ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩

‘বিদ্যুৎ বিল বেশি আসার পেছনে কেউ জড়িত কিনা খতিয়ে দেখা হবে’

২০২৬ জুলাই ০৬ ১৪:০৮:৫৩

‘বিদ্যুৎ বিল বেশি আসার পেছনে কেউ জড়িত কিনা খতিয়ে দেখা হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক: গ্রীষ্মকালে বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বেশি আসার পেছনে অসাধু কর্মকর্তাদের কোনো ভূমিকা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

সোমবার (৬ জুলাই) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে আনতে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে কৃষিজমি নষ্ট হয় এমন কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে না।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্র বেসরকারি খাতের হাতে থাকায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি) উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে। বিগত সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক অপচয় হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ৫৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রেখে গেছে। সেই দায় এখন বর্তমান সরকারের ওপর এসেছে এবং এ দেনা পরিশোধ করাই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

মন্ত্রী বলেন, বিগত সরকার যে আর্থিক বিশৃঙ্খলা রেখে গেছে, তা সামাল দিতে বর্তমান সরকারকে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হচ্ছে। এখন বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকেও জ্বালানি আমদানি করতে হয়। সরকার বকেয়া পরিশোধ করতে না পারলে তারা জ্বালানি কিনতে পারে না, আর জ্বালানি কিনতে না পারলে বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন, যেগুলোর জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। একই সঙ্গে সরকার ঋণনির্ভরতা কমানোর উপায়ও খুঁজছে। এসব বিষয় সমন্বয় করেই এগোতে হচ্ছে।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, সরকার বর্তমানে অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। এ কারণেই জ্বালানি আমদানির চাপ কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘ফার্স্ট ইনিংস অনেক আগে খেলে গেছি, এখন সেকেন্ড ইনিংস।’ মন্ত্রণালয়ের একটি কারিগরি (টেকনিক্যাল) টিম গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ লক্ষ্যে পিডিবির একজন সাবেক চেয়ারম্যানকে নিয়ে একটি দল গঠন করা হয়েছে, যারা বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করবে।

বিদ্যুৎ বিল প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারেও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র (এসি) ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে। নানা কারণে বিদ্যুৎ বিল বাড়তে পারে। তবে তিনি স্বীকার করেন, ‘আমি বলছি না আমাদের লোকজন সব সৎ।’

তিনি জানান, বিদ্যুৎ বিলসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কনটেন্ট প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত তাঁর কাছে পাঠান। একই সঙ্গে এসব বিষয়ে সংবাদ বা কনটেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির, ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক সেরাজুল ইসলাম সেরাজ, উন্নয়ন ও পরিবেশকর্মী বিশেষজ্ঞ আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আরিফ খান।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত