ঢাকা, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সুপারিশ মন্ত্রণালয়ের
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশীয় সুতা উৎপাদন খাতকে সুরক্ষা দিতে কটন সুতা আমদানিতে দেওয়া বন্ড সুবিধা বাতিল বা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) এনবিআরের কাস্টমস নীতি বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো চিঠিতে দেশীয় সুতা শিল্প রক্ষায় নির্দিষ্ট কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এনবিআর চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো চিঠির সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের ৬ জানুয়ারি স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ হিসেবে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিকে বন্ড সুবিধার বাইরে রাখার সুপারিশ করা হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়ে জানিয়েছে, স্থানীয় শিল্প, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সুরক্ষার স্বার্থে বাংলাদেশ কাস্টমস ট্যারিফের আওতায় উল্লিখিত কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে আমদানি বিল অব এন্ট্রিতে কটন সুতার কাউন্ট স্পষ্টভাবে উল্লেখ নিশ্চিত করতে কাস্টম হাউসগুলোকে নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশ আসে টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাত থেকে, যার মধ্যে প্রায় ৫৫ শতাংশ নিট গার্মেন্টস শিল্পের অবদান। আশির দশক থেকে রপ্তানিমুখী শিল্পকে উৎসাহিত করতে সরকার বন্ড সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়ে আসছে। নিট গার্মেন্টস শিল্পে ব্যবহৃত সুতাও এই সুবিধার অন্তর্ভুক্ত। তবে রপ্তানি বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশীয় উদ্যোক্তারা প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প গড়ে তুলেছেন, যার ফলে সুতা ও কাপড় উৎপাদনের শক্তিশালী অবকাঠামো তৈরি হয়েছে এবং বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো কটন সুতা ও ব্লেন্ডেড ইয়ার্ন দিয়ে দেশের সামগ্রিক চাহিদা পূরণে সক্ষম।
সূত্র মতে, নিট গার্মেন্টস শিল্পে ব্যবহৃত সুতার বড় অংশই দেশীয় উৎপাদনকারীরা সরবরাহ করতে পারেন। কিন্তু পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে ৩০ কাউন্টের প্রতি কেজি সুতার ন্যূনতম মূল্য ২.৯৩ মার্কিন ডলার হলেও সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনার কারণে তারা গড়ে ২.৫০ থেকে ২.৬০ ডলার দামে বাংলাদেশে সুতা রপ্তানি করছে। বিপরীতে দেশের বাজারে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুতার বিক্রয়মূল্য প্রায় ২.৮৫ ডলার। উৎপাদন দক্ষতা বাড়িয়েও দেশীয় কারখানাগুলো প্রতিযোগী দেশগুলোর প্রণোদনাপ্রাপ্ত মূল্যের সঙ্গে টিকে থাকতে পারছে না।
বিভিন্ন পরিসংখ্যান বলছে, গত দুই অর্থবছরে বন্ড সুবিধায় সুতা আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর প্রভাবে দেশীয় সুতার বিক্রি কমে গিয়ে কারখানাগুলোকে মাত্র ৬০ শতাংশ উৎপাদন সক্ষমতা ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে শিল্পটি এবং ইতোমধ্যে প্রায় ৫০টি বৃহৎ সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে আরও প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সবশেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, আমদানিকৃত সুতার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি হলে নিট গার্মেন্টস শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কমবে, লিড টাইম বাড়বে এবং মূল্য সংযোজন হ্রাসের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপরও চাপ সৃষ্টি হবে। এসব ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে ১০ থেকে ৩০ কাউন্ট কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনো ম্যাচ: সরাসরি দেখা যাবে এখানে LIVE
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনো ফুটবল ম্যাচ, দেখুন একাদশ-দেখার উপায়
- বাংলাদেশ বনাম ভারতের ফুটবল ম্যাচ: সরাসরি দেখুন (LIVE)
- ঢাবি অ্যালামনাই ইউকে শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা
- ঢাবি শিক্ষককে বিয়ে করলেন দীপ্তি চৌধুরী
- বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তানের ফুটবল ম্যাচ: এক ক্লিকে সরাসরি দেখুন
- আজ রাত ৮ টায় ভারত বনাম বাংলাদেশের ফুটবল ম্যাচ, কোথায় ও যেভাবে দেখবেন?
- আজ বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান ম্যাচ: সরাসরি দেখবেন যেভাবে
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনোম্যাচ: এক ক্লিকে সরাসরি দেখুন এখানে
- মাসিক ফি দিয়ে ব্যবহার করতে হবে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম
- পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই: ড. নিয়াজ আহমদ
- ঢাবির এসএম হলের নতুন প্রভোস্ট অধ্যাপক আবদুস সালাম
- নতুন পে-স্কেলে কার বেতন কত বাড়তে পারে? আলোচনায় দুটি প্রস্তাব
- টাইমস হায়ার ও কিউএস র্যাঙ্কিংয়ে ঢাবির জয়জয়কার
- ডিএসইতে রেকর্ড উত্থান, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাড়ছে প্রত্যাশা