের আগে ও পরে স্যাটেলাইট চিত্রের ভিত্তিতে প্রায় ছয় বর্গকিলোমিটার এলাকায় জরিপ চালানো হয়। তখনকার খনিজ বিজ্ঞানীরা ভেলামারী পাথারকে সম্ভাবনাময় লোহার খনি এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে প্রাথমিক জরিপ সম্পন্ন করেন।
পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দফায় খনি চালুর উদ্যোগের কথা শোনা গেলেও বাস্তবে তা আর আলোর মুখ দেখেনি। অবশেষে দীর্ঘ ৬০ বছর পর ‘জিডিএইচ-৭৯/২৫’ নামে চিহ্নিত ওই কূপে আবারও অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হলো।
উদ্বোধন শেষে সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, উত্তরাঞ্চলের মাটির নিচে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের সম্ভাবনা রয়েছে। এখানে যে খনিজ পাওয়া যাবে, তা উত্তোলনে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। তিনি বলেন, এটি কেবল একটি প্রকল্প নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত একটি বড় স্বপ্ন।
বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের (জিএসবি) তত্ত্বাবধানে এই অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অনুষ্ঠানে সংস্থাটির মহাপরিচালক আব্দুল মান্নান ও উপ-মহাপরিচালক আলী আকবর বক্তব্য রাখেন।
জিএসবির উপ-মহাপরিচালক প্রকৌশলী আলী আকবর জানান, এর আগে বিভিন্ন সময়ে একাধিক কূপ খনন করে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। ২০০০ সালে জিডিএইচ-৫৪ এবং ২০২৩ সালে মিঠিপুর ইউনিয়নের কাশিমপুর এলাকায় জিডিএইচ-৭৮/২৩ নামে কূপ খনন করা হয়। এসব কূপে খনিজ সম্পদের উপস্থিতির প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। চলতি বছরে প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন কার্যক্রম চালানো হবে।
খনিজ উত্তোলনের সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি বলেন, অনুসন্ধান শেষে রিসোর্স নিশ্চিত হলে এবং ব্যয়ের তুলনায় আয় লাভজনক হলে সরকারকে খনি থেকে উত্তোলনের সুপারিশ করা হবে।
এখানে কী ধরনের খনিজ থাকতে পারে—এ বিষয়ে তিনি বলেন, ভৌগোলিক গঠন অনুযায়ী এই এলাকায় লোহা ছাড়াও তামা, নিকেল, ম্যাঙ্গানিজ এমনকি স্বর্ণের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে চূড়ান্ত ফল জানতে পুরো অনুসন্ধান শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. পপি খাতুন, শানেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেছবাহুর রহমান, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি ও মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বিডি থাই ফুড
- ইপিএস প্রকাশ করেছে কনফিডেন্স সিমেন্ট
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সোনালী পেপার
- ইপিএস প্রকাশ করেছে শাহজীবাজার পাওয়ার
- ইপিএস প্রকাশ করেছে এপেক্স ট্যানারি
- ইপিএস প্রকাশ করেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইজেনারেশন
- ইপিএস প্রকাশ করেছে আনোয়ার গ্যালভানাইজিং
- ইপিএস প্রকাশ করবে ৫৮ কোম্পানি
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সাফকো স্পিনিং
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস
- নতুন জাতীয় দৈনিকে ক্যারিয়ার গড়ার বড় সুযোগ
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইনটেক
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইন্দো-বাংলা ফার্মা
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বার্জার পেইন্টস