ঢাকা, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩
আরও কয়েকদিন লোডশেডিং থাকতে পারে: তথ্য উপদেষ্টা
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে চলমান বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিংয়ের মূল কারণ হিসেবে গ্যাস সরবরাহে আকস্মিক বড় ধরনের ঘাটতির কথা উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনালের কার্যক্রম ধাপে ধাপে স্বাভাবিক হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশের গ্যাসের চাহিদা দীর্ঘদিন ধরেই পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। এই ঘাটতি মোকাবিলায় আগের সরকার দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর পরিবর্তে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)-এর ওপর নির্ভরশীলতা বাড়িয়েছিল। বর্তমানে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করা হয়।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত একটি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের কারণে সেটির কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এ সংকটের প্রভাব শুধু বিদ্যুৎ খাতেই নয়, শিল্প-কারখানা, আবাসিক এলাকা এবং সিএনজি স্টেশনেও পড়েছে। অনেক এলাকায় বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ কমে গেছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো গ্যাস না পেয়ে এখন জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করছে। একই সময়ে অনেক পরিবার রান্নার জন্য বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার শুরু করায় বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ব্যয়বহুল ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রেখেছে। সাধারণত উৎপাদন ব্যয় বেশি হওয়ায় এসব কেন্দ্র সীমিতভাবে ব্যবহার করা হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালিয়েও বিদ্যুতের চাহিদা পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টার সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে ডা. জাহেদ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনাল ধাপে ধাপে গ্যাস সরবরাহ শুরু করলে অতিরিক্ত বিদ্যুতের চাহিদা কমবে এবং বর্তমান সংকটও দ্রুত কেটে যাবে।
বিশ্ববাজারের জ্বালানি পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপ রাশিয়ার পাইপলাইনের গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এলএনজির দিকে ঝুঁকেছে। এতে বিশ্ববাজারে এলএনজির সরবরাহ ও দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা যুক্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট আরও গভীর হলে জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি সার আমদানিতেও প্রভাব পড়তে পারে। কারণ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের সার ওই অঞ্চল দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশের ওপরও পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
নাগরিকদের জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তবে বৈশ্বিক সংকটের কিছু প্রভাব দেশকেও বহন করতে হবে।
দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের বিষয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে একটি টার্মিনালের সমস্যায় যেন পুরো দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত না হয়, সে জন্য বিকল্প সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে। পাশাপাশি স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করা হয়েছে এবং সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে। তবে এসব উদ্যোগের সুফল পেতে সময় লাগবে।
তিনি বলেন, গ্যাস অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিলেই সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন পাওয়া যায় না। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের প্রকল্প বাস্তবায়নেও কয়েক বছর সময় লাগে। তাই বর্তমান সরকারকে কিছুটা সময় দেওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারে অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বুয়েটের নেতৃত্বে একাধিক পরীক্ষা চালানো হয়েছে। সেখানে প্রিপেইড মিটারে কোনো কারিগরি ত্রুটির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে যাদের অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ রয়েছে, তারা যেন সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, অভিযোগের যথাযথ প্রতিকার না পেলে বিষয়টি সরকার দেখবে।
বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মিটারের ভাড়া এবং ডিমান্ড চার্জ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি নীতিগত সিদ্ধান্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এ বিষয়ে এখনই সুনির্দিষ্ট উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। তবে প্রশ্নটি তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে তুলে ধরবেন।
ব্রিকস জোটে বাংলাদেশের সদস্যপদ প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকার এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। বাংলাদেশ বহুপাক্ষিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে আগ্রহী। তবে কোনো জোটে যোগ দেওয়ার আগে সব ধরনের কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত বিষয় বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার ও মন্ত্রীদের নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সমালোচনা বা ট্রলের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিতে চায় না। তবে কারও বক্তব্য বা ছবি ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো বা ভুয়া বক্তব্য প্রচার করা গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সরকার আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত মানহানির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আইনি প্রতিকার চাওয়ার সুযোগও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- পর্নো তারকা থেকে কলম্বিয়ার সিনেটর দেইসি
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির সুযোগ, আবেদন ২০ আগস্ট পর্যন্ত
- ঢাবিতে ৩ শিক্ষক বরখাস্ত, ৪ জনের দায়িত্ব স্থগিত
- সিন্ডিকেট সভা ঘেরাও করলেন ডাকসু নেতারা
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২ আগস্ট)
- চেয়ারম্যান-মেম্বার পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে যা জানা গেল
- সচিব পদে পদোন্নতি পেলেন দুই কর্মকর্তা
- বিনামূল্যে এআই প্রশিক্ষণ, মিলবে দৈনিক ২০০ টাকা ভাতা
- ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপে অস্ট্রেলিয়ার মারডক বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ
- আজই নিষিদ্ধ হতে পারে ঢাবির নীল দল
- বিকাশে মিলবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া ভাতা
- ঢাবির সূর্যসেন হলে সমকামিতার অভিযোগে দুইজন আটক
- জুলাই আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগ ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে: ঢাবি প্রো-ভিসি
- তৃতীয় লিঙ্গদের হেনস্তার শিকার ডাকসু নেতা জুবায়ের
- ‘গুলশানের চামেলি’ তে যৌনকর্মীর দালাল অ্যাডলফ খান