ঢাকা, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩
আজ পবিত্র আশুরা
নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখ ‘আশুরা’ নামে পরিচিত। ‘আশুরা’ শব্দটি এসেছে আরবি ‘আশারা’ থেকে, যার অর্থ দশ। ইসলামের ইতিহাসে এই দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ। প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় ঘটনার কারণে দিনটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে আসছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় হিজরত করার পর দেখতে পান, ইহুদিরা এ দিনে রোজা রাখছে। কারণ জানতে চাইলে তারা জানায়, এই দিনে মহান আল্লাহ হযরত মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীদের ফেরাউনের জুলুম থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন এবং ফেরাউন ও তার বাহিনীকে লোহিত সাগরে ডুবিয়ে ধ্বংস করেছিলেন। আল্লাহর এই অনুগ্রহের কৃতজ্ঞতাস্বরূপ হযরত মুসা (আ.) রোজা রাখতেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মুসার ব্যাপারে তোমাদের চেয়ে আমরাই অধিক হকদার।’ এরপর তিনি নিজেও আশুরার রোজা পালন করেন এবং সাহাবিদেরও তা পালনের নির্দেশ দেন।
তবে ইহুদিদের ধর্মীয় রীতিনীতির সঙ্গে সাদৃশ্য এড়ানোর জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) শুধু ১০ তারিখ নয়, এর সঙ্গে আগের দিন (৯ তারিখ) অথবা পরের দিন (১১ তারিখ) মিলিয়ে মোট দুটি রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘আমি যদি আগামী বছর জীবিত থাকি, তবে অবশ্যই নবম তারিখেও রোজা রাখব।’ তাই আশুরার আমল ও সুন্নত হলো ৯ ও ১০ মহররম অথবা ১০ ও ১১ মহররম মিলিয়ে রোজা রাখা।
আশুরার অন্যতম প্রধান শিক্ষা হলো, সত্য কখনো পরাজিত হয় না। বাহ্যিক দৃষ্টিতে হযরত মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীরা যখন নিরস্ত্র ও অসহায় ছিলেন এবং পেছনে শক্তিশালী ফেরাউনের বিশাল বাহিনী ও সামনে উত্তাল সাগরের মুখোমুখি হয়ে মহাসংকটে পড়েছিলেন, তখনও মহান আল্লাহ তাঁর কুদরতে সত্যকে জয়ী করেন। এই ঘটনা আমাদের শেখায়, সংকট যত কঠিনই হোক না কেন, আল্লাহর ওপর আস্থা রেখে ধৈর্য ধারণ করলে পথ সুগম হয়।
পাশাপাশি ইসলামের ইতিহাসে মহররমের ১০ তারিখে সংঘটিত কারবালার মর্মান্তিক ঘটনাও মুসলমানদের জন্য গভীর শিক্ষণীয়। নবী দৌহিত্র হযরত হুসাইন (রা.) অন্যায়, জুলুম ও স্বৈরাচারের কাছে মাথানত না করে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অটল থেকে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তিনি পার্থিব কোনো স্বার্থ বা ক্ষমতার মোহে আদর্শ বিসর্জন দেননি। কারবালার এই রক্তস্নাত অধ্যায় প্রমাণ করে যে, একজন মুমিন কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করতে পারে না এবং সত্যের জন্য প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকে।
তবে কারবালার এই ঐতিহাসিক শোকাবহ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসলামের বিধি-বিধান লঙ্ঘন করা সমীচীন নয়। শোক প্রকাশের নামে নিজের শরীরকে আঘাত করা, আত্মপ্রহার, বুক চাপড়ানো, কাপড় ছেঁড়া বা শরীর ক্ষতবিক্ষত করার মতো মাতম করা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি গালে আঘাত করে, কাপড় ছিঁড়ে এবং জাহেলি যুগের মতো আহ্বান (বিলাপ) করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।’
সুতরাং আশুরার প্রকৃত তাৎপর্য কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি সত্য, ন্যায়, ধৈর্য ও আত্মত্যাগের আদর্শ ধারণ করার শিক্ষা দেয়। তাই দিনটি যথাযথভাবে পালন করার উত্তম উপায় হলো সুন্নাহ অনুযায়ী রোজা রাখা, বেশি বেশি ইবাদত করা এবং অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে নৈতিক অবস্থানে অটল থাকা।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়ার ম্যাচ LIVE দেখুন এখানে
- পর্তুগাল বনাম উজবেকিস্তান ম্যাচ LIVE দেখুন এখানে
- বাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়ার টি-২০ ম্যাচ-দেখুন সরাসরি (LIVE)
- ব্রাজিল-স্কটল্যান্ড ম্যাচ কখন, কোথায় দেখবেন? জেনে নিন সব তথ্য
- ব্রাজিল বনাম হাইতি ম্যাচের নতুন সময় ঘোষণা
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষককে বরখাস্ত, দুজনকে অব্যাহতি
- আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া ম্যাচ: কোথায় দেখবেন লাইভ, জেনে নিন
- স্পেন বনাম সৌদি আরব: জেনে নিন লাইভ দেখার সহজ উপায়
- আজ রাতের জন্য কিছু জরুরি সেফটি টিপস
- আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া ম্যাচ শেষ, দেখুন ফলাফল
- প্রীতি জিনতার আপত্তিকর ভিডিও ফাঁস!
- ফ্রান্স বনাম ইরাক ম্যাচ, কখন কোথায় দেখবেন লাইভ
- আজকের খেলার সময়সূচি (২১ জুন)
- চলছ ব্রাজিল বনাম হাইতির ম্যাচ: সরাসরি দেখুন (LIVE)
- স্থগিত হতে পারে ব্রাজিল ও স্কটল্যান্ডের ম্যাচটি