ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
উমামা ফাতেমাকে নিয়ে আবেগঘন পোস্ট তাসনিম জারার
নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ উমামা ফাতেমাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। পোস্টে তিনি উমামার সাহস, রাজনৈতিক অবস্থান এবং নীতির প্রতি অটল থাকার প্রশংসা করেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া ওই পোস্টে তাসনিম জারা লেখেন, অভ্যুত্থানের পরপরই উমামা ফাতেমা, নুসরাত ও রাফিয়ার একটি সাক্ষাৎকার দেখেছিলেন তিনি। সেখানে আন্দোলনের দিনগুলো, তাদের ভূমিকা এবং ভবিষ্যতের বাংলাদেশ নিয়ে তাদের বক্তব্য তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।
তিনি লেখেন, “এত সাহসী, এত খোলামেলা, আর এত অল্প বয়সে এতো পরিণত কথা আমি বেশি দেখিনি। আমার রাজনীতিতে আসার পেছনে যে কয়েকটা ধাক্কা কাজ করেছে, ওই ইন্টারভিউটা তার একটা।”
দেশে ফেরার পর উমামার সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তাসনিম জারা বলেন, “উমামা সামনাসামনি আরও সহজ। কোনো পারফরম্যান্স নেই। যা বিশ্বাস করে তা-ই বলে, যা বলে তা-ই করে।”
নতুন রাজনীতিতে আসা মানুষের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো নিজের নীতিগত অবস্থান অটুট রাখা—এমন মন্তব্য করে তিনি লেখেন, প্রতিদিনের নানা সিদ্ধান্ত, চাপ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে এমন কিছু মানুষের প্রয়োজন হয়, যাদের বিচারবোধের ওপর ভরসা করা যায়। তার ভাষায়, উমামা সেই মানুষদের একজন হতে পারতেন এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছে।
গত দুই বছরে উমামার বিভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তাসনিম জারা বলেন, তিনি যে প্ল্যাটফর্মকে নিজের বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করেননি, সেখান থেকে নিজেই সরে এসেছেন। বিভিন্ন দলে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। ডাকসু নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়া ছাড়াই স্বতন্ত্র প্যানেল নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। পরাজিত হলেও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি।
তিনি লেখেন, “উমামার কাছে ক্ষমতার রাস্তাটা খোলা ছিল, চাইলেই সে যেতে পারত। সে যায়নি, কারণ সে হাতের নাগালের ক্ষমতাকে ‘না’ বলেছে।”
তাসনিম জারার ভাষায়, দেশের রাজনীতিতে ক্ষমতার দিকে এগিয়ে যাওয়া খুবই সাধারণ ঘটনা, কিন্তু নিজের আদর্শের সঙ্গে আপস না করে ক্ষমতা প্রত্যাখ্যান করা বিরল।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অনেকেই পদ ও উদ্দেশ্যকে এক করে দেখেন। উমামাকে কেউ কেউ ব্যর্থ বলেন, কারণ তিনি সংসদ সদস্য হতে পারেননি। কিন্তু তাসনিম জারার মতে, কেবল একটি পদ অর্জনই সফলতার মাপকাঠি হতে পারে না; বরং সেই পদ কীভাবে অর্জিত হলো এবং তা দিয়ে কী করা হলো সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
পোস্টে তিনি আরও লেখেন, “আসল হিসাব হয় দুইটা প্রশ্নে: পজিশনটা পেলেন কীভাবে, আর পেয়ে করলেন কী। যেকোনো মূল্যে আসন চাই, এ তো পুরোনো বন্দোবস্তেরই নিয়ম। ওই নিয়মে খেললে নতুন বন্দোবস্ত থাকে কোথায়? বদলায় শুধু মুখ। উমামা ওই দলে নেই। সেজন্যই ওর মধ্যে নতুন কিছুর আশা এখনো বেঁচে আছে।”
উমামাকে নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে তাসনিম জারা লেখেন, অনেকে তাকে হোয়াংহো নদীর সঙ্গে তুলনা করে ব্যর্থদের কাতারে ফেলতে চান। তবে তার ভাষায়, “বড় হয়ে জেনেছি, ওই হোয়াংহোর পলিমাটিতেই চীনা সভ্যতার জন্ম। যে নদীকে লোকে দুঃখ বলে, সে নদীই আসলে জন্ম দেয়।”
পোস্টের শেষাংশে তাসনিম জারা বলেন, “নতুন বাংলাদেশের কথা চিন্তা করলে যাদের চেহারা ভরসার প্রতীক হয়ে আমার মানসপটে ভেসে ওঠে, তাদের মধ্যে একজন হচ্ছেন উমামা ফাতেমা।”
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স শেষপর্বের ফল প্রকাশ
- মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের জুলাইয়ের বেতন ফাইল চূড়ান্ত
- এসএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষণে আবেদন করবেন যেভাবে
- মালয়েশিয়াকে ৮৯ রানে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে বাংলাদেশ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৯ আগস্ট)
- দাখিল ও কারিগরি বোর্ডের ফল দেখবেন যেভাবে
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১০ আগস্ট)
- পরীক্ষায় ফেল বা খারাপ করার পর শিক্ষার্থীদের করণীয় কী
- একাদশে ভর্তি: আবেদন ও প্রক্রিয়া জানুন
- ১৯তম নিবন্ধন থেকে শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশ করবে না এনটিআরসিএ
- পাঁচ দপ্তরে নতুন সচিব নিয়োগ দিল সরকার
- পিএসসিতে আরও চার সদস্য নিয়োগ
- এসএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষণ নিয়ে যা জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
- এসএসসিতে ফেলের হার ৩৭.৭৫ শতাংশ
- যেভাবে সহজে অনলাইনে দেখবেন এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল