ঢাকা, বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

পিএসসি প্রশ্নফাঁস কাণ্ড: আবেদ আলীর ছেলে কারাগারে

২০২৬ জানুয়ারি ২১ ১২:১২:৩৩

পিএসসি প্রশ্নফাঁস কাণ্ড: আবেদ আলীর ছেলে কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে আলোচিত সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়িচালক আবেদ আলী জীবনের ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় শুনানি শেষে মঙ্গলবার ঢাকার আদালত এ আদেশ দেন।

দুদকের প্রসিকিউশন বিভাগের কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন সোহানুর রহমান সিয়ামকে আদালতে হাজির করে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন আবেদন মঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় দায়ের করা মামলায় সোহানুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিলের অনুমোদন ইতোমধ্যেই পাওয়া গেছে। সেই অনুমোদিত অভিযোগপত্র আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে একই দিনে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা তানজীর আহমেদ সোহানুর রহমান সিয়ামকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। দুদক জানায়, পিএসসি প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে আবেদ আলী জীবন ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়ের করা একাধিক মামলার ধারাবাহিক বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের জানুয়ারিতে আবেদ আলী জীবনের বিরুদ্ধে প্রায় পৌনে চার কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে প্রথম মামলা করা হয়। পরবর্তীতে তার পরিবারের সদস্যদের সম্পৃক্ত করে মোট তিনটি মামলা দায়ের করে সংস্থাটি।

মামলার নথি অনুযায়ী, আবেদ আলী জীবনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ৩ কোটি ৭২ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৭ টাকার সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে তার নামে থাকা ১২টি ব্যাংক হিসাবে মোট ২০ কোটি ৮৮ লাখ ১৬ হাজার ৯৭১ টাকা জমা এবং ২০ কোটি ৪১ লাখ ৩ হাজার ৭৪১ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া যায়।

এই আর্থিক লেনদেনগুলোকে সন্দেহজনক উল্লেখ করে সে সময় দুদকের মহাপরিচালক আক্তার জানান, এসব অর্থ দুর্নীতি ও ঘুষের মাধ্যমে অর্জিত এবং প্রকৃত উৎস গোপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া আবেদ আলী জীবনের স্ত্রী শাহরিন আক্তার শিল্পীর বিরুদ্ধেও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করা হয়। ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে ১ কোটি ২৬ লাখ ৬৩ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ আনা হয়। তদন্তে তার দুটি ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ৭৮ লাখ ৭৬ হাজার ৬৩৬ টাকা জমা এবং ১ কোটি ৭৭ লাখ ৬৪ হাজার ৯৫ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া যায়, যেগুলো দুদকের মতে সন্দেহজনক।

অন্যদিকে, আবেদ আলীর ছেলে সোহানুর রহমান সিয়ামের বিরুদ্ধে পৃথক মামলায় ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে দুদকের আবেদনের পর গত বৃহস্পতিবার আদালত আবেদ আলী জীবনকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত