ঢাকা, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
পশ্চিমবঙ্গে তসলিমার নাটক নিষিদ্ধ করলেন মমতা
ডুয়া ডেস্ক: নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিনের বিতর্কিত নাটক ‘লজ্জা’ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নিষিদ্ধ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এই লেখিকা নিজেই।
স্ট্যাটাসে তসলিমা নাসরিন লিখেছেন, মমতা বন্দোপাধ্যায় আজ আমার লজ্জা উপন্যাস অবলম্বনে বিশ্বজিৎ সিংহ রচিত ও পরিচালিত লজ্জা নাটকটি পশ্চিমবঙ্গে নিষিদ্ধ করলেন। উত্তর ২৪ পরগণার গোবরডাঙ্গায় আর হুগলির পাণ্ডুয়ার নাট্যউৎসবে লজ্জা নাটকটি মঞ্চস্থ হওয়ার কথা ছিল। দু'মাস যাবৎ বিজ্ঞাপন যাচ্ছে নাট্যউৎসবের। আর আজ, বলা নেই কওয়া নেই, হঠাৎ মমতা বন্দোপাধ্যায়ের পুলিশ এসে জানিয়ে দিল, সব নাটক মঞ্চস্থ হবে, শুধু লজ্জা ছাড়া। নবপল্লী নাট্যসংস্থা দিল্লিতে তিনবার নাটকটি মঞ্চস্থ করেছে। তিনবারই প্রেক্ষাগৃহ পূর্ণ ছিল।
তিনি আরও লেখেন, পুলিশ জানিয়েছে লজ্জা মঞ্চস্থ হলে মুসলিমরা নাকি দাঙ্গা বাঁধাবে। মুসলিমরা দাঙ্গা বাঁধাবে এই অজুহাতে সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে লেখা আমার 'দুঃসহবাস' নামের মেগাসিরিয়ালটির সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছিলেন রাজ্য সরকার। লজ্জার ঘটনা বাংলাদেশের। কী কারণে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমরা বাংলাদেশের ঘটনা নিয়ে দাঙ্গা বাঁধাবে, আমার বোধগম্য নয়। মুসলিমরা দাঙ্গা বাঁধাবে এই অজুহাতে আমাকে এক সময় পশ্চিমবঙ্গ থেকেও বের করে দেওয়া হয়েছিল।
তসলিমা বলেন, যারা দাঙ্গা বাঁধাতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে, শিল্প সাহিত্যকে নিষিদ্ধ করা হয় কেন? শিল্পী সাহিত্যিকের কন্ঠরোধ করা হয় কেন? এই প্রশ্নটি আর কত যুগ একা একা আমিই করে যাব? আর কারও দায়িত্ব নেই অন্যায়ের প্রতিবাদ করার?
ওই পোস্ট দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর আরও একটা পোস্ট করেন তসলিমা নাসরিন। সেখানে তিনি লেখেন, মানবতা, উদারতা এবং অসাম্প্রদায়িকতার পক্ষে লেখা আমার তথ্যভিত্তিক উপন্যাস ''লজ্জা'' অবলম্বনে যে নাটকটি পশ্চিমবঙ্গে মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছিল, সেটিকে দাঙ্গা বাঁধতে পারে এই অজুহাতে মঞ্চস্থ হতে বাধা দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। অথচ ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে, দাঙ্গা হাঙ্গামার বিরুদ্ধে, লজ্জা একটি তীব্র প্রতিবাদ।
তসলিমা বলেন, আমার লজ্জা নামের গ্রন্থটি কিন্তু গত ৩০ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে প্রকাশিত হচ্ছে। গ্রন্থটি বরাবরই বেস্ট সেলার লিস্টে। আনন্দ পারবিলশার্সের এই গ্রন্থটির প্রকাশ তো নিষিদ্ধ হয়নি! এটিকেও নিষিদ্ধ করুন মাননীয় মূখ্যমন্ত্রী। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষে লেখা এই গ্রন্থটিকে নিষিদ্ধ না করে এই গ্রন্থ অবলম্বনে নির্মিত নাটক নিষিদ্ধ করাটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
লেখিকা বলেছেন, যাঁরা লজ্জা নাটকটি দেখতে চেয়েছিলেন, বা যাঁরা নাটকটির নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে চান, তাঁরা লজ্জা গ্রন্থটি কিনুন এবং পড়ুন। এবং অন্যকে পড়তে দিন।
প্রসঙ্গত, তসলিমা নাসরিনের লেখা ‘লজ্জা’ উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৯৩ সালে। কিছুদিনের মধ্যেই বাংলাদেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় এই বইটি। সেই উপন্যাস থেকেই তৈরি করা হয়েছিল ‘লজ্জা’ নাটক। যেটিও নিষিদ্ধ ঘোষণা করল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বিআইডব্লিউটিসির নতুন চেয়ারম্যান এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রো-ভিসি হলেন অধ্যাপক ড. সালমা বেগম
- ইউজিসির তিন সদস্যকে অব্যাহতি দিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়
- শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে ১১ দফা দাবি বিনিয়োগকারীদের
- অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের ৫০ হাজার টাকা অনুদান, আবেদন যেভাবে
- বাজারের ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক
- বিআইডব্লিউটিসি'র চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করলেন এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- ঢাবির লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে ২৪ শিক্ষার্থী পেলেন ডিরেক্টরস অ্যাওয়ার্ড
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ জুলাই)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৪ জুলাই)
- ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান
- সিন্ডিকেট সভা ঘেরাও করলেন ডাকসু নেতারা
- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানালেন নবনিযুক্ত ১২ কর্মকর্তা
- গাজী নজরুলকে বিয়েতে অনড় ছিল মেয়েটি
- আজকের খেলার সময়সূচি (২৫ জুলাই)