ঢাকা, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

শিশু রামিসা ধ'র্ষণ ও হ'ত্যা মামলায় সোহেল-স্বপ্নার মৃ'ত্যুদণ্ড

২০২৬ জুন ০৭ ১১:৫৯:২৯

শিশু রামিসা ধ'র্ষণ ও হ'ত্যা মামলায় সোহেল-স্বপ্নার মৃ'ত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ভিকটিমের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় আসামি দুজনকে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

রায়ের পাশাপাশি সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্না খাতুনকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, এই অর্থ ভিকটিম রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীরা পাবেন। ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ না করলে আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে তা ভিকটিমের পরিবারকে দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।

সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে প্রথমে স্বপ্না খাতুনকে আদালতে আনা হয়। পরে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার আগে দুজনকেই এজলাসে তোলা হয়। বেলা ১১টার পর বিচারক রায়ের পর্যবেক্ষণ পাঠ শুরু করেন।

গত ১৯ মে পল্লবীতে ঘটে বহুল আলোচিত এই ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড। পরদিন রাতে ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা এবং মরদেহ গুমে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়।

ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। মাত্র চার দিনের মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। চার্জশিটে মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়।

মামলার বিচার কার্যক্রমও দ্রুত এগিয়ে যায়। গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ২ জুন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় এবং একই দিনে ১৮ জনের মধ্যে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন করা হয়। পরদিন আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন আসামিরা।

এরপর ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে আদালত রায়ের জন্য ৭ জুন দিন নির্ধারণ করেন। এর মধ্য দিয়ে মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে মামলাটির বিচার কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে পৌঁছায়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা বাসা থেকে বের হয়। অভিযোগ রয়েছে, স্বপ্না কৌশলে তাকে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। পরে মেয়েকে খুঁজতে গিয়ে সোহেলের ফ্ল্যাটের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান তার মা। দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে সোহেলের শয়নকক্ষ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতির ভেতর তার কাটা মাথা উদ্ধার করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্না খাতুনকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

ফের কমেছেসোনার দাম

ফের কমেছেসোনার দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের স্বর্ণপ্রেমীদের জন্য স্বস্তির খবর এসেছে। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজার পরিস্থিতির প্রভাবে আবারও সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে... বিস্তারিত