ঢাকা, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

মালভিনাস ব্যানারে ফিফার তদন্ত, আর্জেন্টিনার পাশে হোয়াইট হাউস

২০২৬ জুলাই ১৮ ১৪:৫৬:৩৮

মালভিনাস ব্যানারে ফিফার তদন্ত, আর্জেন্টিনার পাশে হোয়াইট হাউস

স্পোর্টস ডেস্ক: ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করার উচ্ছ্বাসের মধ্যেই নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনাল শেষে মাঠে ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস’ লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় আর্জেন্টিনা দলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে ফিফা। এ ঘটনাকে ঘিরে দেশটির ফুটবল দলের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে হোয়াইট হাউস।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৭ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় হোয়াইট হাউসের ফিফা টাস্কফোর্সের প্রধান অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড়দের এমন বক্তব্য দেওয়ার অধিকার রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে আমরা সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর অধীনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি।’

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিট এ ঘটনায় ফিফার তদন্তের আহ্বানকে সমর্থন জানিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বলেন, ‘বিশ্বকাপ হয়তো আমাদের নয়, কিন্তু ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ অবশ্যই আমাদের। ফকল্যান্ডের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার কখনো বদলাবে না।’

ডাউনিং স্ট্রিট আরও জানায়, আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটি ফিফার সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে তাদের মতে, ঘটনাটি তদন্ত করা উচিত।

দক্ষিণ-পশ্চিম আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ বর্তমানে যুক্তরাজ্যের একটি স্বশাসিত বিদেশি অঞ্চল। তবে এর সার্বভৌমত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে বিরোধ রয়েছে। আর্জেন্টিনায় দ্বীপপুঞ্জটি ‘লাস মালভিনাস’ নামে পরিচিত।

বুধবার সেমিফাইনালে ২-১ গোলে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস’ লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন, যার অর্থ ‘ফকল্যান্ড (মালভিনাস) আর্জেন্টিনার’।

এ ঘটনায় ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সরকারও হতাশা প্রকাশ করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, খেলাধুলায় রাজনীতি টেনে আনা উচিত নয় এবং ফিফার নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী এ ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার ম্যাচে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ও এখানকার জনগণকে রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করা হোক, আমরা তা চাই না।’

২০১৩ সালে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে অনুষ্ঠিত এক গণভোটে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যুক্তরাজ্যের বিদেশি অঞ্চল হিসেবেই থাকার পক্ষে ভোট দেন। ১ হাজার ৫১৭টি ভোটের মধ্যে ১ হাজার ৫১৩টি যুক্তরাজ্যের সঙ্গে থাকার পক্ষে এবং মাত্র ৩টি ভোট বিপক্ষে পড়ে।

এদিকে আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিয়াররুয়েল সেমিফাইনালে জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘এটি শুধু আরেকটি ম্যাচ ছিল না। মালভিনাস আর্জেন্টিনার। স্টেডিয়ামে এ নিয়ে ব্যানার আনতে বাধা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তারা ভুলে গেছে-মালভিনাস আমাদের রক্তে ও হৃদয়ে রয়েছে।’

এর আগে মিশরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে ৩-২ ব্যবধানে জয়ের পরও আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা ফকল্যান্ড, দিয়েগো ম্যারাডোনা এবং লিওনেল মেসিকে নিয়ে স্লোগান দেন।

উল্লেখ্য, ১৯৮২ সালে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে ৭৪ দিনের যুদ্ধ হয়। ওই যুদ্ধে ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা, তিনজন দ্বীপবাসী এবং ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন সেনা নিহত হন। শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ বাহিনী দ্বীপপুঞ্জ থেকে আর্জেন্টিনার সেনাদের সরিয়ে দেয়।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম

বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক বাজারে টানা ঊর্ধ্বগতির পর বুধবার স্বর্ণের দাম কমেছে। তেলের দাম বাড়তে থাকায় মূল্যস্ফীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার... বিস্তারিত