ঢাকা, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
৯০ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বছরে ভাতা নিচ্ছে ২৪০০ কোটি টাকা
দেশে মুক্তিযোদ্ধার প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। ১৯৯৪ সালে সরকারি তালিকায় মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল ৮৬ হাজার। অথচ ২০২৪ সালে এসে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৫০ জনে। এই হিসাবে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার মুক্তিযোদ্ধা। এদের মধ্যে অন্তত ৯০ হাজার জনকে ভুয়া বলে উল্লেখ করছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
বর্তমানে একজন মুক্তিযোদ্ধা বছরে অন্তত ২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা করে ভাতা পান। এই হিসাবে ৯০ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা প্রতি বছর রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে প্রায় ২৪০০ কোটি টাকা তুলে নিচ্ছেন। যুদ্ধাহত ও খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা এর চেয়েও বেশি পরিমাণ অর্থ পান।
এই পরিস্থিতি নিরসনে এবং ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শনাক্তে কার্যক্রম শুরু করেছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)। প্রথম ধাপে কুমিল্লা জেলায় আজ (২ জুন) শুনানি শুরু হয়েছে। সোমবার কুমিল্লা সার্কিট হাউজে সকাল ১০টা থেকে প্রথম দফায় ৩১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের শুনানি চলছে।
জামুকার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ২ লাখ ৮ হাজার ৫০ জন। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি চাকরিতে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন ৮৯ হাজার ২৩৫ জন। এছাড়া বয়সসীমা লঙ্ঘনসহ নানা অভিযোগে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৭১৯টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু বয়সসীমা (১২ বছর ৬ মাসের কম) অতিক্রম করায় ২ হাজার ১১১ জনের সনদ বাতিল করা হয়েছে। গত ১৫ বছরে মোট ৩৯২৬ জনের গেজেট বাতিল হয়েছে।
বর্তমানে প্রতি মুক্তিযোদ্ধা মাসে ২০ হাজার টাকা ভাতা পান। এছাড়া দুটি ঈদে ১০ হাজার করে, ২৬ মার্চ ৫ হাজার এবং বাংলা নববর্ষে ২ হাজার টাকা দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে বছরে একজন মুক্তিযোদ্ধা কমপক্ষে ২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা সম্মানি পান।
ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক, যিনি জুলাই আন্দোলনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ দেন। এরপর দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে হাজার হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার অভিযোগ মন্ত্রণালয় ও জামুকায় জমা পড়ে। জেলা প্রশাসকদের চিঠি দিয়ে এসব অভিযোগ যাচাইয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
জামুকার মহাপরিচালক শাহিনা খাতুন বলেন, “কে আসল মুক্তিযোদ্ধা, আর কে ভুয়া—তা ঢাকায় বসে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তাই আমরা মাঠ পর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছি। কুমিল্লা শুনানির মাধ্যমে আমরা তথ্যপ্রমাণ, সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে প্রকৃত চিত্র উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছি।”
এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন সোমবার প্রকাশ করেছে জাতীয় দৈনিক যুগান্তর।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনো ম্যাচ: সরাসরি দেখা যাবে এখানে LIVE
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনো ফুটবল ম্যাচ, দেখুন একাদশ-দেখার উপায়
- বাংলাদেশ বনাম ভারতের ফুটবল ম্যাচ: সরাসরি দেখুন (LIVE)
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনোর ম্যাচটি শেষ-দেখুন ফলাফল
- ঢাবি অ্যালামনাই ইউকে শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা
- ঢাবি শিক্ষককে বিয়ে করলেন দীপ্তি চৌধুরী
- বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তানের ফুটবল ম্যাচ: এক ক্লিকে সরাসরি দেখুন
- আজ রাত ৮ টায় ভারত বনাম বাংলাদেশের ফুটবল ম্যাচ, কোথায় ও যেভাবে দেখবেন?
- সাফ নারী ফাইনাল: বাংলাদেশ বনাম ভারত, ৪ গোলে শেষ ম্যাচ, দেখুন ফলাফল
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনোম্যাচ: এক ক্লিকে সরাসরি দেখুন এখানে
- আজ বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান ম্যাচ: সরাসরি দেখবেন যেভাবে
- ঢাবির এসএম হলের নতুন প্রভোস্ট অধ্যাপক আবদুস সালাম
- পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই: ড. নিয়াজ আহমদ
- বাংলাদেশে যেসব চ্যানেলে দেখা যাবে ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬
- নতুন পে-স্কেলে কার বেতন কত বাড়তে পারে? আলোচনায় দুটি প্রস্তাব