ঢাকা, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

নেপালে এক বাড়ি থেকেই ২৪ ম'র'দেহ উদ্ধার

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০১ ১১:৩০:১০

নেপালে এক বাড়ি থেকেই ২৪ ম'র'দেহ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আকস্মিক বন্যার পর উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে নেপালের বিদুর এলাকায় একটি বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে একসঙ্গে ২৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকারীদের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মরদেহ আটকে থাকতে পারে।

নেপালের পুলিশ সুপার বিপিন রেগমি জানান, বন্যাকবলিত বিদুরের ওই বাড়ি থেকে ২৪টি মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে ধ্বংসস্তূপ পুরোপুরি সরানো সম্ভব না হওয়ায় সেখানে আরও মরদেহ থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ওই এলাকায় আবারও উদ্ধার অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। উদ্ধারকারীরা বাড়িটির পাশাপাশি আশপাশের এলাকাতেও তল্লাশি চালাবেন।

বেত্রাবতী পৌরসভার কর্মকর্তা মঙ্গল তামাং জানান, উদ্ধার হওয়া ২৪টি মরদেহের মধ্যে একটি শিশুর এবং বাকিগুলো প্রাপ্তবয়স্কদের। ইতোমধ্যে ছয়টি মরদেহ হেলিকপ্টারে করে রাজধানী কাঠমান্ডুতে পাঠানো হয়েছে। অন্য মরদেহগুলো আপাতত ঘটনাস্থলে রাখা হয়েছে এবং পরে সেগুলোও রাজধানীতে নেওয়া হবে।

মঙ্গল তামাং বলেন, উদ্ধার অভিযান আরও বিস্তৃত করা হবে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে ওই বাড়ি ছাড়াও আশপাশের এলাকাগুলোতে নতুন করে তল্লাশি চালানো হবে।

এদিকে নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যায় দুই দেশে মোট প্রাণহানি ৯৫০ ছাড়িয়েছে। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে অন্তত ৯৩৯ জন মারা গেছেন। অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, দেশটিতে বন্যায় অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রাণহানির পাশাপাশি দুই দেশেই নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা উদ্বেগজনক। নেপালে প্রায় ৩ হাজার ৯২৫ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। চীনে নিখোঁজের সংখ্যা অন্তত ৫৪৬ জন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বন্যার ভয়াবহতা তুলে ধরে ঘটনাস্থলে থাকা সিএনএনের সাংবাদিক অ্যান্ডারসন কুপার পানির প্রবল স্রোতকে ‘তরল সিমেন্টের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। তীব্র স্রোত, কাদামাটি ও ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধার অভিযান চালাতেও ব্যাপক বেগ পেতে হচ্ছে।

উদ্ধার অভিযানের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। এখন নিখোঁজ হাজারো মানুষকে দ্রুত খুঁজে বের করাই উদ্ধারকারী দলগুলোর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযান যত এগোবে, ভয়াবহ এই দুর্যোগে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হতে পারে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত