ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
রোনালদো: পর্তুগালের সম্পদ নাকি বোঝা?
স্পোর্টস ডেস্ক: এক সময় প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের জন্য ভয়ংকর এক নাম ছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। গতি, শারীরিক শক্তি, গোল করার তীব্র ক্ষুধা এবং নিখুঁত ফিনিশিং দক্ষতায় তিনি আধুনিক ফুটবলে নিজস্ব এক মানদণ্ড তৈরি করেছিলেন।
তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের পর পর্তুগাল অধিনায়ককে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। জাতীয় দলের জন্য তিনি এখনো কতটা কার্যকর, নাকি সময়ের সঙ্গে তার ভূমিকা সীমিত হয়ে এসেছে—এমন প্রশ্ন উঠছে।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে পর্তুগাল। ম্যাচে বল দখল, পাসিং ও আক্রমণে আধিপত্য থাকলেও গোলের সামনে তারা কার্যকারিতা দেখাতে পারেনি। সেই ব্যর্থতার আলোচনায় উঠে আসে রোনালদোর নিস্তেজ পারফরম্যান্স।
পর্তুগালের ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকা হিসেবে রোনালদোর ওপর প্রত্যাশা সবসময়ই বেশি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দলের হয়ে তিনি আগের মতো প্রভাব ফেলতে পারছেন না।
কঙ্গোর বিপক্ষে পুরো ম্যাচে তিনি মাত্র ২৫ বার বল স্পর্শ করেন এবং গোলের লক্ষ্যে কোনো শটও নিতে পারেননি। এক সময় যিনি একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতেন, সেই রোনালদোকেই এবার আক্রমণভাগে নিষ্প্রভ দেখা গেছে।
ম্যাচ-পরবর্তী বিশ্লেষণে সাবেক ফরাসি তারকা থিয়েরি অঁরি বলেন, ‘দলের প্রয়োজন গোল, ব্যক্তিগত অর্জন নয়।’ তার এই মন্তব্য পর্তুগালের বর্তমান পরিস্থিতিকেই ইঙ্গিত করে।
পরিসংখ্যানও রোনালদোর জন্য ইতিবাচক নয়। বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে টানা ১০ ম্যাচে তিনি গোল পাননি। মেজর টুর্নামেন্টে দীর্ঘ সময় ধরে পেনাল্টি ছাড়া তার গোল নেই। সাম্প্রতিক বড় টুর্নামেন্টগুলোতেও পর্তুগালের আক্রমণভাগের কার্যকারিতা সীমিত ছিল।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোনালদোর খেলায়ও পরিবর্তন এসেছে। আগের মতো গতি, ড্রিবলিং বা রক্ষণ ভাঙার সক্ষমতা এখন আর নেই। তিনি এখন মূলত বক্স-ভিত্তিক স্ট্রাইকার হিসেবে খেলেন, যেখানে সুযোগ না পেলে তার প্রভাব কমে যায়।
অন্যদিকে পর্তুগালের মিডফিল্ডে ব্রুনো ফার্নান্দেস, ভিতিনিয়া ও বার্নার্দো সিলভার মতো সৃজনশীল খেলোয়াড়রা নিয়মিত সুযোগ তৈরি করছেন। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে রোনালদোর কাছ থেকে প্রত্যাশিত ফল মিলছে না।
সমর্থকদের একাংশের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে একাদশে পরিবর্তন এনে তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় আনা যেতে পারে।
তবুও রোনালদোর গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না। তিনি এখনো অধিনায়ক, দলের অনুপ্রেরণা এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম সফল গোলদাতা। তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব পর্তুগালের জন্য এখনো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।
কোচ রবার্তো মার্তিনেজও তার ওপর আস্থা রেখে বলেছেন, ‘যখন গোলের প্রয়োজন হয়, তখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার কোনো কারণ নেই।’
বিশ্বকাপ এখনো দীর্ঘ পথ। একটি ম্যাচ দিয়ে রোনালদোর সামগ্রিক সামর্থ্যকে বিচার করা কঠিন। তবে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পারফরম্যান্স স্পষ্ট করে দিয়েছে, বয়সের চ্যালেঞ্জ এখন তার ক্যারিয়ারের বড় বাস্তবতা।
এখন দেখার বিষয়, সমালোচনার জবাব তিনি মাঠের পারফরম্যান্সে দিতে পারেন কি না, নাকি বিশ্বকাপের শেষ অধ্যায়ে তাকে লড়তে হবে নিজেরই গড়া কিংবদন্তির ছায়ার বিরুদ্ধে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স শেষপর্বের ফল প্রকাশ
- মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের জুলাইয়ের বেতন ফাইল চূড়ান্ত
- এসএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষণে আবেদন করবেন যেভাবে
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৯ আগস্ট)
- দাখিল ও কারিগরি বোর্ডের ফল দেখবেন যেভাবে
- জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে যেতে টিকিট কাটবেন যেভাবে
- মালয়েশিয়াকে ৮৯ রানে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে বাংলাদেশ
- ভাতা-উপবৃত্তির আবেদন শুরু, জেনে নিন পদ্ধতি
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১০ আগস্ট)
- আজকের বাজারে স্বর্ণ-রুপার দাম (৫ আগস্ট)
- নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে সর্বশেষ যা জানা গেল
- পরীক্ষায় ফেল বা খারাপ করার পর শিক্ষার্থীদের করণীয় কী
- এক ক্লিকে জেনে নিন আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের দাম ও ফিচার
- পাঁচ দপ্তরে নতুন সচিব নিয়োগ দিল সরকার
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ আগস্ট)