ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
দক্ষ চালক না পেলে খুঁজে দিতে হবে, ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলবে না: সড়কমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক: দক্ষ চালক পাওয়া যাচ্ছে না এমন অভিযোগ তুলে পরিবহন মালিকদের দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক, রেল ও নৌমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, একজন মালিকের ৫০টি গাড়ি থাকলে প্রতিটিতে দক্ষ চালক নিয়োগ দেওয়াও তাঁর দায়িত্ব। যোগ্য চালক খুঁজে না পেলে তাঁদের চিহ্নিত করে সরকারের কাছে পাঠাতে হবে। যাচাই-বাছাই করে তাঁদের লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে ফিটনেসবিহীন গাড়ি সড়কে চলতে দেওয়া যাবে না।
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে আজ বুধবার সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন শেখ রবিউল আলম।
মন্ত্রী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমানোর দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়। পরিবহন মালিক, চালক, যাত্রী, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। নিজের স্বার্থে অনিয়মকে সমর্থন করে অন্যের ওপর দায় চাপানোর প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তা না হলে নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা কঠিন হবে।
ফিটনেসবিহীন গাড়ি আটকানোর নির্দেশ
সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় পুলিশকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, কোনো গাড়ির ফিটনেস না থাকলে কিংবা চালক ঠিকমতো গাড়ি চালাতে না পারলে সেটি চলতে দেওয়া উচিত নয়। প্রয়োজনে গাড়ি আটকে রেখে চালক পরিবর্তনের পর তা ছাড়তে হবে।
তিনি বলেন, নিয়ম না মেনে গাড়ি চালাতে দেখেও কোনো চালককে মহাসড়কে চলতে দেওয়া হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যায়। এতে সাময়িকভাবে যাত্রীদের ভোগান্তি হতে পারে, তবে নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে চালকদের সচেতনতা ও দক্ষতার অভাবের কথা উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, এ সমস্যা অস্বীকার করে সমাধান সম্ভব নয়। দক্ষ চালক নিয়োগে পরিবহন মালিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। যোগ্য চালকদের চিহ্নিত করে সরকারের কাছে পাঠানো হলে তাঁদের দক্ষতা যাচাই করে লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
দুর্ঘটনার তথ্য নিয়ে প্রশ্ন
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির পরিসংখ্যানের নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, কোনো এক জরিপে বছরে ৩১ হাজার মানুষের মৃত্যুর তথ্য এসেছে। সেই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ৮৫ জনের মৃত্যু হয়। তবে এই তথ্য কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে, কারা জরিপ করেছে এবং এর ভিত্তি কী, তা যাচাই করা প্রয়োজন।
মন্ত্রী বলেন, ভুল তথ্যের ভিত্তিতে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। আবার প্রকৃত তথ্য জানা না থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ জরুরি।
তিনি জানান, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোর তথ্য সংরক্ষণে একটি ডেটাবেইস তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কোন এলাকায় কেন বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে, তা চিহ্নিত করে সড়কের নকশা পরিবর্তনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। তাঁর ধারণা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ২০ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
২০২৭ সালের মধ্যে সমন্বিত আইন
সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে জানিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, মহাসড়কের সঙ্গে আঞ্চলিক সড়কের বিপজ্জনক সংযোগস্থল চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং হেলমেট ব্যবহারের নিয়ম কার্যকর করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি সমন্বিত আইন প্রণয়নের কাজ করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত মানুষের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। চালকের দক্ষতা, যানবাহনের ফিটনেস ও আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানুষের আচরণেও পরিবর্তন আনতে হবে।
নিজের স্বার্থে অনিয়ম সমর্থন নয়
সড়ক নিরাপত্তায় যাত্রীদের দায়িত্বের কথাও তুলে ধরেন শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, অনেকে অনিরাপদ যানবাহন নিয়ে আপত্তি তোলেন, কিন্তু নিজেরা সেই যানবাহনে ওঠা বন্ধ করেন না। একইভাবে ফুটপাত দখলসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরোধিতা করলেও নিজের স্বার্থ জড়িত থাকলে অনেকে প্রতিবাদ করেন না।
তিনি বলেন, মোটরসাইকেলে হেলমেট ছাড়া চলাচল, অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। বিশেষ করে তরুণদের মোটরসাইকেল চালানোর প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। নিজের জীবনের প্রতি ভালোবাসার পাশাপাশি অন্যের জীবনের প্রতিও দায়িত্ববোধ থাকতে হবে।
পরিবহন মালিক, শ্রমিক, প্রকৌশলী, পুলিশ ও সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে সরকারের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, কোথায় কী ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রস্তাব দিলে সরকার তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে। শুধু সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে নয়, সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করলেই নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলেই চালককে দায়ী করার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। দুর্ঘটনা কমাতে চালকের কর্মপরিবেশ, বেতন, অতিরিক্ত শ্রম, পরিবহন মালিকদের দায়িত্ব এবং প্রশাসনের আচরণও বিবেচনায় নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ফিটনেসবিহীন যানবাহন সড়কে নামানো বন্ধ এবং সরকারি দপ্তরগুলোতে হয়রানি ও অনিয়ম রোধের আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি রকিবুল ইসলাম, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফ, বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ফারুক তালুকদার সোহেল, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আবদুর রহিম বক্স দুদু ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- মাস্টারদা সূর্য সেন হল অ্যালামনাইয়ের নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি ডাবলু, সাধারণ সম্পাদক পলাশ
- আফগান যুবাদের কাছে হারল বাংলাদেশের যুবারা
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মাহমুদ আলমের মৃত্যু, উপাচার্যের শোক
- যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারিতে বাংলাদেশিরা কি অংশ নিতে পারবে? জানুন বিস্তারিত
- জেনে নিন আজকের বাজারে ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার দাম
- আজ ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম কত? জেনে নিন
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৭ অক্টোবর)
- ১৫ দিনের ব্যবধান দুইবার হবে শারদীয় দুর্গাপূজা
- বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব মার্কেট-দোকানপাট বন্ধ
- নতুন পে-স্কেলে শিক্ষকদের বেতন কবে, জানাল অর্থ মন্ত্রণালয়
- ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা: ঢাবির সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার
- নভেম্বরে টানা তিন দিনের ছুটির সুযোগ, যারা পাবেন
- আজ ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার দাম কত? জেনে নিন
- এসএসসির টেস্ট পরীক্ষা ২৮ অক্টোবর থেকে, ফল প্রকাশ ১৫ নভেম্বর
- না ফেরার দেশে চলে গেলেন ‘সিআইডি’ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেতা