ঢাকা, বুধবার, ৭ জানুয়ারি ২০২৬, ২৩ পৌষ ১৪৩২

বাংলাদেশিদের মার্কিন ভিসা পেতে ‘ভিসা বন্ড’ বাধ্যতামূলক

২০২৬ জানুয়ারি ০৭ ১১:০০:২৩

বাংলাদেশিদের মার্কিন ভিসা পেতে ‘ভিসা বন্ড’ বাধ্যতামূলক

নিজস্ব প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী ভিসায় প্রবেশের শর্ত আরও কঠোর হচ্ছে। ভিসা পাওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত আর্থিক জামানত বা ‘ভিসা বন্ড’ জমা দেওয়ার যে নিয়ম চালু রয়েছে, তার আওতা বড় পরিসরে বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন সিদ্ধান্তে বাংলাদেশসহ আরও ২৫টি দেশকে এই তালিকায় যুক্ত করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

এর ফলে ভিসা বন্ড শর্তযুক্ত দেশের সংখ্যা এক লাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮টিতে। এর মাত্র কয়েক দিন আগেই সাতটি দেশকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছিল। পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়ম আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর বড় একটি অংশ আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, নেপাল ও উগান্ডা। দেশভেদে ভিসা বন্ড কার্যকরের সময়সূচি আলাদা হবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এসব দেশের নাগরিকরা যদি বি-১/বি-২ (ব্যবসা ও পর্যটন) ভিসার জন্য যোগ্য হন, তবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আগে তাদের ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড দিতে হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অঙ্ক সর্বোচ্চ প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা (ডলারপ্রতি ১২২.৩১ টাকা হিসেবে)।

ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় আবেদনকারীর ব্যক্তিগত প্রেক্ষাপট, ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং ইন্টারভিউয়ের মূল্যায়নের ভিত্তিতে কনস্যুলার অফিসার বন্ডের পরিমাণ নির্ধারণ করবেন। বন্ড পরিশোধ করতে হবে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের নির্ধারিত অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে। তবে অফিসারের নির্দেশনা ছাড়া আগাম অর্থ জমা না দেওয়ার জন্য আবেদনকারীদের সতর্ক করেছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।

এই ভিসা বন্ড নীতি মূলত একটি পাইলট কর্মসূচির অংশ, যা প্রথম চালু হয় গত বছরের আগস্টে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, যেসব দেশের নাগরিকদের মধ্যে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে অবস্থান করার হার তুলনামূলক বেশি, মূলত সেসব দেশকেই এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।

কখন ফেরত মিলবে বন্ডের টাকা

স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানায়, ভিসা বন্ড কোনো স্থায়ী ফি নয়; এটি ফেরতযোগ্য জামানত। অনুমোদিত সময়ের মধ্যে বা তার আগেই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে, ভিসা পাওয়ার পর দেশটিতে ভ্রমণ না করলে কিংবা বিমানবন্দরে প্রবেশে বাধা পেলে বন্ডের অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে।

তবে নির্ধারিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা হলে অথবা সেখানে গিয়ে ভিসা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করলে (যেমন রাজনৈতিক আশ্রয়), বন্ডের অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হবে।

নির্ধারিত তিন বিমানবন্দর বাধ্যতামূলক

ভিসা বন্ডের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য তিনটি বিমানবন্দর নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো- বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট এবং ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। এই নির্ধারিত রুটের বাইরে প্রবেশ বা প্রস্থান করলে বন্ডের শর্ত লঙ্ঘিত হয়েছে বলে গণ্য হতে পারে।

ভিসা বন্ড কী

ভিসা বন্ড হলো একটি আর্থিক নিশ্চয়তা, যা নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের কাছ থেকে অস্থায়ী ভিসা দেওয়ার আগে নেওয়া হয় যাতে তারা ভিসার শর্ত, বিশেষ করে অনুমোদিত থাকার সময়সীমা মেনে চলেন। প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে হাজারো বিদেশি পর্যটক, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ী নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় প্রবেশ করেন। নতুন এই নিয়ম কার্যকর হলে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ আরও ব্যয়বহুল ও প্রক্রিয়াগতভাবে কঠিন হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত