ঢাকা, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
কৃষক কার্ডের মাধ্যমে বাজারে ভারসাম্য আনতে চায় সরকার: কৃষিমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক: কৃষক কার্ড চালুর ফলে মধ্যস্বত্বভোগীরা আর আগের মতো সুবিধা নিতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ। তিনি বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে দেশের কৃষকদের একটি সমন্বিত ডেটাবেস তৈরি হবে, যা উৎপাদন, চাহিদা ও বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
শনিবার (৪ জুলাই) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কোন অঞ্চলে কী ফসল উৎপাদিত হচ্ছে, সে বিষয়ে সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকবে। যেসব এলাকায় আলুর উৎপাদন বেশি, সেসব এলাকার কৃষকদের আগেভাগেই বাজারের চাহিদা সম্পর্কে জানানো সম্ভব হবে। ফলে কৃষকেরা সে অনুযায়ী উৎপাদন পরিকল্পনা করতে পারবেন। এতে উৎপাদন ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি হলে মধ্যস্বত্বভোগীদের সুযোগ কমে যাবে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন মৌসুমে কোনো কোনো সবজির উৎপাদন এত বেশি হয় যে কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য পান না। অনেক ক্ষেত্রে বাজারে নেওয়ার খরচও ওঠে না বলে কৃষকেরা ক্ষেতেই টমেটোর মতো ফসল ফেলে রাখতে বাধ্য হন। এতে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
সরকার ইউনিয়ন পর্যায়ে মিনি কোল্ডস্টোরেজ স্থাপনের পরিকল্পনা করছে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ধারণা থেকে এসব কোল্ডস্টোরেজ নির্মাণ করা হবে। এগুলো সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে পরিচালিত হবে, ফলে কৃষকেরা উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণের সুযোগ পাবেন এবং ক্ষতির ঝুঁকি কমবে।
মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বলেন, দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে কৃষিসংশ্লিষ্ট মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন জরুরি। এ লক্ষ্যেই সরকার কৃষকদের উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। ইতোমধ্যে হতদরিদ্র কৃষকদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষিকে আধুনিক ও তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় আনতেই কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় শুধু ধান, গম বা পাটচাষিই নন; লবণ, সুপারি, নারিকেল, পান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত হবেন। এর মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকের সংখ্যা, উৎপাদনের ধরন এবং ফসলভিত্তিক তথ্য সরকারের কাছে সংরক্ষিত থাকবে। ভবিষ্যতে কৃষি ভর্তুকি, প্রণোদনা এবং অন্যান্য সরকারি সহায়তাও এই কার্ডের মাধ্যমেই প্রকৃত কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম ফিশারি ঘাটের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে স্থানীয় প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সরকার খতিয়ে দেখবে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়া এবং দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঝাটকা সংরক্ষণ ও প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ রাখতে সরকার জেলেদের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি তাদের বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা দাদননির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন। দেশীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ইলিশ রপ্তানি বাড়ানোও সরকারের লক্ষ্য।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৩ সেপ্টেম্বর)
- পে স্কেল নিয়ে নতুন বিজ্ঞপ্তি দিল অর্থ মন্ত্রণালয়
- জেনে নিন একাদশ-আলিমে ভর্তির আবেদন পদ্ধতি
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফল আজ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ সেপ্টেম্বর)
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ রিলিজ স্লিপের ফল প্রকাশ
- সাত কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফরম পূরণ স্থগিত
- নবম পে-স্কেল অনুমোদন, বেতন বাড়ল কত
- জুলাই থেকেই কার্যকর নতুন পে স্কেল, বকেয়া পাবেন যেভাবে
- আগামী ১০ বছরে যেসব চাকরির চাহিদা বাড়বে, জেনে নিন
- শিক্ষক নিয়োগ দেবে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
- ছাত্রের সঙ্গে শিক্ষিকার শারীরিক সম্পর্ক, ৭ বছরের জেল
- এসএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুখবর
- নতুন প্রজন্মকে তামাকের ক্ষতি থেকে বাঁচাতে ঘরে ঘরে সচেতনতা জরুরি
- মেসির চার গোলে ইতিহাস গড়ল ইন্টার মিয়ামি