ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩

বিশ্বমানে উন্নত হবে মেডিকেল শিক্ষার কারিকুলাম: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

২০২৬ জুলাই ০২ ১৩:৪৪:৫৩

বিশ্বমানে উন্নত হবে মেডিকেল শিক্ষার কারিকুলাম: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের মেডিকেল শিক্ষার কারিকুলাম উন্নত বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসক তৈরির লক্ষ্যে মেডিকেল শিক্ষার পাঠ্যক্রমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগে মাইক্রোস্কোপ ও ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। একই সঙ্গে হাসপাতালের ডিআই সাপ্লাইয়ের অনিয়ম দূর করতে দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মেডিকেলের কারিকুলাম নিয়ে প্রস্তাবনা রয়েছে। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কারিকুলাম তৈরি করা হবে। ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। মেডিকেলের কারিকুলাম আরও আধুনিক ও উন্নত বিশ্বের সঙ্গে সাদৃশ্য রেখে করা হবে।’

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, গত ১৭ বছরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ উন্নত বিশ্বের চিকিৎসাব্যবস্থার সঙ্গে তাল মেলাতে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চিকিৎসার মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত প্যাথলজি বিভাগে তিন বছর আগে একটি সরকারি মাইক্রোস্কোপ নষ্ট হলেও নতুন কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।

মন্ত্রী জানান, হস্তান্তর করা সর্বাধুনিক মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে এখন থেকে এক সিটিংয়েই নিখুঁতভাবে ক্যান্সার ডায়াগনোসিস করা সম্ভব হবে, যা চিকিৎসাসেবায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, রোগটি নিয়ন্ত্রণে গত দুই মাস ধরে সরকার জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করছে। চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং রোগীদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের কথাও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘লার্ভা ধ্বংস করার জন্য একটি বিশেষ মেডিকেল ট্যাবলেট আগামী সাত দিনের মধ্যে সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ছোট ছোট জমে থাকা পানি, ডাবের খোসা বা টায়ারে এই ট্যাবলেট ব্যবহারে লার্ভা দ্রুত ধ্বংস হবে।’

ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় বিশেষ সতর্কতার ওপর গুরুত্বারোপ করে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ‘প্লাজমা লিকেজের কারণে অনেক সময় রোগী মারা যায়। এজন্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সমন্বয়ে একটি “ডেইলি ট্রিটমেন্ট প্রটোকল” তৈরি করে তা সব চিকিৎসকের মোবাইলে ও ওয়েবসাইটে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, কোনো ডেঙ্গু রোগীর জ্বর ভালো হয়ে গেলেও পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে ছাড়পত্র (ডিসচার্জ) দেওয়া যাবে না।’

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হোসেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মাজহারুল শাহীন এবং উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোসাররাত সুলতানাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত