ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২
নির্বাচনী ইশতেহারে শেয়ারবাজারকে 'আইসিইউ' থেকে ফেরানোর আকুতি
নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের শেয়ারবাজার সংস্কারের বিষয়টি রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টরস অ্যাসোসিয়েশন (বিসিআইএ) সোমবার মতিঝিলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ভবনের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের কাছে এই সংক্রান্ত একটি স্মারকলিপি প্রদান করে। স্মারকলিপিতে তারা বাজার সংস্কারে সুনির্দিষ্ট এবং সময়াবদ্ধ অঙ্গীকারের দাবি জানান।
বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, ২০১০ সালের ৬ ডিসেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের শেয়ারবাজার কার্যত ‘আইসিইউ’-তে চলে গিয়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নিলেও বাজারের কোনো টেকসই উন্নতি দৃশ্যমান হয়নি। তাদের মতে, সংস্কারের নামে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) যে সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ‘অর্থনৈতিক গণহত্যা’র শামিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্মারকলিপিতে তুলে ধরা তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার যখন দায়িত্ব নেয়, তখন প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ছিল ৬ হাজার ১৫ পয়েন্টে। কিন্তু ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর নাগাদ তা ১ হাজার ১৫০ পয়েন্টের বেশি কমে ৪ হাজার ৮৫০ পয়েন্টে নেমে এসেছে। একই সময়ে দৈনিক গড় লেনদেন ১ হাজার ৪০০–১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা থেকে কমে মাত্র ৩৫০ কোটি টাকায় ঠেকেছে। বর্তমানে বাজারের মূল্য-আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ৯-এর নিচে নেমে এসেছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নজিরবিহীন।
বিনিয়োগকারীরা সতর্ক করে বলেছেন, স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে না এনে বাজারে নতুন তহবিল জোগান দেওয়া বৃথা। তারা অভিযোগ করেন, গত ১৭ মাসে বিএসইসি, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং এনবিআর বাজারের জন্য কার্যকর কোনো প্রণোদনা দিতে পারেনি। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মান না মেনে পাঁচটি ব্যাংকের একীভূতকরণ আমানতকারী ও শেয়ারহোল্ডারদের চরম দুর্দশায় ফেলেছে। এছাড়া এই দীর্ঘ সময়ে কোনো মানসম্পন্ন ও আকর্ষণীয় কোম্পানি আইপিওর মাধ্যমে বাজারে আসেনি।
বাজার পুনর্গঠনে ৯ দফা প্রস্তাব: বিসিআইএ বাজারকে স্থিতিশীল করতে ৯টি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
• একই শেয়ার ব্যবহার করে ডেইলি ট্রেডিং বা নেটিং নিষিদ্ধ করা।
• একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের ক্ষতিগ্রস্ত শেয়ারহোল্ডারদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
• পদ্মা সেতুর মতো বড় প্রকল্প এবং বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে বাজারে তালিকাভুক্ত করা।
• ৫০ কোটি টাকার বেশি তহবিলের প্রয়োজন হলে কোম্পানিগুলোর জন্য শেয়ারবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করা।
• দুর্বল কোম্পানির পর্ষদ পুনর্গঠন এবং পরিচালকদের শেয়ার কেনাবেচা স্থগিত রাখা।
• ২০১০ সাল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা তহবিল থেকে ক্ষতিপূরণ প্রদান।
এএসেএম/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম চীনের ফুটবল ম্যাচ: খেলাটি সরাসরি দেখুন (LIVE)
- বাংলাদেশ বনাম চীনের ফুটবল ম্যাচ: কবে, কখন, কোথায়-জানুন সময়সূচি
- প্রকাশিত হলো ডিগ্রি ১ম বর্ষ পরীক্ষার ফলাফল, দেখুন এখানে
- পুলিশে ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ: আবেদনের যোগ্যতা ও নিয়মাবলী
- বাংলাদেশ বনাম চীন ফুটবল ম্যাচ: জেনে নিন ফলাফল
- উৎপাদন বন্ধ থাকায় ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামল তালিকাভুক্ত কোম্পানি
- বিক্রিতে ধস, অথচ শেয়ার দরে উল্লম্ফন: জি কিউ বলপেনের রহস্য কী?
- সেশনজটমুক্ত ক্যাম্পাস গড়তে ঢাবির যুগান্তকারী ‘লস রিকভারি প্ল্যান’
- ডুসাসের নেতৃত্বে জিসান-সাবরিন
- জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য তালিকা প্রকাশ করল সরকার
- মারা যাওয়ার আগে কী বার্তা দিলেন জাহের আলভীর স্ত্রী?
- ফুটবল এশিয়ান কাপ: বাংলাদেশ দল যে গ্রুপে-দেখুন ম্যাচের সময়সূচী
- একই কক্ষপথে যাত্রা, এক বছর পর তিন মেরুতে তিন কোম্পানি
- আতঙ্ক কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াল ডিএসই, সূচকের বড় লাফ
- আকাশপথে চরম আতঙ্ক; মধ্যপ্রাচ্যের সব রুটে ফ্লাইট স্থগিত করল ঢাকা