×

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩

বন্যার কারণে বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি বন্ধ

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৩ ১৬:৪২:৫৮

বন্যার কারণে বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নেপালে বর্ষাকালে নদীর পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণত জলবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ে। এ সময় বাড়তি বিদ্যুৎ ভারত ও বাংলাদেশে রপ্তানি করে দেশটি। তবে এবার ভয়াবহ বন্যায় সেই ব্যবস্থায় বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটেছে।

গত বুধবার ভোতে কোশি নদীর অববাহিকায় ভয়াবহ বন্যায় কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে নেপালের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও রপ্তানি কমে গেছে। ফলে বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানিও কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

বর্ষায় নেপাল গড়ে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করত। বর্তমানে তা কমে প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াটে নেমেছে।

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমোদন পাওয়া চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের উৎপাদনক্ষমতা ২২ দশমিক ১ মেগাওয়াট। ত্রিশূলী প্রকল্পের ক্ষমতা ২৪ মেগাওয়াট। বন্যায় দুটি প্রকল্পই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গত সপ্তাহ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রেখেছে।

নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ বলেছেন, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা দুটি প্রকল্পই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিকল্প কোনো প্রকল্প থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পাঠানোর অনুমতি দিতে ভারতকে অনুরোধ করা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি কার্যত শূন্য।

বন্যার কারণে নেপালের আরও ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কয়েকটি প্রকল্পের সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেগুলো জাতীয় গ্রিড থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় সীমিত পরিসরে চলছে।

তবে বিদ্যুৎ রপ্তানি কমার একমাত্র কারণ বন্যা নয়। ভারতের অনুমোদন নবায়ন না হওয়ায় আরও তিনটি প্রকল্প থেকে ৭৩ দশমিক ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করতে পারছে না নেপাল।

নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি বাড়ানোর পথে ভারতের অনুমোদন একটি বড় বাধা হয়ে আছে। দেশটি এখন পর্যন্ত ৩৭টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির জন্য ভারতের অনুমোদন পেয়েছে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও ভারতের সঞ্চালন সক্ষমতা নিয়ে জটিলতা রয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে নেপাল ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ রপ্তানি ২০ মেগাওয়াট বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছিল। তবে ভারত জানিয়েছে, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য পর্যাপ্ত সঞ্চালন সক্ষমতা নেই।

নেপাল চীনা বিনিয়োগ, ঠিকাদার বা যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত প্রকল্প থেকেও বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন চেয়ে আসছে। কিন্তু এসব প্রকল্পের ক্ষেত্রে ভারতের অনুমোদন পাওয়া কঠিন হচ্ছে। এর বড় উদাহরণ ৪৫৬ মেগাওয়াটের আপার তামাকোশি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প।

নেপাল ২০২১ সালে বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু করে। এর আগে দেশটি বিদ্যুৎ আমদানির ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল ছিল।

বর্ষায় নদীতে পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় নেপাল বাড়তি বিদ্যুৎ উৎপাদন করে রপ্তানি করে। শুষ্ক মৌসুমে উৎপাদন কমে গেলে আবার ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত ও বাংলাদেশে ২৯ দশমিক ৩২ বিলিয়ন নেপালি রুপির বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছে নেপাল। একই সময়ে শুষ্ক মৌসুমে ভারত থেকে ১০ দশমিক ২৩ বিলিয়ন রুপির বিদ্যুৎ আমদানি করেছে। এতে বিদ্যুৎ বাণিজ্যে দেশটির নিট লাভ হয়েছে ১৯ দশমিক ০৯ বিলিয়ন রুপি।

ভোতে কোশির বন্যায় এবার বর্ষার সর্বোচ্চ উৎপাদন ও রপ্তানির সময়েই সেই ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা লেগেছে। ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সঞ্চালন অবকাঠামো সচল করার পাশাপাশি বাংলাদেশে বিকল্প প্রকল্পের বিদ্যুৎ পাঠাতে ভারতের অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা করছে নেপাল।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত