ঢাকা, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২
ওসমান হাদি হ'ত্যা: ভিডিও বার্তায় যা বলল আসামী ফয়সাল করিম
নিজস্ব প্রতিবেদক: ওসমান হাদি হত্যা মামলার আলোচিত আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ দীর্ঘদিন আড়ালে থাকার পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এসেছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাকে দেখা যায়, যেখানে তিনি হত্যাকাণ্ড নিয়ে নিজের অবস্থান ও কিছু দাবি তুলে ধরেন।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়। পরিস্থিতি পরিষ্কার করতে ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করে একটি পর্যবেক্ষণমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করে ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ডিসেন্ট’।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, আলোচিত ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) দিয়ে তৈরি নয়। ফয়সাল করিমের বাস্তব চেহারার গঠন, মুখভঙ্গি ও শারীরিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে ভিডিওর দৃশ্যগুলোর পূর্ণ মিল পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ বিশ্লেষণ এবং অন্তত চারটি নির্ভরযোগ্য এআই শনাক্তকরণ টুল ব্যবহার করে নিশ্চিত হওয়া গেছে ভিডিওটি আসল।
ভিডিওর কিছু অংশে ফয়সালের থুতনির দাড়ি অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছে দ্য ডিসেন্ট। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি মূলত ভিডিও ধারণের সময় ব্যবহৃত কোনো ‘ফিল্টার’-এর কারিগরি প্রভাব, যা পুরো ভিডিওকে এআই-সৃষ্ট বলে প্রমাণ করে না।
ভিডিওতে ফয়সাল করিম দাবি করেছেন, তিনি বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। তবে দ্য ডিসেন্ট বলছে, কেবল এই ভিডিওর ভিত্তিতে তার ভৌগোলিক অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ দাবির পক্ষে তিনি লোকেশন তথ্য বা পাসপোর্ট সিলসহ কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণও উপস্থাপন করেননি।
হত্যাকাণ্ডের সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে নিজের উপস্থিতি অস্বীকার করে ফয়সাল ভিডিওতে দাবি করেন, তিনি ওই বাইকে ছিলেন না। তবে দ্য ডিসেন্ট এই দাবিকে সরাসরি ‘মিথ্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। প্রতিষ্ঠানটির আগের বিশ্লেষণ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে উঠে এসেছে—মোটরসাইকেলের পেছনে বসে গুলি চালিয়েছিলেন ফয়সাল করিম নিজেই, আর চালকের আসনে ছিলেন তার সহযোগী আলমগীর শেখ। দেশের শীর্ষ গণমাধ্যমেও এসব তথ্য প্রমাণসহ প্রকাশিত হয়েছে।
এছাড়া ভিডিওতে ফয়সাল অভিযোগ করেন, মন্ত্রণালয় থেকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ওসমান হাদি তার কাছ থেকে অগ্রিম পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছিলেন। তবে হাদির মৃত্যুর পর এ দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, জীবিত অবস্থায় হাদির বিরুদ্ধে তদবির বাণিজ্যের কোনো অভিযোগ ছিল না। উল্টো তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অনিয়মের বিরুদ্ধে বরাবরই সরব ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন শরীফ ওসমান হাদি। মতিঝিল মসজিদে জুমার নামাজ শেষে প্রচারণা চালিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে চলন্ত অবস্থায় গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
হত্যাকাণ্ডের ১৮ দিন পর রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে আসামিরা অবৈধ পথে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে প্রবেশ করেছেন। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ছয়জন আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং চারজন সাক্ষী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- পাকিস্তান বনাম যুক্তরাষ্ট্র: কখন, কোথায় সরাসরি Live দেখবেন জানুন
- ঢাকা-৮ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, ১২ কেন্দ্রের ফলাফলে এগিয়ে কে?
- ঢাকা-১৭ আসনে ১৮ কেন্দ্রের ফল: এগিয়ে তারেক রহমান
- ঢাকা-৮ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, ৩ কেন্দ্রের ফলাফলে এগিয়ে কে?
- বিশ্বরেকর্ড জুটিতে আমিরাতকে ১০ উইকেটে উড়াল নিউজিল্যান্ড
- কুমিল্লা-৪ আসনে ৪৬ কেন্দ্রের ফল: তিনগুণেরও বেশি ভোটে এগিয়ে হাসনাত
- ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২: ৩৩ কেন্দ্রের ফলে এগিয়ে রুমিন ফারহানা
- পঞ্চগড়-১ আসনে ৮ কেন্দ্রের ফল: সারজিস আলম এগিয়ে
- ঢাকা-১৫ আসনে জয়ী জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন
- ভোটের ফল পাওয়া যাবে কখন থেকে?
- ঢাকা-৯ আসনে দুই কেন্দ্রের ফলে এগিয়ে কে?
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বে লিজিং
- ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ৮ কেন্দ্রের ফল: এগিয়ে মির্জা ফখরুল
- ৩৬০ মিটার, মোবাইল নিষেধাজ্ঞা ও ক্ষমতার রাজনীতি: নিরাপত্তার নামে কতটা নিয়ন্ত্রণ গ্রহণযোগ্য?