ঢাকা, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রাথমিকে ৫০-৬০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ হবে: ববি হাজ্জাজ

২০২৬ জুন ১০ ১৭:০৪:৪১

প্রাথমিকে ৫০-৬০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ হবে: ববি হাজ্জাজ

পার্থ হক: প্রাথমিক শিক্ষায় শিল্প, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াভিত্তিক শিক্ষা আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আগামী পাঁচ বছরে সংগীত, নৃত্যকলা, নাট্যকলা, চারুকলা ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট খাতে ৫০ থেকে ৬০ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

বুধবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভার বিষয় ছিল প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত, নৃত্যকলা ও সাংস্কৃতিক শিক্ষার সম্প্রসারণ, নতুন কারিকুলাম প্রণয়ন এবং দক্ষ শিক্ষক তৈরির পরিকল্পনা। এতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত, নৃত্যকলা, নাট্যকলা ও চারুকলা বিভাগের শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত, নৃত্যকলা ও ক্রীড়াভিত্তিক শিক্ষার পরিধি বাড়ানো হলে ভবিষ্যতে বিপুলসংখ্যক বিশেষায়িত শিক্ষক ও প্রশিক্ষকের প্রয়োজন হবে। ফলে এসব বিষয়ে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার গঠনের সুযোগও বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত শিক্ষা-দর্শনের আলোকে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে সাজানো হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা একদিকে বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতাও অর্জন করতে সক্ষম হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সহযোগিতা কামনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেন ভবিষ্যতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণের বিষয়গুলো নিয়ে যৌথভাবে কাজ করতে চায় সরকার। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের সঙ্গে শিক্ষকতা-সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতি কীভাবে যুক্ত করা যায়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সংগীত, নাট্যকলা ও নৃত্যকলাকে কেবল সহশিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে নয়, বরং শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার। এজন্য কারিকুলাম উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।

সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, দেশের ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যান এবং মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিল্প ও সংস্কৃতি পাঠ্যবইয়ে চারু ও কারুকলা, সংগীত, নৃত্যকলা এবং নাট্যকলাবিষয়ক চারটি অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আর ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলামের আওতায় এসব বিষয় পূর্ণাঙ্গভাবে প্রাথমিক শিক্ষায় যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও বহুমাত্রিক দক্ষতা বিকাশের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত