ঢাকা, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩

ব্যবসায়িক খরার মধ্যেও ৩০৮% দাম বাড়ল তালিকাভুক্ত কোম্পানির

২০২৬ জুলাই ১২ ০৯:৩৯:৪২

ব্যবসায়িক খরার মধ্যেও ৩০৮% দাম বাড়ল তালিকাভুক্ত কোম্পানির

অর্থনীতি ডেস্ক: দুর্বল আর্থিক পারফরম্যান্স এবং কোনো ধরনের মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই গত পাঁচ মাসে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স পিএলসি-র শেয়ারের দাম ৩০৮ শতাংশের বেশি বেড়েছে। কোম্পানির ব্যবসায়িক ভিত্তির সাথে সামঞ্জস্যহীন এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি শেয়ারটির ভ্যালুয়েশন এবং লেনদেনের ধরন নিয়ে বাজারে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ ফেব্রুয়ারি কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ছিল ৪১.৮০ টাকা, যা টানা বেড়ে গত ৯ জুলাই ১৭০.৬০০ টাকায় পৌঁছায়। এই সংক্ষিপ্ত সময়ে শেয়ারটির দর বেড়েছে ৩০৮.১৩ শতাংশ। শেয়ারের এমন লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির পেছনে কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য আছে কি না, তা জানতে ডিএসই কর্তৃপক্ষ দুই দফায় কোম্পানিটিকে নোটিশ পাঠায়। তবে উভয় সময়ই ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স জানায় যে তাদের কাছে কোনো অপ্রকাশিত তথ্য নেই।

কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদনও শেয়ারের এই আকাশচুম্বী দামকে কোনোভাবেই সমর্থন করে না। চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, ড্যাফোডিল কম্পিউটার্সের রাজস্ব আয় হয়েছে ৯.৪৩ কোটি টাকা এবং নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৩ লাখ টাকায়। এই তিন মাসে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে মাত্র ০.০৫ টাকা এবং শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৩.৪১ টাকা। ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে বিক্রি কমে যাওয়ার কারণে মুনাফায় এই ধস নেমেছে বলে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

আর্থিক সূচকের এমন নাজুক দশা সত্ত্বেও বাজারে শেয়ারটির কৃত্রিম ও ধারাবাহিক ক্রয়চাপ দেখা গেছে। এর ফলে কোম্পানিটির মূল্য-আয় অনুপাত বা পিই রেশিও এক লাফে ৫১১.৮০-এ ঠেকেছে, যা দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। ৫০০-এর ওপর পিই রেশিও থাকার অর্থ হলো, কোম্পানির ১ টাকা আয়ের বিপরীতে বিনিয়োগকারীরা ৫০০ টাকারও বেশি দিতে প্রস্তুত রয়েছেন। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে অলৌকিক কোনো মুনাফা বৃদ্ধির সম্ভাবনা ছাড়া এই ধরনের ভ্যালুয়েশন কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।

এর আগে ক্রিয়েটিভ ইন্টারন্যাশনালের ঋণ পরিশোধের লক্ষ্যে ১৫ টাকা মূল্যে ৩ কোটি ২৬ লাখের বেশি সাধারণ শেয়ার ছাড়ার পরিকল্পনা করেছিল ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স, যা বিশেষ সাধারণ সভায় শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনও পায়। তবে চলতি বছরের ২১ মে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কোম্পানিটির ৪৯.০৪ কোটি টাকার এই শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাবটি নামঞ্জুর করে দেয়।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিএসইসি এবং ডিএসই উভয়েই মৌলিকভাবে দুর্বল শেয়ারগুলোর অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইতিমধ্যেই স্টক এক্সচেঞ্জগুলোকে বাজার নজরদারি জোরদার করার এবং কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া শেয়ারের দাম বাড়লে তার পেছনে কোনো কারসাজি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ড্যাফোডিল কম্পিউটার্সের শেয়ারের এই উল্লম্ফন কোম্পানির মূল আর্থিক ভিত্তির সাথে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ। দৃশ্যমান কোনো ব্যবসায়িক উন্নয়ন বা তথ্য প্রকাশ ছাড়া এমন অস্বাভাবিক র্যালি বাজার কারসাজির স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়, যা কঠোর নিয়ন্ত্রক তদন্তের দাবি রাখে। একই সাথে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে কেন এখনো দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছেন। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আর্থিক অবস্থা, সম্পদ মূল্য ও দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা যাচাই না করে কেবল দরবৃদ্ধির পেছনে না ছোটার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যথায় এই ধরনের অতি-মূল্যায়িত শেয়ারে বিনিয়োগ করে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে বলে তারা সতর্ক করেছেন।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১১ জুলাই)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১১ জুলাই)

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে দেশে ফের বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন... বিস্তারিত