ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউটে দক্ষিণ আফ্রিকা

২০২৬ জুন ২৫ ১০:২০:৩৭

প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউটে দক্ষিণ আফ্রিকা

স্পোর্টস ডেস্ক: দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথমবারের মতো টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে বাফানা বাফানা। গ্রুপ ‘এ’-এর শেষ ম্যাচে থাপেলো মাসেকোর একমাত্র গোলে জয় তুলে নিয়ে রানার্সআপ হিসেবে পরবর্তী রাউন্ডে উঠেছে আফ্রিকার দলটি। একই সময়ে চেক প্রজাতন্ত্রকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শতভাগ সাফল্য নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্বাগতিক মেক্সিকো।

মেক্সিকোর মন্তেরেই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ও লড়াকু ফুটবল উপহার দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচের ৬৩তম মিনিটে ছেপাং মোরেমির নিখুঁত ক্রস থেকে গোল করেন থাপেলো মাসেকো। শেষ পর্যন্ত তার সেই গোলই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।

এই জয়ে তিন ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘এ’-এর দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করে দক্ষিণ আফ্রিকা। অন্যদিকে তিন ম্যাচেই জয় পাওয়া মেক্সিকোর সংগ্রহ ৯ পয়েন্ট। বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল সরাসরি পরবর্তী রাউন্ডে জায়গা পায়।

তিন ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে শেষ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। তবে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান এখনই শেষ হয়নি। সেরা আট তৃতীয় স্থানধারী দলের মধ্যে থাকতে পারলে দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার সুযোগ পাবে এশিয়ার প্রতিনিধিরা। সে জন্য এখন অন্য গ্রুপগুলোর ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে দলটিকে।

একই সময়ে অনুষ্ঠিত গ্রুপের অন্য ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে মেক্সিকো। স্বাগতিকদের হয়ে গোল করেন মাতেও চাভেস, হুলিয়ান কিনিওনেস ও আলভারো ফিদালগো।

ম্যাচটিতে আরও একটি বিশেষ মুহূর্ত ছিল অভিজ্ঞ গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়ার বিশ্বকাপ অভিষেক। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলার রেকর্ড গড়েন। এর মাধ্যমে তিনি লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পাশে নিজের নাম লেখান।

গ্রুপ পর্বজুড়ে দুর্দান্ত ছন্দে ছিল মেক্সিকো। তিন ম্যাচে তারা ছয়টি গোল করেছে, কোনো গোল হজম করেনি এবং পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে শেষ ৩২ পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। এখন তারা গ্রুপ ‘সি’, ‘ই’, ‘এফ’, ‘এইচ’ অথবা ‘আই’-এর তৃতীয় স্থানধারী কোনো দলের মুখোমুখি হবে। আগামী ৩০ জুন আজতেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে সেই ম্যাচ।

দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য এটি নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক অর্জন। এর আগে ১৯৯৮, ২০০২ ও ২০১০ বিশ্বকাপে অংশ নিলেও কখনো গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি তারা। এমনকি ২০১০ সালে নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ আয়োজন করেও প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল দলটিকে। এবার সেই আক্ষেপ ঘুচিয়েছে বাফানা বাফানা।

চলতি আসরে দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুটা ছিল হতাশাজনক। প্রথম ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে ২-০ গোলে হারের পর চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের গোলে ১-১ সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা। ফলে শেষ ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে জয় ছাড়া অন্য কোনো পথ খোলা ছিল না।

সেই কঠিন সমীকরণই সফলভাবে মিলিয়েছে আফ্রিকার দলটি। নিজেদের চেয়ে এগিয়ে থাকা দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে নিশ্চিত করেছে নকআউট পর্বের টিকিট।

ম্যাচের আগে দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ হং মিয়ুং-বো বড় চমক দিয়ে অধিনায়ক সন হিউং-মিনকে শুরুর একাদশে রাখেননি। গত এক দশক ধরে দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এই ফুটবলারকে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নামানো হয়। তবে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির এই তারকা মাঠে নেমেও দলের ভাগ্য বদলাতে পারেননি।

বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়া যাত্রা শুরু করেছিল চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় দিয়ে। এরপর মেক্সিকোর কাছে ১-০ গোলে হারে তারা। শেষ ম্যাচেও পরাজয়ের কারণে সরাসরি নকআউট পর্বে ওঠার সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে তায়েগুক ওয়ারিয়র্সদের।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে দক্ষিণ কোরিয়ার সাফল্যও কম নয়। ২০০২ সালে প্রথম এশিয়ান দল হিসেবে সেমিফাইনালে উঠে চতুর্থ স্থান অর্জন করেছিল তারা। এছাড়া ২০১০ ও ২০২২ বিশ্বকাপেও শেষ ১৬-তে খেলেছে দলটি। তবে এবার তাদের ভাগ্য নির্ধারণ হবে অন্য গ্রুপগুলোর ফলাফলের ওপর।

অন্যদিকে, ঐতিহাসিক এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠে দেশটির ফুটবল ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে বাফানা বাফানা।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত