ঢাকা, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩

অর্থনীতিবান্ধব রাজনীতি ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়: তথ্যমন্ত্রী

২০২৬ জুলাই ০৬ ১৫:১৭:৩০

অর্থনীতিবান্ধব রাজনীতি ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের জন্য সম্ভাব্য তিন বছরের বর্ধিত সময় দেশের রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় নীতি সংস্কারে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জাহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, রাজনীতি যদি অর্থনীতিবান্ধব না হয়, তাহলে এ ধরনের আলোচনা কেবল তাত্ত্বিক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকবে। জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে অর্থনীতিবান্ধব রাজনীতি গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

সোমবার (৬ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র‍্যাপিড) আয়োজিত ‘এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন অ্যান্ড ট্রেড কম্পিটিটিভনেস’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এলডিসি উত্তরণের আনুষ্ঠানিক সময় এখনই না এলেও বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বিকল্প ছিল না। অর্থনীতিকে রপ্তানিমুখী করেই এগিয়ে যেতে হবে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর এসব চ্যালেঞ্জ আরও বাড়বে। এ বাস্তবতায় সরকার গত ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে। এর ফলে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সময় বৃদ্ধির একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে এই অতিরিক্ত সময় কেবল সমস্যা পিছিয়ে দেওয়ার জন্য নয়, বরং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।

তিনি জানান, সরকারের নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। অতিরিক্ত সময় পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় নীতি সংস্কার, রপ্তানির প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি, প্রশাসনিক জটিলতা দূরীকরণ এবং এলডিসি-পরবর্তী নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হবে। অর্থনীতিবিদদের উপস্থাপিত মতামত বিষয়টিকে আরও স্পষ্ট করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, আধুনিক বিশ্ব বাণিজ্যব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশকে এগোতে হবে। এলডিসি উত্তরণের পর যে নতুন বাস্তবতা তৈরি হবে, তা মোকাবিলায় এখন থেকেই পরিকল্পিত প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। তিনি বলেন, জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমোদনের পর বিষয়টি সাধারণ পরিষদের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি বাংলাদেশ হওয়ায় এ ক্ষেত্রে বড় কোনো বাধা সৃষ্টি হবে না এবং বাংলাদেশ তিন বছরের বর্ধিত সময় পাবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের রপ্তানি খাতের সব ধরনের চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করা প্রয়োজন। অর্থনীতিবিদদের সুপারিশের ভিত্তিতে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। জাতিসংঘের ‘স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি’তে প্রায় ১৫৭টি পদক্ষেপের কথা উল্লেখ রয়েছে। দেশীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেগুলো মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় নীতি সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

জাহির উদ্দিন স্বপন বলেন, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার মতো কয়েকটি বাজারে চাপ তুলনামূলক কম থাকলেও অন্যান্য রপ্তানি গন্তব্যে বাংলাদেশকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। তাই সময় বৃদ্ধি নিশ্চিত করাই চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়; বরং সেই সময়কে সর্বোচ্চ কার্যকরভাবে কাজে লাগানোই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি দৌলত আক্তার মালা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ও র‍্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক ড. এম আবু ইউসুফ এবং র‍্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

স্বর্ণের দাম কমেছে, ভরিতে কত?

স্বর্ণের দাম কমেছে, ভরিতে কত?

নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা দুই দফা দাম বাড়ানোর পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন... বিস্তারিত