ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

স্পেনের বিশ্বজয়ে উচ্ছ্বসিত ফিলিস্তিন

২০২৬ জুলাই ২০ ১৮:০৫:১২

স্পেনের বিশ্বজয়ে উচ্ছ্বসিত ফিলিস্তিন

স্পোর্টস ডেস্ক: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত সময়ে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে পরাজিত করে শিরোপা জিতে নেয় স্প্যানিশরা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাত থেকে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি গ্রহণ করে স্পেনের খেলোয়াড়রা। এই বিশ্বজয়ের পর শুধু স্পেনেই নয়, ফিলিস্তিনজুড়েও দেখা গেছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস। বিশেষ করে অবরুদ্ধ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় এই জয়কে কেবল ফুটবল সাফল্য হিসেবে নয়, বরং ফিলিস্তিনিদের প্রতি স্পেনের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থনের প্রতীক হিসেবেও দেখা হয়েছে।

ইসরাইলি আগ্রাসনে বিধ্বস্ত গাজায় বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় তাঁবু কিংবা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ব্যক্তিগতভাবে খেলা দেখা সম্ভব হয়নি। তাই বিভিন্ন এলাকায় বড় পর্দার ব্যবস্থা করা হয়। শত শত ফিলিস্তিনি ক্যাফে ও খোলা জায়গায় একত্রিত হয়ে ম্যাচ উপভোগ করেন। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই সেই পরিবেশ উৎসবে পরিণত হয়।

স্পেনের পতাকা হাতে রাস্তায় নেমে উল্লাস প্রকাশ করে ফিলিস্তিনি তরুণ ও শিশুরা। করতালির মাধ্যমে তারা স্প্যানিশ দলকে অভিনন্দন জানায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা ইসরাইলি হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত গাজার শিশুরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে এই বিরল আনন্দের মুহূর্ত উদযাপন করছে।

ওমানের সমাজকর্মী শাবান আহমেদ আল-আজিলিসহ অনেকেই এক্সে লিখেছেন, গাজা তার পাশে দাঁড়ানো বন্ধুদের কখনো ভোলে না। তাদের ভাষায়, এই জয় শুধু ফুটবলের নয়; ধ্বংসস্তূপ ও গণহত্যার বেদনার মধ্য থেকেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি প্রতীক।

ফুটবল মাঠের এই সাফল্য ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক অঙ্গনেও সাড়া ফেলেছে। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ এবং প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজকে পাঠানো অভিনন্দন বার্তায় এই জয়কে ‘মহৎ বৈশ্বিক ক্রীড়া অর্জন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের কর্মকর্তা বাসেম নাঈমও স্পেনের এই বিজয়কে স্বাগত জানিয়ে ফিলিস্তিন ও তাদের সমর্থকদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। অধিকৃত পশ্চিম তীরের বেথলেহেম, হেব্রন ও নাবলুসসহ বিভিন্ন শহরে শত শত মানুষ স্প্যানিশ ও ফিলিস্তিনি পতাকা নিয়ে বিজয় মিছিল করেন।

ফিলিস্তিনি কার্টুনিস্ট আলা আল-লাকতা এবং মোহাম্মদ সাবানেহ তাদের আঁকা চিত্রে লামিন ইয়ামালসহ স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের হাতে ফিলিস্তিনের পতাকা তুলে দিয়ে দুই দেশের পারস্পরিক সংহতির প্রতিফলন তুলে ধরেছেন।

এর আগে বার্সেলোনার লা লিগা জয়ের উদযাপনেও লামিন ইয়ামালকে ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে দেখা গিয়েছিল।

ফিলিস্তিনিদের এই উচ্ছ্বাসের পেছনে স্পেনের কূটনৈতিক অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২০২৪ সালের মে মাসে স্পেন আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়, যা ইসরাইলকে ক্ষুব্ধ করেছিল। এরপর ২০২৫ সালে ইসরাইলের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা, বসতি স্থাপনের বিষয়ে কঠোর অবস্থান এবং তেল আবিব থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারের মতো পদক্ষেপ নেয় মাদ্রিদ।

সম্প্রতি স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্কবিষয়ক চুক্তি স্থগিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনের জন্য উন্নয়ন তহবিল বাড়ানোর ঘোষণাও দেন তিনি।

অন্যদিকে, ফাইনালে আর্জেন্টিনার পরাজয়ও অনেক ফিলিস্তিনির কাছে স্বস্তির কারণ হয়ে ওঠে। কারণ, আর্জেন্টিনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই দীর্ঘদিন ধরেই ইসরাইলের প্রতি নিঃশর্ত সমর্থন জানিয়ে আসছেন, যদিও দেশটির সাধারণ জনগণের একটি বড় অংশ ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহানুভূতিশীল।

ফিলিস্তিনি সাংবাদিক আলা রিমাউই দাবি করেছেন, রাজনৈতিক কারণে ইসরাইলি গণমাধ্যম ও কর্মকর্তারা স্পেনের পরাজয় কামনা করেছিলেন। এমনকি এক ইসরাইলি রাব্বিও স্পেনের হারের জন্য প্রার্থনা করেছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সব মিলিয়ে, যুদ্ধ ও সংঘাতের কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও স্পেনের বিশ্বজয় ফিলিস্তিনিদের জন্য এক বিরল আনন্দের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে এবং বিশ্বমঞ্চে তাদের পাশে থাকা একটি দেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সুযোগ এনে দিয়েছে।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

ফের বিশ্ববাজারে কমল স্বর্ণের দাম

ফের বিশ্ববাজারে কমল স্বর্ণের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার ছাড়িয়েছে। এর ফলে... বিস্তারিত