ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

খালি পায়ে বিশ্বকাপ মাতালেন শাকিরা

২০২৬ জুলাই ২০ ১৮:৪৮:৫৫

খালি পায়ে বিশ্বকাপ মাতালেন শাকিরা

বিনোদন ডেস্ক: বিশ্বকাপ মানেই ফুটবলের উন্মাদনার পাশাপাশি বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক আয়োজন। সেই আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ হাফটাইম শো। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপজুড়েই নিজের নতুন গান ‘দাই দাই’ পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন কলম্বিয়ান পপ সুপারস্টার শাকিরা। ফাইনালের মঞ্চেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে গান, নাচ ও অনন্য মঞ্চ উপস্থিতিতে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসেন তিনি।

৪৯ বছর বয়সেও শাকিরার প্রাণবন্ত পরিবেশনা, নৃত্যশৈলী ও ফ্যাশন বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে তার স্বতন্ত্র অবস্থান আরও একবার তুলে ধরে।

ফাইনালের হাফটাইম শোয়ে শাকিরার সঙ্গে পারফর্ম করেন নাইজেরিয়ান র‍্যাপার বার্না বয় এবং উগান্ডার জনপ্রিয় শিশু নৃত্যদল দ্য গেটো কিডস। তবে সংগীতের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল শাকিরার ঝলমলে স্টেজ লুক।

বিশেষ এই পরিবেশনার জন্য তিনি পরেছিলেন ইতালির বিলাসবহুল ফ্যাশন হাউস রবার্টো কাভালি-এর কাস্টম-মেড পোশাক। ডিজাইনটি তৈরি করেন ব্র্যান্ডটির ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর ফাউস্তো পুগলিসি, যিনি নাটকীয় সিলুয়েট ও সাহসী রঙ ব্যবহারের জন্য পরিচিত।

উজ্জ্বল হলুদ ও গোলাপি রঙের সংমিশ্রণে তৈরি ফ্রিঞ্জ ড্রেসটি ব্র্যান্ডের ‘ফ্রিঞ্জ ড্রেস ট্রপিক্যাল রে অব সানসেট’ কালেকশনের অনুপ্রেরণায় নির্মিত। আলো-ছায়ার মেলবন্ধনে পোশাকটি যেন মঞ্চে সূর্যাস্তের রঙকে জীবন্ত করে তুলেছিল।

এই পোশাকের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল এর কারুকাজ। পুরো ড্রেসে হাতে বসানো হয়েছে প্রায় দুই লাখ সোয়ারভস্কি ক্রিস্টাল। মঞ্চের আলোর প্রতিফলনে প্রতিটি নড়াচড়ার সঙ্গে ঝলমল করে উঠছিল ক্রিস্টালগুলো, যা শাকিরার নৃত্যকে আরও প্রাণবন্ত ও নাটকীয় করে তোলে।

ক্রিসক্রস ডিপ নেকলাইন এবং লেয়ারড ফ্রিঞ্জ ডিজাইন পুরো পোশাকে যোগ করেছে সাহসী অথচ মার্জিত আবেদন। নাচের প্রতিটি ধাপে ফ্রিঞ্জের দোলায় পারফরম্যান্সে সৃষ্টি হয় বাড়তি গতি ও নান্দনিকতা।

ভারী গয়না বা বাড়তি অলংকারের পরিবর্তে নিজের স্বাক্ষরধর্মী স্টাইলেই মঞ্চে হাজির হন শাকিরা। খোলা ব্লন্ড চুল, স্বাভাবিক গ্ল্যাম মেকআপ এবং খালি পায়ে পরিবেশনার মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন, আত্মবিশ্বাস ও মঞ্চনিয়ন্ত্রণই তার সবচেয়ে বড় শক্তি।

শাকিরার সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নেওয়া বার্না বয় বেছে নিয়েছিলেন একেবারেই ভিন্নধর্মী উপস্থিতি। সাদা টি-শার্ট, কালো ব্যান্ডানা এবং তার পরিচিত লম্বা বেনি চুলে তিনি ছিলেন সহজ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও স্ট্রিট-স্টাইল ঘরানার। এতে শাকিরার গ্ল্যামারাস উপস্থিতির সঙ্গে একটি সুন্দর ভারসাম্য তৈরি হয়।

শুধু প্রধান শিল্পীরাই নন, ব্যাকগ্রাউন্ড নৃত্যশিল্পীদের পোশাকেও ছিল বিশেষ পরিকল্পনা। দ্য গেটো কিডস এবং অন্যান্য নৃত্যশিল্পীদের কস্টিউম শাকিরার পোশাকের আদলে তৈরি হলেও সেগুলো ছিল পুরোপুরি উজ্জ্বল হলুদ রঙের। ফলে পুরো মঞ্চজুড়ে সৃষ্টি হয় প্রাণবন্ত, ট্রপিক্যাল ও উৎসবমুখর আবহ।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে শাকিরার নাম আগেই বিশেষ মর্যাদা পেয়েছে। এবারের হাফটাইম শো সেই সম্পর্ককে আরও দৃঢ়ভাবে স্মরণ করিয়ে দিল। সংগীত, নাচ, ফ্যাশন ও মঞ্চনাট্যের সমন্বয়ে তিনি আবারও প্রমাণ করলেন, বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করার শিল্প এখনো তারই সবচেয়ে ভালো জানা।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

ফের বিশ্ববাজারে কমল স্বর্ণের দাম

ফের বিশ্ববাজারে কমল স্বর্ণের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার ছাড়িয়েছে। এর ফলে... বিস্তারিত