ঢাকা, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
নিরাপদ নৌপরিবহনে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি: নৌমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক: আধুনিক বন্দরব্যবস্থা, দক্ষ নাবিক, কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও নিরাপদ নৌপরিবহন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন নৌপরিবহন, রেলপথ, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বিশ্ব নৌ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে নৌপরিবহন অধিদপ্তর আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত অনুষ্ঠানের এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘নীতি থেকে বাস্তব প্রয়োগ: নৌ খাতে উৎকর্ষতা অর্জন’।
শেখ রবিউল আলম বলেন, আন্তর্জাতিক নৌ-চুক্তিতে যোগ দেওয়া কিংবা আইন প্রণয়ন করাই যথেষ্ট নয়। এসব উদ্যোগের সুফল পেতে নিরাপদ জাহাজ, পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক বন্দর, দক্ষ নাবিক, কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং টেকসই নৌবাণিজ্যের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নীতি, পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের সফলতা নির্ভর করে সেগুলো বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে তার ওপর। সামুদ্রিক খাতকে নিরাপদ, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, পরিবেশবান্ধব ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তুলতে সরকার কাজ করছে।
বন্দরগুলোর আধুনিকায়ন, স্বয়ংক্রিয়করণ ও সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি পণ্য খালাসে সময় কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন নৌপরিবহন মন্ত্রী। একই সঙ্গে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ ও পরিদর্শন সক্ষমতা বাড়ানো, পতাকাবাহী রাষ্ট্র ও বন্দর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা এবং নিরাপত্তা ও পরিবেশগত মান যথাযথভাবে বাস্তবায়নের কথা জানান তিনি।
দেশের নাবিকদের বাংলাদেশের সবচেয়ে মূল্যবান সামুদ্রিক সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, বহির্বিশ্বে তাঁরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি। তাঁদের কল্যাণ, প্রশিক্ষণ, সনদায়ন ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ধারাবাহিক বিনিয়োগ অব্যাহত রাখা হবে।
অভ্যন্তরীণ নৌপথ ও উপকূলীয় নৌপরিবহনের টেকসই উন্নয়ন, নদীদূষণ প্রতিরোধ এবং নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতেও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল খন্দকার মেসবাহ-উল-আজিম। সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির পারস্পরিক সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, বন্দর, নৌবাণিজ্য, মৎস্যসম্পদ, সমুদ্রভিত্তিক সম্পদ ও নীল অর্থনীতির বিকাশ নিরাপদ ও স্থিতিশীল সামুদ্রিক পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল।
সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তথ্য বিনিময়, সামুদ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সার্বিক সচেতনতা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় আরও জোরদারের আহ্বান জানান নৌবাহিনী প্রধান। সামুদ্রিক শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তি ও পেশাগত উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চট্টগ্রাম বন্দর বর্তমানে বছরে প্রায় ৩৪ লাখ একক কনটেইনার পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতে প্রায় ৪০ লাখ একক অতিরিক্ত কনটেইনার পরিচালনার সক্ষমতার চাহিদা পূরণে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ২০২৯ সালে কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলা এ বন্দর প্রায় ২৩০ মিটার দীর্ঘ এবং আট থেকে ১০ হাজার একক কনটেইনার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন বড় জাহাজ সরাসরি গ্রহণ করতে পারবে।
এতে পরিবহন সময় ও পণ্য পরিবহনের ব্যয় কমার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে অনুষ্ঠানে আশা প্রকাশ করা হয়।
দেশের প্রায় ছয় হাজার কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ নৌপথকে অর্থনীতি ও যোগাযোগব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে তুলে ধরে নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর নৌপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সমুদ্রবন্দর, উপকূলীয় নৌপথ ও অভ্যন্তরীণ নৌপথের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে সমন্বিত বহুমাধ্যমভিত্তিক পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, হংকং আন্তর্জাতিক নৌ-চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর দেশের ২৪টি জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ইয়ার্ড নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করেছে। আরও ২০টি ইয়ার্ড সনদায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। নিরাপত্তা, শ্রমিককল্যাণ ও পরিবেশগত মান বজায় রেখে এ শিল্পকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জাহাজ চলাচল থেকে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমাতে আন্তর্জাতিক নৌ সংস্থার ‘সবুজ নৌযাত্রা ২০৫০’ কর্মসূচির সহায়তায় জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়। কম-কার্বন জ্বালানি ব্যবহার, জ্বালানি সাশ্রয়, বন্দরের কার্যক্রমে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো এবং পরিবেশসম্মত জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে সবুজ নৌপরিবহনে উত্তরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
দেশের সামুদ্রিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরে অনুষ্ঠানে বলা হয়, বর্তমানে ১৫টি সামুদ্রিক একাডেমি ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং একটি সামুদ্রিক বিশ্ববিদ্যালয় দক্ষ নাবিক, সামুদ্রিক প্রকৌশলী ও বন্দর ব্যবস্থাপনা পেশাজীবী তৈরিতে কাজ করছে। ২০১৪ সাল থেকে ১৩৮ জনের বেশি নারী ক্যাডেট দেশের সামুদ্রিক একাডেমিগুলো থেকে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
সামুদ্রিক দুর্ঘটনায় দ্রুত সাড়া দেওয়া, অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা এবং সমন্বিত যোগাযোগ নিশ্চিত করতে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের যৌথ উদ্ধার ও সমন্বয় কেন্দ্রের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর কথাও অনুষ্ঠানে জানানো হয়। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ নৌযানগুলোকে পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল নিবন্ধন ও অবস্থান শনাক্তকরণ ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মো. শফিউল বারীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি, জাহাজমালিক, নৌযান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, জাহাজ ব্যবস্থাপনা ও জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সামুদ্রিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের প্রধান, নাবিক এবং সংশ্লিষ্ট সামুদ্রিক পেশাজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া ম্যাচ কখন, কোথায় দেখবেন সরাসরি
- বাংলাদেশ বনাম মালয়েশিয়া ম্যাচ: Live দেখুন এখানে
- না ফেরার দেশে চলে গেলেন জেমস
- স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বাংলাদেশ পোস্ট বেসিক গ্রাজুয়েট নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি স্টুডেন্ট কাউন্সিলের স্মারকলিপি
- শতবর্ষী ৮০৮ স্কুল-কলেজের তালিকা করল মাউশি
- আত্মহ/ত্যার আগে যা লিখেছিলেন এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী
- প্রাথমিকে ১৪ হাজার শিক্ষকের নিয়োগপত্র, যোগদান ও পদায়নের সূচি প্রকাশ
- ছেলে হ/ত্যার নেপথ্যে দুটি কারণ দেখছেন অপ্রতিমের মা
- ঢাবির শহীদুল্লাহ্ হলের শিক্ষার্থী মুরাদের আকস্মিক মৃ/ত্যু
- কোন রুটে কত বাড়ল বাসের ভাড়া
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২১ সেপ্টেম্বর)
- নবম-পে স্কেলে অনলাইনে হবে বেতন নির্ধারণ
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্যকে প্রত্যাখ্যান শিক্ষার্থীদের
- অপ্রতিম হ/ত্যায় সামনে এল রহস্যময় তথ্য
- ন্যাম ভবনে গাজী নজরুলের ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’র মরদেহ উদ্ধার