ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি ২০২৬, ২২ পৌষ ১৪৩২

সাবেক মন্ত্রী ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের ভুয়া ঋণ কেলেঙ্কারি ফাঁস

২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ১৮:৪৫:০৫

সাবেক মন্ত্রী ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের ভুয়া ঋণ কেলেঙ্কারি ফাঁস

নিজস্ব প্রতিবেদক: কাগজে প্রতিষ্ঠানের মালিক সাজিয়ে ভুয়া ঋণ অনুমোদনের মাধ্যমে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও প্রায় ৯.৫ কোটি টাকা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগে দুদক ৩৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন করেছে। এতে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও এমডি-সহ বিভিন্ন কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী আছেন।

দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন জানিয়েছেন, রবিবার (৪ জানুয়ারি) প্রধান কার্যালয় থেকে চার্জশিট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মামলাটি ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থার উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান খান দায়ের করেছিলেন। মূলত ৩১ জনকে আসামি করা হলেও, চার্জশিটে সংখ্যা বেড়ে ৩৬ জন হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের সাবেক এফএভিপি ও ক্রেডিট ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল এবং আলফা ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী কাজী মোহাম্মদ দিলদার আলম মারা যাওয়ায় তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। নতুন করে অরমিটের উৎপাল পাল, কর্মচারী প্রদীপ ও সুমন, ড্রাইভার ইলিয়াস তালুকদার, তার ভাই ওসমান তালুকদার, জাহিদ এবং হুন্ডি ব্যবসায়ী জাহিদ ও শহীদকে আসামি করা হয়েছে।

মূল আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তার স্ত্রী, ইউসিবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান, ভারপ্রাপ্ত এমডি আরিফ কাদরী, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বজল আহমেদ বাবুল, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান এম. এ. সবুর, ব্যাংকের সাবেক পরিচালক ইউনুছ আহমদ, এবং আরামিট গ্রুপভুক্ত বিভিন্ন কর্মকর্তারা। এছাড়া ভিশন ট্রেডিং ও এর সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন কাগজি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও কর্মচারীরাও আসামি।

তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চট্টগ্রামের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের পোর্ট শাখা থেকে ভিশন ট্রেডিং নামে কোনো বাস্তব অস্তিত্ব নেই এমন একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে ২৫ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়। ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার মো. একরাম উল্লাহ এবং শাখা প্রধান ও ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ চৌধুরী কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই অ্যাকাউন্ট খোলেন। পরে ক্রেডিট কমিটি মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে ঋণ সুপারিশ করে, যা করপোরেট অফিসের প্রধান কার্যালয়ের ক্রেডিট কমিটিতে ১৭টি নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে পরিচালনা পর্ষদে প্রেরণ করা হয়। ৪৪৮তম পরিচালনা পর্ষদ সভায় ঋণ অনুমোদিত হয়।

ভিশন ট্রেডিং ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাগজি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর করা হয় আলফা ট্রেডিং, ক্লাসিক ট্রেডিং, মডেল ট্রেডিং ও ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ে। প্রতারণা, জালিয়াতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে মোট ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এই ঘটনায় দণ্ডবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী অভিযোগ আনা হয়েছে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত