ঢাকা, সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়া শুরু
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে প্রথমবারের মতো এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল ও কলেজের শিক্ষকদের জন্য বদলি ব্যবস্থা চালু করেছে সরকার। নতুন নীতিমালার আওতায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে শিক্ষকরা অনলাইনের মাধ্যমে বদলির আবেদন করতে পারবেন। পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হবে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে।
সরকার ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬’ জারি করেছে। এই নীতিমালা এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল ও কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো শিক্ষক প্রথম নিয়োগের পর একই প্রতিষ্ঠানে টানা অন্তত দুই বছর চাকরি সম্পন্ন করলে বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। নতুন কর্মস্থলেও পুনরায় বদলির আবেদন করতে চাইলে সেখানে কমপক্ষে দুই বছর কর্মরত থাকতে হবে। একজন শিক্ষক চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলির সুযোগ পাবেন।
বদলি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) নির্ধারিত সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদের তালিকা অনলাইনে প্রকাশ করবে। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন গ্রহণ, যাচাই-বাছাই, বদলির আদেশ এবং নতুন কর্মস্থলে যোগদানের কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
আবেদনের ক্ষেত্রে প্রথম অগ্রাধিকার থাকবে নিজ জেলার শূন্য পদে। নিজ জেলায় পদ না থাকলে একই বিভাগের অন্য জেলার শূন্য পদে আবেদন করা যাবে। এছাড়া বিশেষ পরিস্থিতিতে দেশের অন্য জেলা কিংবা স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল বা সংশ্লিষ্ট জেলার জন্যও আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
একটি শূন্য পদের বিপরীতে একাধিক আবেদন এলে নারী প্রার্থী, কর্মস্থলের দূরত্ব, স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল এবং জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে। দূরত্ব নির্ধারণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রচলিত পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্যযুক্ত আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ দুইজন শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন। তবে একই বিষয়ে একজনের বেশি শিক্ষককে বদলি করা হবে না। আবেদনকারী সর্বোচ্চ তিনটি পছন্দের প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করতে পারবেন।
নীতিমালা অনুযায়ী, বদলির আবেদন নিষ্পত্তির দায়িত্ব থাকবে মাউশির মহাপরিচালকের ওপর। বদলির পর শিক্ষকের এমপিও, আর্থিক সুবিধা ও জ্যেষ্ঠতার ধারাবাহিকতা অপরিবর্তিত থাকবে। তবে বদলিকে কোনো শিক্ষকের অধিকার হিসেবে দাবি করা যাবে না এবং বদলির ক্ষেত্রে টিএ-ডিএ ভাতা প্রদান করা হবে না।
বদলির আদেশ জারির ১০ দিনের মধ্যে প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে অবমুক্ত করতে হবে। অবমুক্তির পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান বাধ্যতামূলক। যেসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ বা ফৌজদারি মামলা চলমান রয়েছে, তারা বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন না।
মাউশির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যতগুলো শূন্য পদ থাকবে, ততজন শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন। তবে আবেদন নীতিমালায় নির্ধারিত এলাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল জানান, সফটওয়্যার প্রস্তুত হওয়ার পরই আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। শিক্ষকরা নিজ জেলা, স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলা এবং স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থলের জেলার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
এদিকে বদলি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ প্রথমবারের মতো একজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দিয়েছে। আদেশ অনুযায়ী, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের গোপালনগর মহিলা আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক খাইরুল ইসলামকে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার নিশ্চিন্তপুর ডি এস আলিয়া মাদ্রাসায় বদলি করা হয়েছে।নতুন নীতিমালার মাধ্যমে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সফটওয়্যার চালু হলে অনলাইনেই আবেদন ও বদলির পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- পর্নো তারকা থেকে কলম্বিয়ার সিনেটর দেইসি
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রো-ভিসি হলেন অধ্যাপক ড. সালমা বেগম
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির সুযোগ, আবেদন ২০ আগস্ট পর্যন্ত
- ঢাবিতে ৩ শিক্ষক বরখাস্ত, ৪ জনের দায়িত্ব স্থগিত
- সিন্ডিকেট সভা ঘেরাও করলেন ডাকসু নেতারা
- ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৮ জুলাই)
- হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য ড. মুজাম্মেল হক
- সচিব পদে পদোন্নতি পেলেন দুই কর্মকর্তা
- চেয়ারম্যান-মেম্বার পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে যা জানা গেল
- অনলাইনে ও এসএমএসে এসএসসির ফল দেখবেন যেভাবে
- আজই নিষিদ্ধ হতে পারে ঢাবির নীল দল
- বিকাশে মিলবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া ভাতা
- ঢাবির সূর্যসেন হলে সমকামিতার অভিযোগে দুইজন আটক
- ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপে অস্ট্রেলিয়ার মারডক বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ