ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
দুই মাসে ৪৮৩ পয়েন্ট হারাল শেয়ারবাজার, লেনদেন নেমেছে ইতিহাসের সর্বনিম্নে
গত দুই মাসে টানা দরপতন ও লেনদেনের রেকর্ড পতনের মধ্যে দিয়ে গেলেও, দেশের শেয়ারবাজারে এখন নতুন করে স্থিতিশীলতার আশা দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আস্থাহীনতার মধ্যে যখন বাজার চরম সংকটে, ঠিক তখনই অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান উপদেষ্টার পাঁচ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বাজার উন্নয়নে গঠনমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে ডিএসইএক্স সূচক প্রায় ৪৮৩ পয়েন্ট কমেছে, যা বাজারের দুরবস্থার ইঙ্গিত দেয়। ৪ আগস্ট লেনদেন নেমেছিল মাত্র ২০৭ কোটি টাকায়, যা চলতি বছরের সর্বনিম্ন। পরদিন ৫ আগস্ট, ছাত্র আন্দোলনের চাপে ফ্যাসিবাদী সরকারর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও ভারতে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় বাজারে বাড়তি অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে পদক্ষেপ নিতে শুরু করে। বিশেষ করে সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টা ঘোষিত পাঁচ নির্দেশনাকে কেন্দ্র করে বিএসইসি ও অর্থ মন্ত্রণালয় একযোগে কাজ শুরু করেছে।
এই নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে—বিদেশি ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বাজারে ছাড়া, তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে কর ব্যবধান বৃদ্ধি, বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় সংস্কার কার্যক্রম শুরু, বাজারে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বড় কোম্পানিগুলোকে ব্যাংকের পরিবর্তে বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহে উৎসাহিত করা।
এই পাঁচটি নির্দেশনার বাস্তবায়ন বাজারে আস্থার পুনর্গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন হলে বাজারে আস্থা ফিরবে। ডিএসই ও সিএসই কর্তৃপক্ষ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে এবং নীতিগত সহায়তা চাচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বাংলাদেশ ব্যাংকও ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে যা যা করা দরকার, সরকার এখন সেই পথে হাঁটছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বিনিয়োগকারীরা আশ্বস্ত হবেন এবং বাজার আবার গতি পাবে।
এদিকে, টানা পতনে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা এখন সরকারের হস্তক্ষেপে আশার আলো দেখছেন। অনেকে বলছেন, এবার যদি নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নে দৃঢ়তা দেখা যায়, তাহলে বাজার ঘুরে দাঁড়াতে বেশি সময় লাগবে না।
রাজনৈতিক পরিবর্তন ও বাজারে ধাক্কার পর অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গৃহীত এই পরিকল্পনাগুলো শুধু বাজারে স্থিতিশীলতা আনবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে একটি স্বচ্ছ ও গতিশীল শেয়ারবাজার গড়ার ভিত্তি তৈরি করবে—এমনটাই প্রত্যাশা সব মহলের।
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বিআইডব্লিউটিসির নতুন চেয়ারম্যান এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রো-ভিসি হলেন অধ্যাপক ড. সালমা বেগম
- ইউজিসির তিন সদস্যকে অব্যাহতি দিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়
- শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে ১১ দফা দাবি বিনিয়োগকারীদের
- অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের ৫০ হাজার টাকা অনুদান, আবেদন যেভাবে
- বাজারের ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক
- বিআইডব্লিউটিসি'র চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করলেন এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- ঢাবির লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে ২৪ শিক্ষার্থী পেলেন ডিরেক্টরস অ্যাওয়ার্ড
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ জুলাই)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৪ জুলাই)
- সিন্ডিকেট সভা ঘেরাও করলেন ডাকসু নেতারা
- ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান
- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানালেন নবনিযুক্ত ১২ কর্মকর্তা
- গাজী নজরুলকে বিয়েতে অনড় ছিল মেয়েটি
- আজকের খেলার সময়সূচি (২৫ জুলাই)