ঢাকা, বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গঠনের প্রেরণার কেন্দ্র: ড. ইউনূস
নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর শুধু অতীতের স্মৃতি সংরক্ষণের স্থান নয়; এটি নতুন বাংলাদেশ গঠনের প্রেরণার কেন্দ্র। তাঁর ভাষ্য, ইতিহাস সংরক্ষণের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তি তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই জাদুঘর।
বুধবার সকালে রাজধানীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
ড. ইউনূস বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের জাদুঘর থাকলেও জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের বৈশিষ্ট্য আলাদা। এখানে বহু বছরের পুরোনো ইতিহাস নয়; বরং গণঅভ্যুত্থানের সময় থেকেই সংশ্লিষ্ট দলিল, নিদর্শন, স্মারক এবং মানুষের অনুভূতি সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ইতিহাস সংরক্ষণের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, জাতি যদি কখনো পথ হারায়, তাহলে এই জাদুঘরই পথ দেখাবে। চিন্তা ও মূল্যবোধে বিচ্যুতি ঘটলেও এখান থেকেই নতুন করে অনুপ্রেরণা নিয়ে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের আত্মত্যাগের প্রসঙ্গ তুলে ড. ইউনূস বলেন, অনেক তরুণ কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই নিজেদের অনুভূতি লিখে গেছেন। পরিবারের বাধা উপেক্ষা করে কেন তারা রাজপথে নেমেছিলেন, সেই কথাও চিঠিতে তুলে ধরেছেন। এসব দলিল ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নতুন বাংলাদেশ গঠনে অনুপ্রাণিত করবে।
দেশের প্রতিটি নাগরিককে অন্তত একবার এই জাদুঘর পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিশেষ করে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেন শুধু ইতিহাস দেখে না ফেরে; বরং নিজেদের স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও এখানে লিপিবদ্ধ করে যায়।
ড. ইউনূস আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর দেশের সংস্কৃতি, শিল্প, সংগীত, চিত্রকলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হবে। একই সঙ্গে এটি দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে উঠবে।
জাদুঘরে নির্মিত প্রতীকী কবরগুলোর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, প্রতিটি শহীদের পরিচয় ও আত্মত্যাগের ইতিহাস সেখানে সংরক্ষিত থাকবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানতে পারে কীভাবে এবং কেন তারা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদরা কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের কর্মী ছিলেন না। তারা ছিলেন সাধারণ পরিবারের সাধারণ ছেলে-মেয়ে, যারা একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে রাজপথে নেমেছিলেন।
জাদুঘর নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের প্রশংসা করে ড. ইউনূস বলেন, প্রতিটি নিদর্শন সংগ্রহে দীর্ঘ সময়, শ্রম এবং নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। সেই প্রচেষ্টার ফলেই আজ জাতির সামনে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল উপস্থাপন করা সম্ভব হয়েছে।
বক্তব্যের শেষে জাদুঘর নির্মাণ ও উদ্বোধনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান ড. ইউনূস। একই সঙ্গে তিনি দেশের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পরিবার-পরিজন নিয়ে অন্তত একবার জাদুঘরটি পরিদর্শন করা উচিত। তাঁর ভাষায়, এটি শুধু দেখার জায়গা নয়, বরং ভাবনারও জায়গা। এখান থেকেই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের পথচলার দিকনির্দেশনা খুঁজে পাওয়া যাবে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- পর্নো তারকা থেকে কলম্বিয়ার সিনেটর দেইসি
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির সুযোগ, আবেদন ২০ আগস্ট পর্যন্ত
- ঢাবিতে ৩ শিক্ষক বরখাস্ত, ৪ জনের দায়িত্ব স্থগিত
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২ আগস্ট)
- চেয়ারম্যান-মেম্বার পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে যা জানা গেল
- বিনামূল্যে এআই প্রশিক্ষণ, মিলবে দৈনিক ২০০ টাকা ভাতা
- ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপে অস্ট্রেলিয়ার মারডক বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ
- ঢাবির সূর্যসেন হলে সমকামিতার অভিযোগে দুইজন আটক
- দেশের বাজারে ফের বেড়েছে সোনার দাম
- ‘গুলশানের চামেলি’ তে যৌনকর্মীর দালাল অ্যাডলফ খান
- আজ শুক্রবার রাজধানীর যেসব মার্কেট-দোকানপাট বন্ধ
- নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন চূড়ান্ত পর্যায়ে, যা জানালেন অর্থমন্ত্রী
- জাপানে সম্পূর্ণ ফ্রি স্কলারশিপে মাস্টার্স ও পিএইচডি করার সুযোগ
- যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ২৩ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হলো
- বিজ্ঞান কারখানায় জব কার্ড অটোমেশন চালু করল ঢাবি