ঢাকা, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

বন্যাদুর্গতদের কাছে দেরিতে পৌঁছানোয় ক্ষমা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

২০২৬ জুলাই ১৮ ১৩:৫৫:২৪

বন্যাদুর্গতদের কাছে দেরিতে পৌঁছানোয় ক্ষমা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরীর বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে দুর্গত মানুষের কাছে দেরিতে পৌঁছানোর জন্য একাধিকবার ক্ষমা চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আঞ্চলিক ভাষায় তিনি বলেন, ‘আঁই দেরি গরি আইস্সিদে, আঁরে মাফ গরি দিয়্য (আমি দেরি করে এসেছি, আমাকে ক্ষমা করে দিন)।’

শুক্র ও শনিবার চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী, কাকারা, লক্ষ্যারচর, বরইতলী, পেকুয়া এবং নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন, ত্রাণ বিতরণ ও ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বন্যার শুরুতে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে দেশের বাইরে থাকায় তিনি দুর্গত মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছাতে পারেননি। দেশে ফিরে জাতীয় সংসদের গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার কারণে আরও কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে এ সময়জুড়ে সরকারের ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, “আমি না থাকলেও আপনাদের জন্য সহযোগিতা থেমে ছিল না। কোথাও বিজিবি, কোথাও পুলিশ, কোথাও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, কোথাও বেসরকারি সংস্থা এবং আমাদের দলীয় উদ্যোগে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। সবাই মিলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।”

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুর এবং বরইতলী-পহরচাঁদা এলাকার মানুষের জন্য বন্যা নতুন কোনো ঘটনা নয়। এসব এলাকা মাতামুহুরী নদীর তীরবর্তী হওয়ায় প্রায় প্রতি বছরই বন্যার ঝুঁকি থাকে। তাই শুধু ত্রাণ নয়, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ সময় স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কাকারা এলাকার বাইশ্যাছড়া খাল পুনঃখননের আশ্বাসও দেন তিনি।

বানভাসি মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমরা জনগণের সরকার। যে কোনো দুর্যোগে আমরা জনগণের পাশে আছি এবং থাকব। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি দলীয়ভাবেও সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। এই দুর্যোগে কাউকে একা ফেলে রাখা হবে না।”

দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার প্রকৃত চিত্র তুলে আনতে সরকারিভাবে জরিপ পরিচালিত হচ্ছে। রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কৃষিজমি, গবাদিপশু ও অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের পর সেই অনুযায়ী পুনর্বাসন ও সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার ত্রাণের পরিবর্তে মাতামুহুরী নদীতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং নদী ও খাল সংস্কারের দাবি জানান। তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপনের আশ্বাস দেন।

এদিকে শনিবার সকালে শামসুল হক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পেকুয়া উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২০টি পরিবারের মাঝে ঘর নির্মাণ সহায়তা ও গৃহস্থালি উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম

বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক বাজারে টানা ঊর্ধ্বগতির পর বুধবার স্বর্ণের দাম কমেছে। তেলের দাম বাড়তে থাকায় মূল্যস্ফীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার... বিস্তারিত