ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩

আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র একসঙ্গে চলতে পারে না: মির্জা ফখরুল

২০২৬ জুন ১৬ ১৭:২৮:৫৮

আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র একসঙ্গে চলতে পারে না: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের সঙ্গে গণতন্ত্রের সহাবস্থান কখনোই সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, অতীত, বর্তমান কিংবা ভবিষ্যতে কোনো সময়েই আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র একই ধারায় চলতে পারে না।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে সাংবাদিক সমাজের সঙ্গে একাত্ম হয়ে তারা ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ পালন করে আসছেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সাংবাদিকদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, হামলা-মামলা এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সাংবাদিকরা সাহসিকতার সঙ্গে সত্য তুলে ধরেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশ ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। তারপরও অনেক সাংবাদিক নিজেদের নিরাপত্তার তোয়াক্কা না করে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছেন। এজন্য তিনি সাংবাদিক সমাজের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে দেশে এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকারও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধভাবে কাজ করছে।

তবে সংবাদপত্র শিল্পের ভেতরের বিভিন্ন সংকটের বিষয়ও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, কিছু সংবাদমাধ্যম মালিক সাংবাদিকদের প্রতি অন্যায্য আচরণ করছেন, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য উদ্বেগের বিষয়। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতিকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ তুলে তিনি এর নিন্দা জানান এবং সাংবাদিকদের নিজেদের অধিকার রক্ষায় আরও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

দেশে কর্মহীন সাংবাদিকদের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক দক্ষ ও অভিজ্ঞ সাংবাদিক বেকার অবস্থায় রয়েছেন, যা গণমাধ্যম খাতের জন্য বড় সংকট। এ সময় তিনি তথ্যমন্ত্রীর প্রতি বন্ধ হয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী সংবাদপত্রগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি নতুন সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর দাবিও করেন।

বিএনপির রাজনৈতিক দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি কোনো বিপ্লবী রাজনৈতিক দল নয়; এটি একটি উদার, প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংগঠন। দলটি ধর্ম, বর্ণ বা পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজনের রাজনীতি করে না; বরং সকল নাগরিকের সমান অধিকারে বিশ্বাস করে।

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের জন্য বিএনপিই সবচেয়ে নিরাপদ রাজনৈতিক দল। কারণ দলটি ভিন্নমতকে সম্মান করে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। অতীতে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম ছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামল প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের ইতিহাসে গত ১৫ বছর ছিল ভয়াবহ দুঃশাসনের সময়। তিনি মনে করেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে যেমন বহু গবেষণা ও বই লেখা হয়েছে, তেমনি সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতা, গণতন্ত্রের সংকট এবং ফ্যাসিবাদী শাসনের অভিজ্ঞতা নিয়েও গবেষণা হওয়া প্রয়োজন।

এ লক্ষ্যে লেখক, গবেষক ও সাংবাদিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে প্রকৃত ইতিহাস সংরক্ষণ ও তুলে ধরতে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সক্রিয় ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ১৬ জুনের মতো সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণের কোনো কালো অধ্যায় যেন আর কখনো দেশের ইতিহাসে ফিরে না আসে। গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ভবিষ্যতেও পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক আব্দুল হাই সিদ্দিকসহ সাংবাদিক ও গণমাধ্যম অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত