ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২

আবারও ৯ মাসের জন্য বন্ধ হচ্ছে সেন্ট মার্টিন

২০২৬ জানুয়ারি ৩১ ১৮:১২:৩৫

আবারও ৯ মাসের জন্য বন্ধ হচ্ছে সেন্ট মার্টিন

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার কঠোর সিদ্ধান্তে টানা নয় মাস পর্যটকশূন্য থাকছে দেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্ট মার্টিন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আগামীকাল রোববার থেকে দ্বীপটিতে সব ধরনের পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) চলতি পর্যটন মৌসুমের শেষ দিনে শেষবারের মতো পর্যটকবাহী জাহাজ সেন্ট মার্টিন দ্বীপে যাতায়াত করছে। রোববার থেকে পর্যটকদের বহনকারী কোনো জাহাজ চলাচলের অনুমতি থাকবে না।

সাধারণত প্রতি বছর ১ অক্টোবর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সেন্ট মার্টিনে পর্যটক প্রবেশের সুযোগ থাকলেও, চলতি বছর পরিবেশগত ঝুঁকি ও অতিরিক্ত পর্যটকচাপ বিবেচনায় এই সময়সীমা কমিয়ে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসাইন সজিব জানান, শনিবারই শেষ দিনের মতো পর্যটকবাহী জাহাজ দ্বীপে গেছে। রোববার থেকে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পর্যটন বন্ধ থাকবে। ভবিষ্যতে সরকার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

প্রশাসনের মতে, দীর্ঘ সময় পর্যটক অনুপস্থিত থাকলে সেন্ট মার্টিনের প্রবাল প্রাচীর, সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ বিভিন্ন প্রাণীর প্রাকৃতিক আবাস পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি হবে। অতিরিক্ত পর্যটক, অনিয়ন্ত্রিত চলাচল ও পরিবেশবিধি লঙ্ঘনের কারণে দ্বীপটির পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছিল।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেন্ট মার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ হওয়ায় সামান্য পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হলেও এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদি পর্যটন বিরতি পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তবে এই সিদ্ধান্তে দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সেন্ট মার্টিন হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এম এ আবদুর রহমান বলেন, অনেক ব্যবসায়ী এবছর বিনিয়োগের অর্থ তুলতেই পারেননি। পর্যটন বন্ধ থাকলে আগামী মাসগুলোতে আর্থিক সংকট আরও বাড়বে।

স্থানীয় বাসিন্দা কেফায়েত উল্লাহ বলেন, ‘আমরা পরিবেশ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা বুঝি। কিন্তু বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা ছাড়া নয় মাস পর্যটন বন্ধ থাকলে সাধারণ মানুষের জীবন চালানো কঠিন হয়ে যাবে।’

সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানান, দ্বীপের বেশিরভাগ মানুষ পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। হঠাৎ দীর্ঘ সময় পর্যটন বন্ধে সবাই হতাশ। সময়সীমা কিছুটা বাড়ানো বা বিকল্প কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নিলে মানুষের জন্য সহায়ক হতো।

স্থানীয় অটোরিকশা চালক জাফর আলম বলেন, পর্যটক না থাকলে তাকে আবার মাছ ধরার পেশায় ফিরতে হবে। গাড়ি কেনার ঋণ এখনো শোধ হয়নি, সামনে কীভাবে চলবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।

ব্যবসায়ীদের দাবি, পর্যটন খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কয়েক হাজার মানুষ জড়িত। মানবিক বিবেচনায় অন্তত ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত পর্যটন চালু রাখার আহ্বান জানান তারা।

উল্লেখ্য, এর আগে সেন্ট মার্টিনে রাতের বেলায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ, বারবিকিউ পার্টি, কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়। পাশাপাশি সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া ও শামুক-ঝিনুকের ক্ষতি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। সৈকতে মোটরচালিত যান চলাচল এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যবহারের ওপরও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।

প্রশাসনের আশা, টানা নয় মাস পর্যটন বন্ধ থাকলে সেন্ট মার্টিনের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবেশ ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে নিয়ন্ত্রিত ও টেকসই পর্যটনের পথ সুগম হবে এবং দ্বীপের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা সম্ভব হবে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত