ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩
‘জামায়াত-আওয়ামী লীগ একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ’
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগ পরস্পরের পরিপূরক শক্তি হিসেবে কাজ করছে এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তার ভাষায়, এই দুই দল মূলত একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ; একটির অস্তিত্ব থাকলেই অন্যটিও টিকে থাকে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইউক-এর ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনায় তিনি বাংলাদেশের চলমান রাজনীতি, নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
মাহফুজ আলম জানান, আসন্ন ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে না থাকার সিদ্ধান্তের পেছনে বড় কারণ হলো আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের এই পারস্পরিক নির্ভরশীল রাজনৈতিক বাস্তবতা। তার মতে, এই সমীকরণ ভাঙা না গেলে প্রকৃত পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হবে না।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর তরুণদের নেতৃত্বে বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে একটি শক্তিশালী ‘তৃতীয় বিকল্প’ গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। কিন্তু এনসিপি যখন পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের অংশ হিসেবে জামায়াতের সঙ্গে জোটে যায়, তখন সেই সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়।
জামায়াতের সঙ্গে জোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যাদের সঙ্গে ঐক্য গড়া হয়েছে, তারা সবাই পুরনো কাঠামোর প্রতিনিধি। জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত হলে এমন বহু প্রশ্ন সামনে আসে, যার কোনো পরিষ্কার উত্তর নেই। কারণ, বাংলাদেশ রাষ্ট্র নিয়ে দলটির কোনো সুস্পষ্ট ও স্বচ্ছ রূপরেখা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আদর্শিক ও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রশ্নে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে জামায়াতের কোনো বাস্তব সংযোগ সম্ভব নয় বলে মনে করেন মাহফুজ আলম। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, গত দেড় বছরের রাজনৈতিক যাত্রা ছিল এক ধরনের বিশ্বাসভঙ্গের অভিজ্ঞতা। তার চোখে, পুরনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা নতুন মোড়কে ফিরে এসে জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ভবিষ্যৎ সরকারব্যবস্থা নিয়েও সতর্কবার্তা দেন তিনি। মাহফুজ আলম বলেন, বিএনপি বা জামায়াত যেই ক্ষমতায় আসুক না কেন, সমাজের ভেতরের গভীর ক্ষত সারাতে ব্যর্থ হলে কোনো সরকারই দীর্ঘস্থায়ী হবে না। কাগজে-কলমে সংস্কার যথেষ্ট নয়; ভিন্নমত ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সমঝোতা না হলে মব সহিংসতা থামবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন মাহফুজ আলম। তার মতে, দেশের মানুষ বর্তমানে গণমাধ্যমের ওপর আস্থা হারিয়েছে। এই বিশ্বাস পুনরুদ্ধার করতে হলে গণমাধ্যমকে অতীতের ভূমিকা নিয়ে আত্মসমালোচনা এবং এক ধরনের দায় স্বীকারের জায়গায় যেতে হবে।
বর্তমানে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকা মাহফুজ আলম সময় কাটাচ্ছেন বই পড়ে ও হতাশ তরুণদের সঙ্গে আলাপ করে। তিনি বোঝার চেষ্টা করছেন কেন জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবে রূপ পায়নি এবং ভবিষ্যতে কোন পথে এগোনো সম্ভব।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- চলছে বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তানের ম্যাচ: খেলাটি সরাসরি দেখুন (LIVE)
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ইউকে’র নতুন কমিটি ঘোষণা
- ঢাবির নতুন প্রো-ভিসি ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী
- শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের ভিডিও ধারণ ও আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ
- মৌসুমীর ‘কন্ট্র্যাক্ট ম্যারেজ’ নিয়ে মিশার সহায়তা চাইলেন ওমর সানী
- মিউচুয়াল ফান্ডে নতুন যুগের শুরু: গাইডলাইন প্রকাশ করল বিএসইসি
- সাদিক কায়েমের বিয়ে নিয়ে যা জানা গেছে
- ব্যবসায় বড় লাফ ইউসিবি ও লিন্ডে বিডির
- মাদ্রাসায় যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠনের দাবি এমজেএফের
- ঢাবিতে প্রথমবারের মতো আন্ডারওয়াটার ফটোগ্রাফি কর্মশালা
- ঢাবির নতুন প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল
- দেশে বাড়লো সোনার দাম
- ৫৪ জেলায় টিসিবির ডিলার নিয়োগ, আবেদন শুরু ১০ মে
- মৌসুমীর ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য জেবা জান্নাতের
- ঢাবির নতুন প্রো-ভিসি আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীর যোগদান