ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২
চার নারীর তিনজনই নির্যাতিত , নতুন জরিপে উন্মোচিত ভয়াবহ বাস্তবতা
নিজস্ব প্রতিবেদক :বাংলাদেশে প্রতি চারজন নারীর মধ্যে তিনজনই জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে স্বামী বা জীবনসঙ্গীর দ্বারা সহিংসতার শিকার হয়েছেন—এমন ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) যৌথভাবে পরিচালিত ‘নারীর প্রতি সহিংসতা জরিপ ২০২৪’-এ। সোমবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে জরিপের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
জরিপে দেখা গেছে, ৭৬ শতাংশ নারী অন্তত একবার স্বামীর সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এই সহিংসতা বিভিন্নভাবে প্রকাশ পেয়েছে—শারীরিক, যৌন, মানসিক, অর্থনৈতিক নির্যাতন এবং নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ হিসেবে। ভুক্তভোগী নারীদের মধ্যে ৬২ শতাংশ কখনো তাদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেননি, যা আরও উদ্বেগজনক।
এছাড়া, নন-পার্টনারদের (যাঁরা স্বামী বা প্রাক্তন স্বামী নন) হাতেও নারীরা সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। ১৫ বছর বয়স থেকে ১৫ শতাংশ নারী শারীরিক সহিংসতার এবং ২.২ শতাংশ যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এই সহিংসতা অনেক সময় আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু বা পরিচিত পুরুষদের মাধ্যমেই সংঘটিত হয়েছে।
তবে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে। ২০১৫ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে স্বামী কর্তৃক সহিংসতার হার কিছুটা কমেছে। ২০১৫ সালে এই হার ছিল ৬৬ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ৪৯ শতাংশে।
জরিপে আরও দেখা যায়, জীবদ্দশায় অর্ধেকেরও বেশি নারী (৫৪ শতাংশ) শারীরিক বা যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। যাঁরা যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন, তাঁদের ৬০ শতাংশ গত এক বছরে একাধিকবার এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন। এমনকি গর্ভাবস্থায়ও নারীরা নিরাপদ নন—৭.২ শতাংশ নারী গর্ভাবস্থায় শারীরিক এবং ৫.৩ শতাংশ যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন, যা মা ও শিশুর জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।
প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৮.৩ শতাংশ নারী। এই সহিংসতার মধ্যে রয়েছে যৌন ব্ল্যাকমেইল, ছবি বা ভিডিওর অপব্যবহার এবং অনলাইন মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ।
সহিংসতার শিকার হলেও নারীদের অনেকেই চিকিৎসা বা আইনি সহায়তা নিচ্ছেন না। মাত্র ১৪.৫ শতাংশ নারী চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ৭.৪ শতাংশ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। বেশিরভাগ নারীই স্থানীয় নেতাদের কাছে যান সাহায্যের আশায়। নন-পার্টনার সহিংসতার ক্ষেত্রে মাত্র ৩.৮ শতাংশ নারী আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন, যাঁদের বেশিরভাগ পুলিশের কাছে সহায়তা চেয়েছেন।
জরিপে আরও দেখা যায়, দেশের মাত্র ৪৮.৫ শতাংশ নারী জানেন কোথায় সহিংসতার অভিযোগ জানাতে হয়। আর ১০৯ হেল্পলাইন সম্পর্কে জানেন মাত্র ১২.৩ শতাংশ নারী।
সহিংসতার পেছনে যেসব বিষয় ঝুঁকি তৈরি করে তার মধ্যে রয়েছে নারীর কম বয়সে বিয়ে, যৌতুক প্রথা, স্বামীর মাদকাসক্তি, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক এবং বস্তিতে বসবাস। অপরদিকে, স্বামীর উচ্চতর শিক্ষা সহিংসতার ঝুঁকি কমায়। নন-পার্টনার সহিংসতার ক্ষেত্রে নারীর অল্প বয়স, কম শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং প্রতিবন্ধিতা বড় ঝুঁকির কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
জরিপের মূল উদ্দেশ্য ছিল নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা। প্রতিবেদনে সহিংসতা প্রতিরোধে বিনিয়োগ, আইনি সহায়তা, জেন্ডার সমতা এবং মানবাধিকারের ভিত্তিতে নীতিমালা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ডুয়া/নয়ন
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বিডি থাই ফুড
- কী আছে এপস্টেইন ফাইলে? কেন এত হইচই বিশ্বজুড়ে?
- ইপিএস প্রকাশ করেছে কনফিডেন্স সিমেন্ট
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সোনালী পেপার
- ইপিএস প্রকাশ করেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইজেনারেশন
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সিলকো ফার্মা
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সাফকো স্পিনিং
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইন্দো-বাংলা ফার্মা
- নতুন জাতীয় দৈনিকে ক্যারিয়ার গড়ার বড় সুযোগ
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইনটেক
- এক লাফে ভরিতে ১৪ হাজার টাকা কমলো সোনার দাম
- ইপিএস প্রকাশ করেছে এসিআই
- ইপিএস প্রকাশ করেছে গোল্ডেন সন