ঢাকা, রবিবার, ৩১ আগস্ট ২০২৫, ১৫ ভাদ্র ১৪৩২
ট্রাম্পের নতুন ভিসা ফি: পর্যটক কমার আশঙ্কা
.jpg)
যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকারীদের ওপর ২৫০ ডলারের নতুন ‘ভিসা ইনটিগ্রিটি ফি’ আরোপের ফলে দেশটির সংকটাপন্ন পর্যটন খাতে আরও চাপ বাড়তে পারে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসননীতি এবং অনেক দেশের প্রতি তার বৈরি মনোভাবের কারণে ইতিমধ্যে দেশটিতে বিদেশিদের আগমন কমেছে।
মার্কিন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি পর্যটকদের আগমন ৩.১ শতাংশ কমে ১৯.২ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। এটি চলতি বছরে পঞ্চম মাসের পতন। এই প্রবণতা সেই প্রত্যাশার বিপরীত, যেখানে ২০২৫ সালে বিদেশি পর্যটকদের আগমন প্রাক-মহামারি সময়ের ৭৯.৪ মিলিয়ন অতিক্রম করবে বলে আশা করা হয়েছিল।
আগামী ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন এই ফি মেক্সিকো, আর্জেন্টিনা, ভারত, ব্রাজিল ও চীনের মতো ভিসা ছাড়ের আওতায় থাকা দেশগুলোর ভ্রমণকারীদের জন্য নতুন একটি বাধা। এই নতুন ফি যুক্ত হওয়ায় মোট ভিসা খরচ দাঁড়াবে ৪৪২ ডলার, যা বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ ভিসা ফি। মার্কিন ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশন এই তথ্য জানিয়েছে।
বিশ্বব্যাপী ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা সংস্থা আলটুরের প্রেসিডেন্ট গ্যাব রিজ্জি বলেন, “ভ্রমণকারীর অভিজ্ঞতার ওপর যেকোনো বৈসাদৃশ্য ভ্রমণের পরিমাণ কমিয়ে দেবে। গ্রীষ্মকাল শেষ হওয়ার পর এটি আরও গুরুতর সমস্যা হয়ে উঠবে, কারণ আমাদের ভ্রমণ বাজেট এবং নথিপত্রে এই ফি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।”
এদিকে, ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিল জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের খরচ ২০২৪ সালের ১৮১ বিলিয়নের তুলনায় ২০২৫ সালে ১৬৯ বিলিয়নের নিচে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
নতুন এই ফি ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি একটি হতাশাজনক ধারণাকে আরও শক্তিশালী করছে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ও ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকসের মতো বড় আয়োজন সামনে থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্পের অভিবাসননীতি, বিদেশি সহায়তা কমানো এবং ব্যাপক শুল্কারোপের কারণে যুক্তরাষ্ট্র গন্তব্য হিসেবে আকর্ষণ হারাচ্ছে।
এছাড়াও, ট্রাম্প প্রশাসন বুধবার শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও মিডিয়ার সদস্যদের ভিসার মেয়াদ কঠোর করার জন্য সরকারি বিধি-নিষেধের প্রস্তাব করেছে। এর আগে আগস্টের শুরুতে প্রশাসন জানিয়েছিল, পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভিসার জন্য সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলারের বন্ড প্রয়োজন হতে পারে, যা প্রায় এক বছর ধরে কার্যকর থাকবে। এটি মূলত ভিসা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি থাকার বিরুদ্ধে নেওয়া একটি পদক্ষেপ।
অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান ট্যুরিজম ইকোনমিকসের পরিচালক আরান রায়ান বলেন, “আমরা এটিকে একটি স্থায়ী ধাক্কা হিসেবে দেখছি এবং অনুমান করছি, এটি পুরো প্রশাসনের মেয়াদে প্রভাব ফেলবে।”
নতুন ভিসা ফি সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর ওপর। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে তুলনামূলকভাবে ভালো ফল এনেছিল এই দেশগুলো। জাতীয় ভ্রমণ ও পর্যটন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মেক্সিকো থেকে আগমন ২০২৫ সালে প্রায় ১৪ শতাংশ, আর্জেন্টিনা থেকে ২০ শতাংশ এবং ব্রাজিল থেকে ৪.৬ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে, মধ্য আমেরিকা থেকে ভ্রমণ ৩ শতাংশ এবং দক্ষিণ আমেরিকা থেকে ০.৭ শতাংশ বেড়েছে, কিন্তু পশ্চিম ইউরোপ থেকে ভ্রমণ ২.৩ শতাংশ কমেছে।
চীনের ক্ষেত্রে মহামারীর পর থেকে আগমন কম রয়ে গেছে, যা জুলাই পর্যন্ত ২০১৯ সালের তুলনায় ৫৩ শতাংশ কম। ভারতের ভ্রমণও এ বছর ২.৪ শতাংশ কমেছে, যার অন্যতম কারণ শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ১৮ শতাংশ হ্রাস পাওয়া। এখন বিদেশি ভ্রমণকারীরা যেমন উচ্চ ফি দেবে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণকারীরাও বিদেশে কঠোর শর্ত আরোপের বিষয়ে উদ্বিগ্ন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- সম্ভাবনার নতুন দিগন্তে শেয়ারবাজারের খান ব্রাদার্স
- দুই খবরে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ শেয়ারের চমক
- মূলধন ঘাটতিতে দুই ব্রোকারেজ হাউজ, ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
- চলতি বছর শেয়ারবাজারে আসছে রাষ্ট্রায়াত্ব দুই প্রতিষ্ঠান
- সাকিবের মোনার্কসহ ৮ ব্রোকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
- হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রতারণা, বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করল ডিএসই
- বিএসইসির নতুন মার্জিন বিধিমালার খসড়া অনুমোদন
- বিমা আইন সংস্কার: বিনিয়োগ ও আস্থায় নতুন দিগন্ত
- তালিকাভুক্ত কোম্পানির ১৫ লাখ শেয়ার কেনার ঘোষণা
- কোম্পানির অস্বাভাবিক শেয়ারদর: ডিএসইর সতর্কবার্তা
- মার্জারের সাফল্যে উজ্জ্বল ফার কেমিক্যাল
- তিন শেয়ারের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি, ডিএসইর সতর্কবার্তা
- শেয়ারবাজারে রেকর্ড: বছরের সর্বোচ্চ দামে ১৭ কোম্পানি
- শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পর প্রথম ‘নো ডিভিডেন্ড’
- ব্যাখ্যা শুনতে ডাকা হচ্ছে শেয়ারবাজারের পাঁচ ব্যাংককে