ঢাকা, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩
হাদি হ'ত্যার তদন্ত কতদূর? আজ সংবাদ সম্মেলনে জানাবে প্রশাসন
নিজস্ব প্রতিবেদক: শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তদন্ত কোথায় দাঁড়িয়ে তা জনসম্মুখে তুলে ধরতে রোববার (২১ ডিসেম্বর) একযোগে সংবাদ সম্মেলনে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ সম্মেলনে র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে তদন্তের সর্বশেষ অগ্রগতি ও গ্রেপ্তার সংক্রান্ত তথ্য জানাবেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, যৌথভাবে পরিচালিত এই সংবাদ সম্মেলনে এখন পর্যন্ত সংগৃহীত আলামত, সন্দেহভাজনদের ভূমিকা এবং তদন্তের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হবে।
এদিকে, হাদির ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টার মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) আদালতের এই আদেশের ফলে মামলার তদন্ত নতুন মাত্রা পেয়েছে।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ঘটনাটির তদন্তে সম্পৃক্ত সব সংস্থা একসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সার্বিক অগ্রগতি জানাবে। এতে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হবে।’
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন শরিফ ওসমান হাদি। ঘটনার দিন প্রচারণা শেষে ফেরার পথে তাঁকে গুলি করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এ পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে আটজনকে আটক করেছে র্যাব।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, সহযোগী মো. কবির ওরফে দাঁতভাঙা কবির, মো. ফয়সাল এবং হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক আব্দুল হান্নান। এছাড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে লোক পারাপারে জড়িত সঞ্জয় চিসিম ও সিবিয়ন দিও এবং ফয়সালকে পালাতে সহায়তাকারী মো. নুরুজ্জামান নোমানীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলায় আরও দুই গাড়িচালককে সাক্ষী করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলাটি করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। গত ১৪ ডিসেম্বর রাতে পল্টন থানায় দায়ের করা ওই মামলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক শরিফ ওসমান হাদি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নিয়ে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ গড়ে তোলেন। পাশাপাশি তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার।
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা অবস্থায় মোটরসাইকেলে আসা এক সন্ত্রাসী হাদির মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে বিদেশে নেওয়া হলেও ছয় দিন পর বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তাঁর মরদেহ দেশে আনা হয়।
পরদিন শনিবার (২০ ডিসেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিকের ইমামতিতে হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে বিকেল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধি চত্বরে তাঁকে দাফন করা হয়।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার তারিখ জেনে নিন
- বাংলাদেশের জলবায়ু অগ্রাধিকার তুলে ধরতে তুরস্ক যাচ্ছে YFB-এর প্রতিনিধিদল
- মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেবে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (০৩ নভেম্বর)
- বিশ্ববিদ্যালয়-মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা কি পেছাচ্ছে?
- পুলিশের ৭৮ পরিদর্শক পদোন্নতি পেয়ে হলেন এএসপি
- ঢাবির ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
- সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার্থীদের ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে যা জানা গেল
- যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণীর সঙ্গে যৌন বিকৃতির অভিযোগে সাবেক শিবির নেতা গ্রেপ্তার
- প্রবাসীর সন্তানেরা পাবে শিক্ষাবৃত্তি, জানুন আবেদন পদ্ধতি
- কিউএসের এশিয়া র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের শীর্ষ ২০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা প্রকাশ
- ফের স্বর্ণের দাম বেড়েছে, ভরিতে কত?
- জাতীয়করণের তালিকায় ৫ বেসরকারি কলেজ
- সরাসরি সাক্ষাৎকারে ১৩০ পদে নিয়োগ দেবে মেঘনা গ্রুপ
- ২০২৭ সালে সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ