ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২

খাদ্য নিরাপত্তায় সরকার একা যথেষ্ট নয়: প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

২০২৬ জানুয়ারি ০৮ ১৯:৫৪:৩১

খাদ্য নিরাপত্তায় সরকার একা যথেষ্ট নয়: প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব হলেও, এটি এককভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, প্রাণিস্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।

‘সুস্থ প্রাণী, সমৃদ্ধ জাতি’ এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) অ্যানিম্যাল হেলথ কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আহকাব) আয়োজিত ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক অ্যানিম্যাল হেলথ এক্সপো-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি)।

উপদেষ্টা বলেন, উদ্যোক্তারা শুধু বিনিয়োগে সীমাবদ্ধ নেই, তারা প্রাণিসম্পদ খাতকে আধুনিক ও টেকসই করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার সঙ্গে প্রাণিস্বাস্থ্যের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। মাছ, গবাদিপশু বা পোল্ট্রি সব ধরনের প্রাণিজ আমিষ উৎপাদনের পূর্বশর্ত হলো প্রাণীর সুস্থতা নিশ্চিত করা।

তিনি ওয়ান হেলথ (One Health) ধারণার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশ এই তিনের সমন্বিত সুস্থতার মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।

প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা আরও বলেন, শুধু প্রাণী মোটাতাজাকরণ নয়, প্রাণী যে খাদ্য গ্রহণ করছে সেটি নিরাপদ ও পুষ্টিকর কি না, তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রাণিখাদ্য ও মাছের খাদ্যের কাঁচামালের উৎস, গুণগত মান এবং নিরাপত্তা নিয়মিত নজরদারিতে রাখতে হবে।

তিনি কৃষি খাতের সঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ভুট্টা ও সয়াবিনসহ প্রাণিখাদ্যের উপাদান আমদানিনির্ভর না হয়ে দেশেই উৎপাদনের লক্ষ্যে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

ওষুধ উৎপাদন ও আমদানিতে বিদ্যমান নীতিমালার সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে ফরিদা আখতার বলেন, বর্তমান আইন দিয়ে প্রাণিস্বাস্থ্য খাতের সব চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে প্রয়োজনীয় সংস্কার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের বলেন, প্রাণিস্বাস্থ্য রক্ষায় উদ্যোক্তাদের উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। প্রাণী সুস্থ থাকলে মানবস্বাস্থ্যও নিরাপদ থাকে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশেও প্রাণিস্বাস্থ্যের জন্য আলাদা ড্রাগ আইন ও কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে একটি খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে, যা এই সরকারের মেয়াদে অর্ডিন্যান্স আকারে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান। সভাপতিত্ব করেন আহকাবের সভাপতি সায়েম উল হক। এছাড়া সংগঠনের সেক্রেটারি মো. আনোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকরা জানান, এবারের আন্তর্জাতিক এক্সপোতে বিশ্বের ১৪টি দেশ অংশগ্রহণ করছে। প্রাণিস্বাস্থ্য ও মৎস্য খাতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, প্রযুক্তি বিনিময় এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে রয়েছে ১২৮টি বিদেশি স্টল এবং ৬৫ জন আন্তর্জাতিক প্রদর্শক। পাশাপাশি দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের আধুনিক পণ্য, প্রযুক্তি ও সেবা প্রদর্শন করছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

চবি ‘ডি’ ইউনিটের ফল প্রকাশ

চবি ‘ডি’ ইউনিটের ফল প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ‘ডি’ ইউনিটের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।... বিস্তারিত