ঢাকা, শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২

জলবায়ু তহবিলের নামে ঋণ নেওয়া স্পষ্ট অবিচার: প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

২০২৫ ডিসেম্বর ১৩ ২১:২৫:১২

জলবায়ু তহবিলের নামে ঋণ নেওয়া স্পষ্ট অবিচার: প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক: জলবায়ু সংকটের দায়ভার বাংলাদেশের মতো ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর নয়। তাই জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় যে অর্থায়ন (ক্লাইমেট ফাইন্যান্স) করা হয়, তা ঋণ হিসেবে দেওয়া স্পষ্ট অবিচার। এখন আর কেবল ‘জলবায়ু ন্যায্যতা’ বা ইকুইটি যথেষ্ট নয়, বরং প্রয়োজন ‘জলবায়ু সুবিচার’।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা) আয়োজিত এক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বের মোট কার্বন নিঃসরণের মাত্র ০.৪ শতাংশের জন্য দায়ী, অথচ ক্ষতির তালিকায় আমরা শীর্ষে। আমাদের দোষে এই ক্ষতি হয়নি, তাই ক্ষতিপূরণ হিসেবে ঋণ নেওয়া কেন? এটি মানবাধিকারের প্রশ্ন।’

তিনি ‘নেট জিরো’ ও ‘নেচার বেজড সল্যুশন’-এর মতো পশ্চিমা পরিভাষাগুলোর সমালোচনা করে বলেন, ‘নেট জিরো’ আসলে এক ধরনের বিভ্রান্তি। একদিকে কার্বন নিঃসরণ বাড়িয়ে অন্যদিকে প্রযুক্তির মাধ্যমে তা সমন্বয়ের চেষ্টা ধোঁকাবাজি ছাড়া কিছু নয়। আমাদের প্রকৃত ‘জিরো কার্বন’ দরকার। এছাড়া হাওর-বাঁওড় ও জলাশয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইলিশসহ মৎস্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সম্মেলন উদ্বোধন করেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য ধনী দেশগুলো দায়ী। তাদের বিলম্বিত পদক্ষেপের কারণে দরিদ্র দেশগুলো ভুগছে। আমরা তাদের কাছে ঋণী নই, বরং ক্ষতির দায় তাদেরই নিতে হবে।’

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ধরা-এর আহ্বায়ক ও জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার। এতে দেশি-বিদেশি পরিবেশবিদ ও গবেষকরা অংশ নেন।

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন