ঢাকা, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২
প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ নিয়ে এনসিপি'র প্রতিক্রিয়া
জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়তে থাকা উত্তাপের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাব্য সময় জানিয়ে দিয়েছেন। তার এই ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মনে করেন, এ ঘোষণায় কিছু রাজনৈতিক দল আশ্বস্ত হলেও মূল চাবিকাঠি এখনো রয়ে গেছে "জুলাই সনদ"–এর মধ্যে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন আয়োজনের আগে প্রয়োজন কাঙ্ক্ষিত সংস্কার ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা। তাই সরকারকে এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে সেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর।
শুক্রবার (০৬ জুন) রাতে বাংলামোটরে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা জানান তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা জাতীয় নাগরিক পার্টি সবসময় বলে আসছি বিচার, সংস্কার এবং নির্বাচন এই সরকারের প্রধানতম কর্তব্য। ঐক্যমত কমিশনের বৈঠকে আমরা বলেছিলাম যাতে জুলাই সনদ হওয়ার পরেই যেন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে। আজ (শুক্রবার) প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছেন। কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচনের তারিখ জানতে চাচ্ছিল তাদেরকে হয়ত আশ্বস্ত করার জন্য তিনি বলেছেন।
গণমাধ্যমকে দেয়া বক্তব্যে নাহিদ বলেন, গণঅভ্যুত্থান এবং জনগণের বৃহত্তর অংশকে আশ্বস্ত করার জন্য জুলাই সনদ অতি জরুরি। রাষ্ট্রের কি কি সংস্কার হচ্ছে এবং জুলাই ঘোষণাপত্র ঘোষণার জন্য সরকার ৩০ কার্যদিবস সময় চেয়েছিল তার কিছুদিন বাকি আছে। আশা করি সেটি যথাসময়ে হবে।
তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন জুলাই সনদ জুলাই মাসের মধ্যে হবে। জুলাই ঐক্যমতের ভিত্তিতে যদি সংস্কারের রূপরেখাটি আসে এরপর তিনি লেভেল ফিল্ড তৈরি করে নির্বাচনের দিকে যেতে পারেন। আমরা আপাতত প্রধান উপদেষ্টার ঘোষিত রোডম্যাপকে স্বাগত জানাই।
তিনি আরও বলেন, আমরা আগেও বলেছি জুলাই সনদ, সংস্কার ও বিচার যদি নিশ্চিত হয় ডিসেম্বর থেকে জুন যেকোনো সময়ই হতে পারে। এই মুহূর্তে জুলাই সনদটাই আমাদের প্রধান দাবি। এটি যাতে উনি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন।
এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, নির্বাচনের যেহেতু মাসটি ঘোষণা করা হয়েছে। সেটার জন্য আমরা নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করার কথা বলেছি, এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে সম্ভব না। এই প্রক্রিয়াগুলো যাতে দ্রুত শুরু হয় সরকারের প্রতি আমাদের এই আহ্বান থাকবে।
এর আগে এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম নিজের ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, জুলাইয়ের মধ্যে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ ও ‘জুলাই সনদ’ এবং মার্চের মধ্যে দৃশ্যমান বিচার ও মৌলিক সংস্কার সম্পন্ন হলে এপ্রিলে নির্বাচনে কোনো আপত্তি থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, এক যুগের অবৈধ নির্বাচন ও জুলাই অভ্যুত্থানের পরে যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে, সেখানে যেন ক্ষমতার অপব্যবহার, কালো টাকার প্রভাব বা পেশিশক্তির ব্যবহার না হয় সেজন্য সকলে সজাগ থাকতে হবে।
এনসিপি নেতা আরও জোর দিয়ে বলেন, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাচন কমিশন এবং বিচারবিভাগকে নিরপেক্ষ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো যেন কারও প্রভাবাধীন না হয় এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়, সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানান, ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বিডি থাই ফুড
- কী আছে এপস্টেইন ফাইলে? কেন এত হইচই বিশ্বজুড়ে?
- ইপিএস প্রকাশ করেছে কনফিডেন্স সিমেন্ট
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সোনালী পেপার
- ইপিএস প্রকাশ করেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইজেনারেশন
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সিলকো ফার্মা
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সাফকো স্পিনিং
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইন্দো-বাংলা ফার্মা
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস
- নতুন জাতীয় দৈনিকে ক্যারিয়ার গড়ার বড় সুযোগ
- শব-ই-বরাতের গুরুত্ব ও আমল
- ইপিএস প্রকাশ করেছে এসিআই
- এক লাফে ভরিতে ১৪ হাজার টাকা কমলো সোনার দাম
- ইপিএস প্রকাশ করেছে গোল্ডেন সন