ঢাকা, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩
অবহেলায় বিপজ্জনক হতে পারে হার্নিয়া
হার্নিয়া সাধারণ একটি স্বাস্থ্য সমস্যা। মানুষের পেটের ভেতরে খাদ্যনালী মুখ থেকে পায়ু পর্যন্ত প্রায় বিশ থেকে ত্রিশ ফুট লম্বা হয়ে বিস্তৃত থাকে। হার্নিয়ার ক্ষেত্রে পেটের দুর্বল অংশের পেশি বা কলা ভেদ করে কোনো অভ্যন্তরীণ অঙ্গ বা অঙ্গের অংশ বাইরে বেরিয়ে আসে। এ সময় কুঁচকি বা অণ্ডথলিতে অস্বাভাবিক ফোলা দেখা দেয় এবং ব্যথা অনুভূত হয়।
হার্নিয়ার বিভিন্ন ধরন রয়েছে যেমন ইনগুইনাল (কুঁচকিতে), আম্বিলিকাল (নাভিতে) এবং হাইয়াটাল (ডায়াফ্রামে)। সাধারণত শরীরের আক্রান্ত স্থানে ফোলা বা গিঁটের মতো পিণ্ড দেখা যায়, যা ব্যথাযুক্তও হতে পারে আবার কখনো ব্যথাহীনও হতে পারে। এই সমস্যা শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক সবার মধ্যেই দেখা যায় এবং তীব্রতার উপর ভিত্তি করে এর চিকিৎসা পদ্ধতিও ভিন্ন হয়ে থাকে।
হার্নিয়া নামটি অনেকের কাছে পরিচিত হলেও এর বিষয়ে সচেতনতা এখনো কম। অথচ অবহেলা করলে এ রোগ মারাত্মক জটিলতা ডেকে আনতে পারে। তবে সঠিক সময়ে চিকিৎসা ও প্রয়োজনে ছোট একটি অপারেশন করালে রোগী দ্রুতই সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন।
হার্নিয়া হলে কী হয়
সাধারণভাবে হার্নিয়া হল পেটের দেওয়ালের একটি ত্রুটি বা ফাঁক যার মধ্যে দিয়ে পেটের ভেতরের চর্বি বা খাদ্যনালী বেরিয়ে আসে। এর ফলে পেটের বা কুঁচকির কোনো অংশ ফুলে ওঠে এবং অনেক সময়ে ব্যথার সৃষ্টি হয়।
হার্নিয়া হওয়ার কারণ
হার্নিয়ার মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে জন্মগত ত্রুটি, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে পেশির দুর্বলতা এবং অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা। এছাড়া আরও কিছু কারণ এ সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায় যেমন দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য, প্রস্টেট বড় হয়ে যাওয়ায় চাপ দিয়ে প্রস্রাব করা, ক্রমাগত কাশি, পেটে আঘাত বা পূর্বের অস্ত্রোপচার, যথেচ্ছভাবে ভারী ওজন তোলা এবং ধূমপান। পুরুষদের ক্ষেত্রে সাধারণত হার্নিয়া কুঁচকি অঞ্চলে বেশি দেখা যায়, আর মহিলাদের ক্ষেত্রে এটি প্রায়শই নাভির কাছাকাছি পেটের অংশে দেখা দেয়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে হার্নিয়া জটিল আকার ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে হার্নিয়ার ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে আসা অন্ত্র বা অঙ্গ জড়িয়ে গেলে তীব্র ব্যথা ও বমি হতে পারে। এ অবস্থাকে অবস্ট্রাকটিভ হার্নিয়া বা স্ট্র্যাঙ্গুলেটেড হার্নিয়া বলা হয়, যা দ্রুত চিকিৎসা না পেলে প্রাণঘাতী পর্যন্ত হতে পারে।
হার্নিয়ার সঠিক চিকিৎসা
একটি লক্ষণীয় বিষয় হল হার্নিয়ার চিকিৎসা ওষুধের দ্বারা সম্ভব নয়। একমাত্র অপারেশনের দ্বারাই হার্নিয়ার চিকিৎসা সম্ভব। হার্নিয়া চিকিৎসার ভিত্তি হল Mesh বা জালি বসিয়ে হার্নিয়া রিপেয়ার। চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে হার্নিয়া অপারেশন এখন অনেক উন্নততর হয়েছে এবং ল্যাপারোস্কপি সার্জারি বা মিনিমালি ইনভেসিভ (MIS) পদ্ধতিতে করা হয়ে থাকে। উন্নত প্রযুক্তি এবং শল্য চিকিৎসকের দক্ষতার ওপর হার্নিয়া চিকিৎসার সাফল্য নির্ভর করে। TAPP, TEP, eTEP, TAR, IPOM হল হার্নিয়া চিকিৎসার বিভিন্ন প্রকার অ্যাডভান্স ল্যাপারোস্কপি সার্জারি।
উন্নত সার্জারিতে ব্যথা প্রায় নেই
ল্যাপারোস্কপি সার্জারিতে পেটের কয়েকটি ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে দূরবীনজাতীয় যন্ত্র ব্যবহার করে অপারেশন করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনে জাল (মেশ) বসানো হয়, যার ফলে রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন, ব্যথা তুলনামূলকভাবে কম হয় এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতেও সময় লাগে না। বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে রোবটিক সার্জারির মাধ্যমেও হার্নিয়ার চিকিৎসা করা হচ্ছে।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের ১ম টি-টোয়েন্টি-দেখুন সরাসরি (LIVE)
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা: দেখুন সবগুলো প্রশ্নের সঠিক সমাধান
- স্কুলছাত্রী থেকে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধার সাথে অন্তরঙ্গের পর ভিডিও কুয়েট ছাত্রের
- বিকালে আসছে ১৯ কোম্পানির ডিভিডেন্ড-ইপিএস
- স্কলারশিপ দিচ্ছে মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়, জেনে নিন আবেদন পদ্ধতি
- বুলগেরিয়ার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হলো ঢাবি শিক্ষার্থীর প্রামাণ্যচিত্র
- দেশে সোনার দামে বড় পতন
- বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১০০ ধাপ এগিয়েছে ঢাবি, যৌথভাবে দেশসেরা
- এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে যা জানাল শিক্ষাবোর্ড
- বদলে যাচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম
- নবনিযুক্ত সিন্ডিকেট সদস্য মোর্শেদ হাসান খানকে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের শুভেচ্ছা
- ঢাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ বাসা থেকে উদ্ধার
- বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের সিনেট সদস্য হলেন ৫ সংসদ সদস্য
- প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে ভাইভার সময়সূচি নিয়ে যা জানা গেল
- বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ভিসা স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রে